পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের রিসেট বাটন টিপছে. দুই পক্ষই আবার করে স্ট্র্যাটেজিক আলোচনা শুরু করতে চলেছে, যা এর আগে ডেভিসের কাণ্ড ও পাকিস্তানের অ্যাবত্তাবাদে আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর হাতে ওসামা বেন লাদেন ধ্বংসের কারণে থমকে গিয়েছিল. এই বিষয়ে নতুন করে সহমতে আসা সম্ভব হয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের পররাষ্ট্র পর্ষদের প্রধান জন কেরি ও পাকিস্তানের নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা চলার সময়ে. এই বিষয়টিকে বিশদ করে তুলে ধরেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    "আমি ইসলামাবাদে এই জন্য আসি নি যে, পাকিস্তানের নেতৃত্বের কাছে ওসামা বেন লাদেনকে ধ্বংস করার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব", - বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন জন কেরি. – "আমাদের পারস্পরিক বিবাদ ভুলে একসাথে চরমপন্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে ও দুই পক্ষের সমস্যা গুলির সমাধান করতে হবে". যদিও পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব খুবই যথেচ্ছ ভাবে নষ্ট করা হয়েছে, তাও কেরি ক্ষমা চান নি, আর তাই তাকে পাকিস্তানের নেতৃত্ব কিছু দাবী জানিয়েছে. পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, এই আলোচনায় সহমতে আসা সম্ভব হয়েছে যে, পরবর্তী কালে পাকিস্তানের জমিতে মার্কিন সরকার একতরফা কোন অভিযান চালাবে না. যে কোন ধরনের আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী ধরার কাজ বা তাদের মেরে ফেলার কাজ করা হবে পাকিস্তানের নেতৃত্বকে জানিয়ে ও তাদের সঙ্গে নিয়েই.

    পাকিস্তানের সমাজ আমেরিকার লোকেদের কাজকর্ম ও বেন লাদেন মারার কাজ দেখে খুবই উত্তপ্ত, বিশেষত পাকিস্তানের বীর সামরিক বাহিনী. আমেরিকার লোকেরা তাদের স্রেফ হিসেবের মধ্যেই ধরে নি. পাকিস্তানের শক্তিমানেরা শুধু এই সীমান্ত পার হয়ে আসাকেই থামাতে অক্ষম হয় নি, তারা এমনকি আমেরিকার হেলিকপ্টার গুলিকে লক্ষ্যই করতে পারে নি. এক্ষেত্রে নিজেদের অক্ষমতার জ্বালা ও দোষের বোধ তাদের স্বাভাবিক বিরক্তি ছাপিয়ে গিয়েছে, এই কথাই মনে করে রুশ বিশেষজ্ঞ ভিয়াচেস্লাভ বেলোক্রিনিতস্কি বলেছেন:

    "পাকিস্তানের প্রশাসন ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক জগতে পরিস্থিতি সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল এই দেশের সামরিক বাহিনীর লোকেরা আবারও নিজেদের কোন গুণের পরিচয় দিতে পারে নি, তারা আমেরিকার হেলিকপ্টার গুলিই টের পায় নি, যারা কিনা পাকিস্তানের সীমান্ত পার হয়ে এতটা ভিতরে চলে আসতে পেরেছিল, তাদের বর্তমানের খ্যাতি তাই শূণ্য. তাই পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব ও সামরিক গুপ্তচর বাহিনী এখন সেই রাজনীতির পথে চলছে, যা দেশের প্রশাসন করতে বলছে ও তাই আশা করেছে আপাততঃ তাদের ঘাড় গর্দান টিকে গেল".

    কিন্তু অন্য এক ধারণাও রয়েছে. অনেক বিশেষজ্ঞই পাকিস্তানে নতুন করে রাজনৈতিক ওলট পালট হতে পারে বলেই মনে করেছেন, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাণ্ড দেখে সমাজের প্রশাসনের উপরে ঘেন্না বাড়ে. এখন পাক আফগান সীমান্তের কাছে যদি মার্কিন ড্রোন হামলা বাড়ে ও তাতে পাকিস্তানের সাধারন মানুষের মৃত্যু বাড়ে, তবে সমাজের রাগ ঘেন্না ও বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর নীচের তলার লোকেদের অনুশোচনা বিরক্তিতে পরিনত হয়, তবে দেশে একটা অরাজকতা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আসতে বাধ্য.

    যে কোন ক্ষেত্রেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাবর্তন ও পাকিস্তানের পক্ষে স্বাভাবিক সম্পর্কে ফিরতে কম পরিশ্রম করতে হবে না. জন কেরি এসেছেন – এটা প্রথম পদক্ষেপ. খুব শীঘ্রই হিলারি ক্লিন্টন তার কাজের লোকেদের বাড়ী বেড়াতে আসতে পারেন. কিন্তু এই সবই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা. আর আপাততঃ পরিস্থিতি দেখে ভাল ঠেকছে না.

0     মঙ্গলবার সকালে, জন কেরি আসার পরের দিনই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী গিয়েছেন চিনের কাছে আবার সাহায্য চাইতে. তার মধ্যেই উত্তর ওয়াজিরস্থানে আবার মার্কিন ড্রোন হামলা হয়েছে. সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী দত্তা হেল অঞ্চলে পাকিস্তানের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে কয়েকটি মার্কিন হেলিকপ্টার গুলিও করেছে. তার ফলে দুইজন সীমান্ত রক্ষী(?) আহত.