রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবাহিনীর অন্তর্গত যুদ্ধ জাহাজ বিধ্বংসী বিশাল জাহাজ "অ্যাডমিরাল পানতেলেয়েভ" ও ত্রাণের গাধা বোট "ফোতি ক্রীলভ" বহু দিনের এক টহলের জন্য রওয়ানা হয়েছে.

    এই টহলের মধ্যেই সামরিক নাবিকেরা ১৮ই মে থেকে শুরু হওয়া সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক সামরিক প্রযুক্তি ও অস্ত্র প্রদর্শনী "ইমডেক্স – ২০১১" এ অংশ নেবেন. রাশিয়া ঐতিহ্য মেনেই এই প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে থাকে. তারপরে এই জাহাজ দুটি রওয়ানা দেবে ইন্দোনেশিয়ার দিকে, সেখানে ২৫ থেকে ২৭শে মে এই দেশের সামরিক নৌবাহিনীর সঙ্গে একত্রে জলদস্যূ মোকাবিলার জন্য মহড়া দেবে, এই সব কথা উল্লেখ করে "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রুশ প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবাহিনীর প্রতিনিধি ইগর মাইবরোদভ বলেছেন:

    "এই প্রশিক্ষণের জন্য তৈরী কাহিনী হল – একটি সামুদ্রিক ট্যাঙ্কার জলদস্যূ আক্রান্ত, জোটের নাবিকেরা এই জাহাজটিকে উদ্ধার করবে. আয়োজকেরা স্থির করেছেন যে, এই ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা হবে বিশেষ বাহিনীর. রাশিয়ার তরফ থেকে নৌ সেনা দলের নেতৃত্ব দেবেন সাব লেফটেন্যান্ট আন্দ্রেই ইঝোভ. এখানে মনে করিয়ে দিতে চাই যে, এই সাব লেফটেন্যান্টের নেতৃত্বেই "মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়" নামের ট্যাঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছিল গত বছরের মে মাসে সোমালির জলদস্যূদের হাত থেকে. আর বর্তমানে অভিজ্ঞ অফিসার তাঁর অভিজ্ঞতা নবীন সহকর্মীদের সঙ্গে ভাগ করবেন".

    প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবাহিনীর "মার্শাল শাপোশনিকোভ" নামের বিশাল যুদ্ধ জাহাজ বিধ্বংসী জাহাজের নৌ সেনা দলের নাবিক ও সেনারা "মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়" নামের ট্যাঙ্কার টিকে উদ্ধার করেছিল. ৮৬ হাজার টন খনিজ তেল নিয়ে এই জাহাজ লোহিত সাগর থেকে চিনে যাচ্ছিল. এই জাহাজের উপরে আক্রমণ করার সময়ে একজন রুশ নাবিকও ক্ষতিগ্রস্ত হন নি. ১০ জন জলদস্যূ ধরা পড়েছিল ও ১ জন নিহত হয়েছিল. ২০০৯ সালে "অ্যাডমিরাল পানতেলেয়েভ" আডেন উপসাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা রক্ষার কাজও করেছিল. তখন সোমালির তীরবর্তী অঞ্চলে সামরিক প্রহরার সময়ে রুশ নাবিকেরা ২৯জন জলদস্যূকে ধরে পাকিস্তান ও ইরানের সরকারের হাতে সমর্পণ করেছিল".

0    প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবাহিনীর নাবিকেরা প্রায়শঃই আন্তর্জাতিক নানা ধরনের কাজে অংশ নিয়ে থাকেন, তার মধ্যে জলদস্যূ মোকাবিলাও রয়েছে. কিছুদিন আগেই আডেন উপসাগরে কাজ করেছে এই নৌবাহিনীর আরও একটি বিশাল যুদ্ধ জাহাজ বিধ্বংসী জাহাজ "অ্যাডমিরাল ভিনোগ্রাদভ" ও দুটি সহায়তা করার জাহাজ. রুশ নৌবাহিনীর নাবিকেরা আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চলে প্রহরার সময়ে ১৪টি জাহাজের সারি পার করিয়ে দিয়েছেন – ১২০ টি বিভিন্ন দেশের অসামরিক জাহাজ এই সারি গুলিতে ছিল.