রুশ পরিবেশ বিজ্ঞানী ওলগা স্পেরানস্কায়া রাষ্ট্রসংঘ প্রদত্ত পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে "বিশ্বের রক্ষাকর্ত্রী" পুরস্কার পেয়েছেন.

    ২০০৫ সাল থেকে রাষ্ট্রসংঘের উদ্যোগে এই পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়েছে. এই পুরস্কার দেওয়ার সময় থেকে ৪৬ জন পুরস্কৃত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন – রাজনীতিবিদ, সংস্কৃতি জগতের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব এবং অবশ্যই পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা. রাশিয়ার ওলগা স্পেরানস্কায়া পেয়েছেন বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী বিষয়ের পুরস্কার, তাঁর কীটনাশক প্রসঙ্গে লড়াই এর জন্য. এই কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রসংঘের মস্কো দপ্তরের তথ্য কেন্দ্রের প্রধান আলেকজান্ডার গোরেলিক বলেছেন:

    "এখানে কথা হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী রাসায়নিক কীটনাশকের বিষয় নিয়ে, যা অংশতঃ প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের বহু স্বাধীন দেশে, মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশ গুলিতে বিগত দশক গুলি থেকে রয়ে গিয়েছে. ওলগা নিজে উদ্যোগ নিয়ে প্রায় সত্তরটি প্রকল্প চালু, চালানো ও সহায়তা করেছে এই বিষয়ে. আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, বেলোরাশিয়া, জর্জ্জিয়া, কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া, রাশিয়া, ইউক্রেন, উজবেকিস্তানে এই সমস্ত প্রকল্পগুলি বর্তমানে করা হচ্ছে ও আগেও করা হয়েছে".

    ওলগা স্পেরানস্কায়া – "ইকো – সহমত" নামের রাসায়নিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিবেশের সমস্যা ও দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন কেন্দ্রের নেতৃত্ব দিয়েছেন. তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়েছে বিশ্বে একটি অন্যতম বৃহত্ দীর্ঘস্থায়ী জৈব রাসায়নিক কীটনাশক পরিবেশ দূষণের মতো জিনিসের সঙ্গে লড়াই করার উপযুক্ত বহু শাখা সম্পন্ন সংস্থা তৈরী করার. এই কাজের জন্য ২০০৯ সালে ওলগা স্পেরানস্কায়া পেয়েছেন ইউরোপীয় গোল্ডম্যান পরিবেশ সংরক্ষণ পুরস্কার, যাকে আবার পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে নোবেল প্রাইজের সঙ্গে তুলনা করা হয়ে থাকে. সব মিলিয়ে স্পেরানস্কায়া অনেক পুরস্কারই তাঁর ঝুলিতে ভরেছেন, নিজের পরিবেশ সংরক্ষণের কাজের জন্য. আর এই বিশ্বের রক্ষাকর্ত্রী পুরস্কার আবার রাশিয়ার পরিবেশ সংরক্ষণ বিজ্ঞানের উঁচু মর্যাদাকেই তুলে ধরেছে, এই কথা উল্লেখ করে আলেকজান্ডার গোরেলিক বলেছেন:

    "বরং আমি বেশী করে আশা করবো যে, এই পুরস্কার আসলেই শুধু ওলগা স্পেরানস্কায়া ও তাঁর কাজের জন্য পুরস্কার না হয়ে বিশ্বে প্রমাণ করবে রুশ বিশেষজ্ঞদের পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ে বর্তমানের বিশ্বে বহু সমাদৃত কাজের জন্য সম্মান হিসাবে".

    রুশ বিজ্ঞানী ওলগা স্পেরানস্কায়া ছাড়া এই বছরে "বিশ্ব রক্ষা কর্তা" পুরস্কারে যাঁরা সম্মানিত হলেন তাঁদের মধ্যে মেক্সিকোর রাষ্ট্রপতি ফিলিপ কালদেরন তাঁর আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত অধিবেশনের সফল আয়োজনের জন্য, সুইজারল্যান্ডের আবিষ্কারক ও বিশ্ব পথিক লুই পামার, তাঁর পুনরুদ্ধার যোগ্য শক্তি বিষয়ে সক্রিয় কাজ ও প্রচারের জন্য ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য, বেনিনের আঞ্ঝেলিক কিঝো – স্থায়ী উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় নারীদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য এবং চিনের ব্যবসায়ী চ্ঝান ইউএ, তাঁর জ্বালানী শক্তি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ব্যবসায়িক সমাধান ও স্থায়ী উত্পাদনের ব্যবস্থার জন্য.