চীনের মতো রাশিয়ায় ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার পরিকল্পনা নেই. তবুও অবাঞ্ছিত চিঠি দিয়ে বিজ্ঞাপনের ব্যবহারকে ফৌজদারী আইন দিয়ে বিচার করা হতেও পারে, কারণ বর্তমানে এর থেকে ক্ষতি হচ্ছে প্রায় একশো এক চল্লিশ হাজার কোটি রুবল. এ সম্বন্ধে বলেছেন যোগাযোগ ও প্রচার মাধ্যম সংক্রান্ত মন্ত্রী ইগর শেগোলেভ. তিনি বলেন, “এ দিকে কোনো অন্য রকমের অগ্রগতি হবে না, এটি আমাদের মূল নীতি গত স্থিতি. এ দিকে কোনো কঠোরতা সাধন করতে আমরা চাই না”. শেগোলেভের কথায়, ইন্টারনেটের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ কারী আইন বিধিতে শুধু এক সারি সুনির্দিষ্ট নিয়ম আনার পরিকল্পনা আছে. মন্ত্রী বলেন, “আমরা রাষ্ট্রীয় দ্যুমার সাথে কাজ করছি “নেটওয়ার্ক মিডিয়া” পরিভাষাটি প্রবর্তনের জন্য. তা ব্যাপক প্রচার মাধ্যম হিসেবে রেজিস্টার করা ইন্টারনেট-প্রকাশনাগুলিকে ঐতিহ্য গত প্রচার মাধ্যমের মতো সুযোগ-সুবিধা পেতে সাহায্য করবে ”. মন্ত্রী বিগত বছরে “রু-নেটে” এক সারি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কথা উল্লেখ করেন. বিশেষ করে, এ হল “.РФ” ডোমেইন জোনের সাফল্য এবং রাষ্ট্রীয় সার্ভিসের একক পোর্টালের প্রবর্তন. শেগোলেভ উল্লেখ করেন যে, পরবর্তী পদক্ষেপ হওয়া উচিত নাগরিকদের আমলাদের সাথে আলাপের জন্য বিশেষ ইলেকট্রনিক ডাকের সৃষ্টি.

ইন্টারনেটের রুশ অংশকে সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষার উপায় নির্ণয়. যে বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, তার মধ্যে – নতুন বিপদ ও তার থেকে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা সংক্রান্ত জ্ঞানের বিষয়ে হাতেখড়ি, পরিসংখ্যান ও নিয়ন্ত্রণ সম্বন্ধে বিজ্ঞান, ইন্টারনেট নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন ও মূল্যবোধ. মস্কো শহরে সপ্তাহ শুরু হচ্ছে বেআইনি বিষয়ের ইন্টারনেটে প্রসার রোধ করা নিয়ে এক গোল টেবিল বৈঠক দিয়ে.

ইন্টারনেট, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিট্যাল সম্প্রচারে পরিবর্তন এই সব মূল বিষয় নিয়েই মস্কো শহরে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সংক্রান্ত পরামর্শ সভাতে আলোচনা  করছে. ২০০৯ সালে তৈরী হওয়া রাষ্ট্রপতিদের কমিশনের আওতায় এই পরামর্শ সভা আয়োজন করা হয়েছে আর তা মস্কো শহরে শুরু হওয়া যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে প্রদর্শনীর উপলক্ষে করা.

    সাইবার অপরাধীরা ঘুমিয়ে নেই, আর তাদের আক্রমণ বিশ্ব জোড়া ইন্টারনেটের জালে পৃথিবীর নানা দেশ থেকেই ক্রমাগত হয়ে চলেছে, চীন, ফ্রান্স, ইজরায়েল, কোরিয়া সব দেশ থেকেই. অংশতঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একাধিক বার ঘোষণা করেছে যে, তাদের কাছে দেশের কম্পিউটার ব্যবস্থাকে বিদেশী আক্রমণ থেকে রক্ষা করার মত সুস্পষ্ট পরিকল্পিত ব্যবস্থা রয়েছে. আগামী পাঁচ বছরে এই কারণে সফট ওয়্যার তৈরী করার জন্য বিশাল পরিমানে অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে.

    রাশিয়াতে কম্পিউটার বিপদের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য যথেষ্ট সাফল্যের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের  বিশেষ কা নামের দপ্তর কাজ করছে, যারা রাশিয়ার .ru ডোমেইনে বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিন জালিয়াতির বিরোধ করছে. রাশিয়ার তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ দের মতে আন্তর্জাতিক ভাবে এক সঙ্গে কাজ করা সম্ভব হলে প্রতিটি দেশের চেষ্টায় ইন্টারনেটে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা অনেক বেশী সফল ভাবে সম্ভব হবে.

    রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে উন্নতি নিয়ে এই পরামর্শ সভা সম্ভবতঃ আগামী জুন মাসের শেষে রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে একটি বিশেষ প্রচেষ্টা মাত্র, এই ধারণা নিয়ে তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ইউরি মারিয়েঙ্কো: বলেছেন:

    "জানা আছে যে, বারাক ওবামা দিমিত্রি মেদভেদেভ কে নিমন্ত্রণ করেছেন সিলিকন ভ্যালি সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য. যাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দেখতে পারেন, কি করে সেখানে প্রকল্পের উন্নতি করা হয়, কি করে উদ্ভাবনী প্রযুক্তিকে ব্যবহারিক কাজে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে লাগানো হয়. যাতে রাশিয়ার ভবিষ্যতের "স্কোলকোভা" শহরের প্রযুক্তি উদ্যান সত্যই কাজের উপযুক্ত হয়".

    ২০১৫ সালে মস্কোর উপকন্ঠে স্কোলকোভা তৈরী হয়ে যাবে, সেখানে প্রায় চল্লিশ হাজার বিজ্ঞানী কাজ করবেন উচ্চ প্রযুক্তি নিয়ে, যেখানে তথ্য প্রযুক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, তথ্য নিরাপত্তা, জ্বালানী ও বিদ্যুত শক্তি বিষয়ক কাজ ও হবে. ইন্টারনেটের জনক হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা শুধুমাত্র ভবিষ্যতেই প্রয়োজনীয় হবে না, বরং এখনই কাজে লাগবে, কারণ ইন্টারনেটে সাইবার আক্রমণ এক ভয়ঙ্কর চরিত্র নিয়েছে, আর এর সঙ্গে যুদ্ধের প্রয়োজন আছে, সকলের শক্তি এক করেই, তাই মারিয়েঙ্কো বলেছেন:

    "বিগত কিছু কাল ধরে সাইবার আক্রমণ খুব বেড়েছে, তাই খুব ভাল হয়েছে যে, এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা এখন পরামর্শ করছেন কি করে আন্তর্জাতিক ভাবে শক্তি একত্র করে তাকে আটকানো যায়, বর্তমানে অনেক রকম উপায় আছে, কি করে এটা করা হবে, আর তার ফল কি হবে. এখনই যদি আমাদের দেশ গুলি নিজেদের শক্তি একত্র না করে তবে এই আশঙ্কার পরিধি আরও বাড়বে".

    রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিন দিন ব্যাপী পরামর্শ সভা, যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও তথ্য বিনিময়ের প্রধান কোঅর্ডিনেটর ফিলিপ ভেরভির অংশ নিচ্ছেন, তা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পুনরুজ্জীবনের জন্য নানা বিষয়ের একটি অধ্যায় হতেই পারে, শুধু এই বারে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে হয়েছে বলে মারিয়েঙ্কো মনে করেছেন.