বিশ্বে প্রথম নক্ষত্র উদ্যান খোলা হতে চলেছে ২০১৩ সালে ইউনিভার্সিয়াডের সময়ে রাশিয়ার কাজান শহরের উপকণ্ঠে. এই উদ্যান এখানের মহাকাশ নক্ষত্র অবস্থান নিরুপণ কেন্দ্রের অংশ হিসাবে তৈরী হতে চলেছে. এই কেন্দ্রের নাম ভি. পি. এঙ্গেলগার্ডট মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র.

    তাতারস্থান রাজধানীর কাছেই বহুমুখী কেন্দ্র স্থাপিত হচ্ছে. এর একটি প্রধান অংশ হল মহাকাশ অবস্থান নির্ণয় কেন্দ্র – যেখানে উপগ্রহের যন্ত্রপাতির পরীক্ষা করা হবে. সেখানে বহু পৃথিবী পৃষ্ঠ ও মহাকাশের প্রকল্প যেমন, গ্লোনাসস ইত্যাদির পরিষেবা কেন্দ্র ও তৈরী হবে. কিন্তু সবচেয়ে মুখ্য হতে চলেছে যে এই কেন্দ্র বহুমুখী ও তা শুধু বিজ্ঞানীদের জন্যই নয়, বরং ছাত্র, স্কুল পড়ুয়া ও সমস্ত মহাকাশ বিজ্ঞান আগ্রহীর জন্যই তৈরী হচ্ছে, এই কথা উল্লেখ করেছেন, এঙ্গেলগার্ডট মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ডিরেক্টর ইউরি নেফেদিয়েভ.

"এই কেন্দ্রে থাকবে তারা মণ্ডল, নানা রকমের আকর্ষক খেলার মাধ্যমে শেখার জন্য আলাদা জায়গা, নানা রকমের বিষয়ের রাস্তা, মহাকাশ নৃতত্ত্ব বিদ্যা ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের ছাত্রদের হাতে কলমে শেখার জন্য জায়গা. প্রধান হল, সেখানে সবচেয়ে আধুনিক দূর বীক্ষণ যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য প্রযুক্তি".

    এই মহাকাশ উদ্যানের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের উত্সব করা হবে এই বছরের আগষ্ট মাসে. এখানে এই সময়ে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে, যা একই সঙ্গে গাগারীনের মহাকাশ ভ্রমণের পঞ্চাশ বছর ও রুশ মহাকাশ বিজ্ঞানের তাত্ত্বিক মিস্তিস্লাভ কেলদীশের জন্ম শত বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত.  তাঁদের নাম ও আরও বহু বিখ্যাত মহাকাশ বিজ্ঞানীর নাম দিয়ে "মহাকাশচারীদের নামের পায়ে হাঁটা রাস্তা" তৈরী করা হবে, যা এই উদ্যানের ভিতরেই থাকবে. এখানে অতিথিদের জন্য আরও একটি চমক থাকছে – এই প্রথম বিশ্বে নক্ষত্র খচিত আকাশকে মাটিতে নামিয়ে আনা হবে, এই কথা উল্লেখ করে পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ডিরেক্টর বলেছেন:

    "বিশেষ ধরনের প্রোজেক্টার দিয়ে নক্ষত্র খচিত আকাশের ছবি একটি আলাদা করে তৈরী করা জায়গায় প্রতিফলিত করা হবে, যেখানে দর্শকেরা এক উঁচু বারান্দায় দাঁড়িয়ে নীচে আকাশের প্রতিবিম্ব দেখতে পাবেন ও একই সঙ্গে কোনও তারা মণ্ডল বা মহাকাশের অ্যান্ড্রোমেডের কুয়াশা মণ্ডলকে মাটিতেই দেখতে পাবেন, খুবই ভাল ছবি হিসাবে, আর সঙ্গে সঙ্গেই মিলিয়ে নিতে পারবেন, যা আকাশে দেখা যাচ্ছে তার সঙ্গে. এই ধরনের প্রতিবিম্ব ও আসল আকাশকে এক সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে এই প্রথমবার".

    দুই বছর পরে এই মহাকাশ উদ্যানের নির্মাণ কাজ শেষ হবে. তা সরকারি ভাবে উদ্বোধন করার কথা হয়েছে কাজান শহরে অনুষ্ঠিতব্য ২০১৩ সালের ইউনিভার্সিয়াডের সময়ে.