ভারতের পশ্চিমবঙ্গ,তামিলনাড়ু,কেরালা ও আসাম অঙ্গরাজ্যে বিধান সভা নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে।অধিকাংশ এলাকার ভোটের ফলাফল ছিল আশানুরুপ।এছাড়া শুধুমাত্র ভারতেরই নয় বরং বহির্বিশ্বের পর্যবেক্ষকদের কাছেও এই নির্বাচন নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছে।

ভারতের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে বিরোধী দল বিজয়ী হয়েছে।পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস জোট নেত্রী মমতা ব্যানার্জী এবং তামিলনাড়ুতে আন্না দ্রমুক দলের নেত্রী,সাবেক রাজ্যমন্ত্রী ও অভিনেত্রী জায়ালালিতা বিজয়ী হয়েছেন।

সর্বশেষ এই আঞ্চলিক  নির্বাচনের ফলাফল যা পুরানো রাজনৈতিক দলের হাতেই নির্ভরশীল এবং আজকের দিনে ক্ষমতা রয়েছে যৌথ প্রগতিশীল দলের- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস।পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস যা জাতীয় কংগ্রেসেরই সহযোগী সংগঠন।অপরদিকে তামিলনাড়ুর পরিস্থিতি কিছুটা জটিল।গত বারের নির্বাচনে জয়াললিতা ও এআইএডিএম একসঙ্গে তৃত্বীয় শক্তি হিসাবে অংশগ্রহন করে।তবে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অনেক কিছুই ঘটতে পারে।

যদি তামিলনাড়ুতে এআইএডিএম’রই জয় হয় তাহলে সামগ্রিকভাবে এই দল ও অঙ্গরাজ্যে ক্ষমতাশীল বর্তমান দল আন্না দ্রমুক স্বভাবতই রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রীর পদের জন্য একে অপরকে পরিবর্তন করবে।সেই ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসর বিজয় যা পরিষ্কার আকাশে যেন বিদ্যুত চমকই।বলাবাহুল্য,পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকার মধ্যে এই পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘ সময় কমিউনিস্টদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল এবং তার অবসান ঘটে গনতান্ত্রিক ধারার প্রতিষ্ঠা হলে।কমিউনিস্টদের ভরাডুবির অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে,স্থানীয় প্রশাসন রাজ্যের অনেক জমি শিল্প-কলকারখানা নির্মাণ কাজে বিক্রি করেছে।এমনই মনে করছেন রাশিয়ার কৌশলগত ইন্সটিটিউটের গবেষক বরিস বালখোনস্কী.তিনি বলছেন,প্রশ্ন উঠছে যে,কিভাবে গতানুগতিক জীবনযাত্রায় থেকে একটি দেশকে আধুনিক,উন্নয়ন ও উদ্ভাবনীগত দিক থেকে এগিয়ে নেওয়া যায়?।অন্যদিকে অবিবেচকভাবে উন্নয়নের নামে তা যদি কোটি কোটি মানুষের স্বাভাবিক যাবনযাত্রাকে ব্যহত করে?।অবশ্যই উন্নয়ন থেমে থাকবে না এবং সর্বশেষ সময় ভারত দেখিয়েছে যে,উদ্ভাবনীগত ও আধুনিকায়ন ক্ষেত্রে তারা খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

আঞ্চলিক নির্বাচনের ঘটনা যা অন্যান্য ঘটনায় নতুন দৃষ্টিগোচরে নিয়ে আসছে.এইতো কয়েকেদিন আগে উত্তর প্রদেশে যেখানে ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত হয়নি সেখানে কংগ্রেসের পার্লামেন্ট সদস্য ও দলের শীর্ষনেতা রাহুল গান্ধিকে বুধবার আটক করা হয়।এর কারণ হিসাবে জানা যায় যে,তিনি স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে আন্দোলন করেছেন।ঐ কৃষকদের জমি ছেড়ে অন্যত্র সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।আর ঐ জমিতে তৈরি করা হবে মটরগাড়ি নির্মাণ কারখানা।আমরা দেখছি যে,সমস্যা হচ্ছে-উন্নয়ন অবশ্যই সামনের পথে এগিয়ে যাবে কিন্তু জনসাধারনের কথাও চিন্তা করা উচিত।

 বিধান সভার আঞ্চলিক নির্বাচনে বলা হচ্ছে,আগামী কংগ্রেসের চুড়ান্ত নির্বাচনে খুব একটা নেতিবাচক ফলাফল অপেক্ষা করছে না।সুতরাং রাহুল গান্ধির রাজনৈতিক জীবন সামনের পথে এগিয়ে যাওয়ার সব সুযোগই রয়েছে।কে জানে, নেহেরু-গান্ধি পরিবারের এই যুবক হতে পারে  ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী।

স্বভাবতই পুলিশের হাজতে কয়েক দিন কাটানো তা রাহুল গান্ধির জন্য এমন বিচলিত হওার কোন বিষয় নয়।সর্বশেষ জওহরলাল নেহেরুও একসময় ইংরেজদের দ্বারা গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং জেলখানার এই প্রতিকী পরবর্তিতে স্বাধীনতার বীজ বহন করেছিল।সুতরাং সেই ক্ষেত্রে ঐতিহ্যের এই  ধারা বহালই রয়েছে বলা যেতে পারে।