ইজরায়েল প্যালেস্তিনীয়দের ঘেরাওয়ের মধ্যে পড়েছে. গত কয়েক দিনে হাজারে প্যালেস্তানীয় উদ্বাস্তু সিরিয়া, লেবানন ও গাজা সেক্টর থেকে ইজরায়েলের সীমান্ত পার হয়ে ইজরায়েলের মধ্যে নিজেদের ফেলে যাওয়া বাড়ী ঘরের দিকে যেতে চেয়েছিলেন. টিউনিশিয়া, ইজিপ্ট, লিবিয়া, ইয়েমেন ও সিরিয়ার প্রচণ্ড সামাজিক ঝঞ্ঝাটের থেকে আলাদা হয়ে এবারে "রক্তাক্ত রবিবারের" ঘটনা একটি দেশের সীমান্তের মধ্যেই ঘটল.

    উত্তর ও দক্ষিণ থেকে বন্যার মত আসা প্যালেস্তিনীয়দের উপরে ইজরায়েলের সামরিক বাহিনীর গুলি বর্ষণে ২০ জন নিহত ও প্রায় ৬০০ জন আহত হয়েছেন. এই হিংসার স্ফুলিঙ্গ আবার জ্বলে উঠেছে ১৯৪৮ সালের ১৫ই মে দিনটির জয়ন্তীর দিনেই, যে দিন বহু লক্ষ আরবের জাতীয় বিপর্যয় ঘটিয়ে ইহুদী রাষ্ট্র গঠন করা হয়েছিল উপর থেকে চাপিয়ে দিয়ে.

    গোলান হাইটস অঞ্চলে যুদ্ধ লেগেছিল, সিরিয়ার কাছ থেকে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পরে ইজরায়েল দখল করেছিল এই জমি. এখানের একটি ইজরায়েল নিয়ন্ত্রিত জনপদে সিরিয়া ও প্যালেস্তাইনের পতাকা নিয়ে মিছিল কারীরা ঢুকে পড়েছিল . তাদের সিরিয়াতে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ইজরায়েলের লোকেরা চালিয়েছিল বন্দুক. লেবাননের সীমান্তে ইজরায়েলের সেনাবাহিনী গুলি বর্ষণ করেছে. তারা জোর গলায় বলছে যে, প্যালেস্তিনীয় উদ্বাস্তুরা একটি সীমান্তবর্তী গ্রামে জড় হয়ে সেখান থেকে প্রাচীর ভেঙে ঢুকে পড়তে চেয়েছিল. অর্থাত্ সেই জায়গায়, যেখানে তাদের ঐতিহাসিক মাতৃভূমি. স্ট্র্যাটেজিক বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ণ ইনস্টিটিউটের প্রাচ্য বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো বলেছেন এই সমস্ত কাজ কারবার আগে থেকেই খুব ভাল করে পরিকল্পিত ছিল:

    "এই সব কিছুকেই সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি যোগ করা যায়. সেখানে জনতার প্রতিবাদের ঢেউ ঐস্লামিক সংস্থা গুলির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত. এরা বিক্ষোভ আন্দোলনের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ. আর দেশের ভিতরে পরিস্থিতি কঠিন হলে এই ভাবেই তা দেশের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে. অন্য কথায় বলতে হলে, ঐস্লামিক দলের লোকেরা চাইছে শুধু দেশের ভিতরে নয়, বাইরেও তাদের শক্তির প্রদর্শন করতে. এখানে সম্ভবতঃ সেই সমস্ত ঐস্লামিক সংস্থাই বেশী করে কাজ করেছে, যারা প্যালেস্তিনীয় উদ্বাস্তু শিবির গুলিতে সক্রিয় প্রভাব বিস্তার করেছিল".

    আর যখন এই রকম হয়েছে, তখন বাদ দেওয়া যায় না যে, সিরিয়াতে প্রতিবাদের জোর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের গোলান হাইটস ফেরত পাওয়ার দাবীও বাড়বে ও ইজরায়েলের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধানের বিষয়ে জোর গলায় দাবীও বাড়বে, এই কথা মনে করে রুশ বিশেষজ্ঞ বলেছেন:

    "সিরিয়াতে আজ কি হচ্ছে, তা ইজরায়েল খুবই মনোযোগ দিয়ে দেখছে. যদি বাশার আসাদের প্রশাসনের পতন হয়, তবে ইজরায়েল যা আন্দাজ করতে পারে, তার মধ্যে এটা সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হবে, কারণ হামাস দলকে সমর্থন করলেও তেল আভিভ আসাদ কেই বিনা বিচারে সমর্থন করে এসেছে. সিরিয়ার সীমান্তে এই কয়েক দিন আগেও শান্তি ছিল. যদি ক্ষমতায় ঐস্লামিক দলের লোকেরা আসে অথবা চরমপন্থী সামরিক বাহিনীর লোকেরা আসে, তবে গোলান হাইটস এলাকায় উত্তেজনা বাড়বেই".

    ইজরায়েল রবিবারে দক্ষিণ থেকেও ঝঞ্ঝা গ্রস্ত হয়েছে – প্যালেস্তিনীয় ঘেরা এলাকা – গাজা সেক্টর থেকেও. বহু শত মিছিল কারী ইজরায়েলের সেনাবাহিনীর উপরে পাথর ছুঁড়ে গালি দিয়েছে, এরেজ নামের ব্লক পোস্টের কাঁটা তারের বেড়া উপরে তুলেছে. এটি ইজরায়েল ও প্যালেস্তিনীয় সেক্টর গাজা অঞ্চলের মধ্যে একমাত্র যাতায়াতের রাস্তার উপরের ঘাঁটি. জর্ডন নদীর পশ্চিম পারের প্যালেস্তিনীয় স্বয়ং শাসিত এলাকা রামাল্লা ও জেরুজালেম শহরের মধ্যের সীমান্ত ঘাঁটি অঞ্চলেও ইজরায়েলের সেনা বাহিনীর সঙ্গে লেগেছিল সংঘর্ষ.

    সের্গেই দেমিদেঙ্কো মনে করেন না যে, এই সমস্ত কাজের পেছনে ৩রা মে এক হওয়া হামাস ও ফাতহা দলের মতো নেতৃত্বদানকারী দলের লোকেরা আছে, তিনি তাই বলেছেন:

    "মনে হয় না যে হামাস ও ফাতহা দলের লোকেরা এখানে একসাথে কিছু করেছে. হামাস গাজা স্ট্রিপ অঞ্চলে কোন রকমের সাফল্য দেখাতে পারে নি. একটা বিষয় হল সব সময়ে বিরোধী পক্ষে থাকা, অন্য বিষয় হল – প্যালেস্তিনীয়দের জীবনযাত্রাকে ঠিক করা, যে বিষয়ে হামাস খুবই ফ্যাকাসে বিবর্ণ কাজ করেছে. আর মাহমুদ আব্বাস শেষ বার সমস্ত জনগনের দ্বারা নির্বাচিত হন নি, আর তাই তাঁর বিরোধীরাও খুব দুর্বল".

0     যাই হোক না কেন, বর্তমানের এই প্যালেস্তিনীয় উদ্বাস্তু দের কাজ কে তাদের ফেলে আসা জমি বাড়ী উদ্ধারের জন্য বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় আন্দোলন বলা যেতে পারে. এর অনেকটাই প্রতিবেশী ইজিপ্টে (মিশরে) রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে হয়েছে. তাদের বিগত রাষ্ট্রপতি হোসনি মুবারক ওয়াশিংটন থেকে প্রবল চাপের মুখে পড়ে ইজরায়েলের পক্ষেই মত দিয়ে যেতেন. বর্তমানে ইজরায়েলের আর কায়রোর সমর্থনও মিলছে না. আর ফাতহা ও হামাস এই সুযোগের সদ্ব্যবহারই করতে চায়, তা সেখানে যতই নিজেদের মধ্যে শান্তির বিষয়ে সমস্যা থেকে যাক না কেন. তাদের ইজরায়েলের জমি শুদ্ধু প্যালেস্তিনীয় রাষ্ট্র স্থাপনের ইচ্ছাই বর্তমানে তেল আভিভের জন্য সবচেয়ে বড় বিরক্তির কারণ.