রাশিয়া যে এই সমর্থন করেছে, তা বলা হয়েছে মস্কো শহরে গতকাল দুই দেশের রাষ্ট্রপতির আলোচনার পরে যৌথ বিবৃতিতে. বিষয়টি বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    পাকিস্তানের এই মনোভাবে রাশিয়া সমর্থন জানায় – এই কথা যদি চাঞ্চল্যকর নাও বলা যায়, তবে লক্ষ্যনীয় বলা ঠিক হবে. বহুদিন ধরেই নানা বিশ্লেষকেরা মন্তব্য করছিলেন যে, রাশিয়া এই প্রশ্নে ভারতকে সমর্থন করবে ও চিন পাকিস্তানকে. কিন্তু আমরা  এখন দেখতে পাচ্ছি যে, তাঁরা ভুল করছিলেন. রাশিয়া পাকিস্তান ও ভারত দুই দেশকেই সমর্থন করতে তৈরী. চিন ও অন্যান্য সংস্থার সদস্য দেশ এই পদক্ষেপ নেবে কিনা, তা ভবিষ্যতই বলে দেবে.

    সম্ভবতঃ সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার আসন্ন প্রসার হতে পারে, ইরান, ভারত, পাকিস্তান ও মঙ্গোলিয়া এই সংস্থার পর্যবেক্ষক দেশ হিসাবে রয়েছে বর্তমানে, তাই মনে হয়েছে যে এদের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তান শীঘ্রই সংস্থার সদস্যে পরিনত হতে পারে, আর তা হতে পারে এই বছরের জুন মাসে কাজাখস্থানের আলমা আতা শহরের শীর্ষ বৈঠকের সময়েই.

    কিন্তু সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা কেন পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের জন্য এত আগ্রহের হতে যাবে ও কেন রাশিয়া এই পর্যবেক্ষকদের দেশ গুলিকে সদস্য হওয়ার বিষয়ে সমর্থন করছে? এই প্রশ্নের উত্তরে প্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ও পাকিস্তান সম্বন্ধে বিশারদ নাতালিয়া জামারায়েভা বলেছেন:

    "সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মধ্যে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি ঘটিয়ে সংস্থার প্রসার বৃদ্ধি করার অর্থ হল ক্রেমলিনের এশিয়ার দিকে রাজনীতিতে দিক পরিবর্তনের লক্ষণ. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় পাকিস্তানের প্রবেশ যেমন রাজনৈতিক দিক থেকে, তেমনই মানবিক দিক থেকেও প্রয়োজন. এই সংস্থা সামরিক সহযোগিতা লক্ষ্য করে নি, সেখানে বেশী আগ্রহের হল বাণিজ্য ও ব্যবসার বৃদ্ধি, আর তার প্রধান কাজ হল সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা ও প্রাকৃতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে পারস্পরিক সাহায্য. ইসলামাবাদের পক্ষে আজ মস্কোর সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন, যেখানে ঘরোয়া রাজনৈতিক কোন্দলে দেশে সমস্যা খালি বেড়েই চলেছে, পরিস্থিতি অস্থিতিশীল, অর্থনৈতিক সঙ্কটের ফলে সন্ত্রাসবাদ মাথা চাড়া দিয়েছে. আর আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রসারেই দেশের উন্নতিকে অগ্রগামী করা সম্ভব হয়".

     বর্তমানে আলমা আতা শহরে পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলির বৈঠক চলছে, যেখানে আগামী জয়ন্তী উপলক্ষে শীর্ষবৈঠকের আলোচ্য বিষয়ের ঠিক করা হচ্ছে. মন্ত্রীরা এক সারি দলিল তৈরী করছেন, যা এই বৈঠকে স্বাক্ষরিত হবে, যার মধ্যে সংস্থার প্রসার সম্পর্কিত দলিলও রয়েছে. এখানে কথা হচ্ছে নতুন সদস্য নেওয়ার পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নিয়ে, আর তার সঙ্গে সদস্য পাওয়ার জন্য প্রার্থী দেশের পক্ষ থেকে বাধ্যতা মূলক ঘোষণার বয়ান নিয়ে. এই ভাবে নতুন সদস্য নেওয়ার প্রক্রিয়া বিষয়ে শেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে. এর পরে সংস্থার প্রসারের বিষয়ে আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া নিষেধ প্রত্যাহার করা হবে.

    এই মুহূর্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে অধীর আগ্রহ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানেও. দুই দেশই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় যোগ দেওয়ার জন্য নিজেদের তরফ থেকে আবেদন জমা দিয়েছে. একই ধরনের অনুরোধ করেছে ইরান. কিন্তু এই দেশ বর্তমানে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা ভুক্ত হওয়ার ফলে, সংস্থার নতুন সদস্য দেশ হিসাবে তাকে নেওয়া যাচ্ছে না, নিয়মের কারণে.