হিমালয়ের হিমবাহ গলেই যাচ্ছে. এই বিষয়ে ভারতের সংবাদপত্র টাইমস অফ ইন্ডিয়া গত কয়েক দিনে প্রকাশ করেছে. ভারতীয় সাংবাদিকদের কথা উল্লেখ করে লেখা হয়েছে যে, হিমালয়ের হিমবাহ গুলি শুকিয়ে যেতে বসেছে ও ১৯৮৯ সাল থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে গত ১৫ বছরে গড়ে চার কিলোমিটার কমে গিয়েছে, এই বিষয়ে গবেষণা করেছেন দেশের ১৪টি সংস্থার ৫০ জন বিশেষজ্ঞ. এই পরিস্থিতি আজ সারা বিশ্বেই, তাই রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সবুজ আলো নামের পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার প্রধান ভ্লাদিমির গ্রাচেভ বলেছেন:

    "হিমবাহ কমে যাওয়া নিয়ে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন প্রাক্তন উপ রাষ্ট্রপতির বই খারাপ সত্য তে ছবি দেওয়া হয়েছিল আল্পস পর্বতের একটি হোটেলের, যেখানে আজ থেকে ১০০ বছর আগে তুষার ঢাকা প্রকৃতি ছিল, আজ তার চিহ্ন মাত্রও নেই. এটা সারা বিশ্বেই ঘটছে, কারণ পৃথিবীর তাপমান বাড়ছে, আর তা ঠেকানোর উপায় নেই. জলের ভাণ্ডারের কথা ভাবলে এই পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হতে চলেছে".

    বহু কোটি লোক, চিন, ভারত, পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের নদীর জল নির্ভর, আর এই জলের বেশীটাই আসে হিমালয়ের হিমবাহ থেকে, এখন যদি হিমবাহ এই হারে গলতে থাকে, তবে প্রথমে বন্যা ও পরে খরা হতে বাধ্য, আর তার কারণে বাঁধতে পারে আঞ্চলিক যুদ্ধ, হতে পারে রক্ত ক্ষয়.

    হিমালয় থেকে নামা নদী গুলির উপরের দিকেই বাঁধ দিয়ে জল জমিয়ে রাখার কাজ আজ শুরু হয়ে    গিয়েছে. চিন অধিকৃত তিব্বতে বাঁধ দিয়ে সিন্ধ, ব্রহ্মপুত্র, শতদ্রু, মেকং, ইয়ানস্তজী, হলুদ নদীর জল নিজেদের প্রয়োজনে আটকে দিচ্ছে, তাই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডে. ভরতেও এই নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে. পাকিস্তান চাইছে চিনাও নদীর উত্স এলাকায় বাঁধ দিয়ে জল আটকাতে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে. ভারতকে বাধ্য হয়ে তাই চিনাও নদীর আরও ওপরে বাঁধের কথা ভাবতে হচ্ছে.

    এশিয়ার জন্য জল হতে চলেছে এক প্রধান সমস্যা. আসন্ন বছর গুলিতে পরিস্কার বুঝতে পারা যাবে, এশিয়াতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়বে না কি জল নিয়ে যুদ্ধ হবে, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা আজ এই কথাই ভাবতে বসেছেন.