আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বর্তমানের প্রধান ডোমিনিক স্ত্রস কানের নেতৃত্বে পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যমের ভাষায় একেবারেই নতুন নীতির জন্মের পথে মোড় ফিরিয়েছে, কারণ বর্তমানের অর্থনৈতিক বাস্তব বুঝতে বাধ্য করেছে যে, একেবারে বল্গা হীণ বিনিয়োগ নীতি, যা সঙ্কট পূর্ব সময়ে সারা বিশ্বে মনে করা হয়েছিল গণতন্ত্র প্রসারের অন্যতম অস্ত্র তা একেবারেই অসফল. ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং পূর্বাভাস পাওয়া সেই ব্যবস্থায় একেবারেই সম্ভব ছিল না.

    ১৯৯৭ সালে মুদ্রা তহবিলের পক্ষ থেকে দেশ গুলিকে আহ্বান করা হয়েছিল নিয়ন্ত্রণ বিহীণ বিনিয়োগের বন্দোবস্ত করে দিতে, আর তার পরেই দেখতে পাওয়া গিয়েছিল দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে শেয়ার বাজারে ধ্বস, তার পরেও বিশ্বের শিক্ষা নিতে ইচ্ছা হয় নি, তাই খুবই জঘন্য ভাবে একই বাড়ীকে সাতবার করে বাঁধা রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাঙ্ক গুলি বিশ্বকে উপহার দিয়েছে অর্থনৈতিক সঙ্কট, যার ফল এখনও প্রত্যেকেই বোধ করছেন.

জানা আছে যে, জোর যার মুলুক তার, ও পয়সা যে দেয় তার কথাতেই নাচ হয়, কিন্তু এতদিনে বোধহয় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কর্তাদের মাথায় ঢুকেছে যে, নিয়ন্ত্রণ বিহীণ অর্থের গতিবিধি যেমন, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিতে অবাধ ভাবে ঢুকে অপ্রয়োজনীয় মূল্য বৃদ্ধি ও অতি উত্তপ্ত অর্থনীতির সৃষ্টি করেছে, তেমনই ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে বিনিয়োগের পরিমান কমে গিয়ে বাজার শুকাতে বসেছে. তাই ইউরোপ ও আমেরিকার ব্যাঙ্কেরা এখন নিয়ন্ত্রণ চাই বলে দাবী করেছেন, তার উপরে বহু দিন ধরেই বলে আসছেন বিনিয়োগ বিষয়ে আলাদা করে কর প্রয়োগ করার.

 রাশিয়ার হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের বিশেষজ্ঞ পাভেল কুদ্যুকিন এই বিষয়ে অবশ্য কোন পরিস্কার ধারণার কথা বলতে পারেন নি. তিনি বলেছেন:

"আমি মনে করি কখনও মুক্ত অবাধ, কখনও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন রয়েছে, এটা সময়ের সঙ্গেই পাল্টায়, কোন নির্দিষ্ট নিয়মে চলে না, তবে শেষ সঙ্কট বুঝিয়ে দিয়েছে যে, আপাততঃ মুক্ত বিনিয়োগের পথ বন্ধ করার প্রয়োজন আছে, তা না হলে ইউরোপ ও আমেরিকার হাল খারাপ হবে, গত শতকের সত্তরের দশক থেকে নিজেদের মত সারা বিশ্বে ছড়িয়ে বর্তমানে তার উল্টোটাই বলতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে. ঐতিহ্য অনুযায়ী যে সমস্ত পথের কথা অর্থনীতিবিদেরা জানতেন, তা কাজে লাগছে না আর নতুন কোন পথ এখনও সৃষ্টি হয় নি".

অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য এবারে বিশেষজ্ঞদের নতুন পথের সন্ধান করতে হবে, তা না হলে এই বিশ্বায়নের যুগে অর্থকে নিয়ন্ত্রণ করতে যাওয়াই নিরর্থক হয়ে দাঁড়াবে. অবশেষে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীরা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে, সামাজিক খাতে খরচ কোন ব্যয় নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী উন্নতির জন্য বিনিয়োগ. আর এটাই হল নতুন ধারণার মূল কথা.