ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ আফগানিস্তান সফরে গিয়েছেন. এই সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল খুবই খুঁটিয়ে, যদিও আজ অবধি এর সঠিক দিন কবে তা জানা ছিল না. দিল্লী সরকারি ভাবে এই সফরের দিন নিরাপত্তার কারণে ঘোষণা করে নি. বসন্ত আসার সাথেই তালিবেরা তাদের সক্রিয়তা বাড়িয়েছে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন গিওর্গি ভানেত্সভ.

    ডঃ মনমোহন সিংহ ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর আফগানিস্তান সফর দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের নিয়মিত যোগাযোগ রাখার ঐতিহ্যকে চালু রেখেছে. আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই এই বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে ভারতে এসেছিলেন, আর জানুয়ারী মাসে কাবুল গিয়েছিলেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস. এম. কৃষ্ণ.

    দিল্লী কাবুলকে সবচেয়ে বড় মাপের সাহায্য করে চলেছে. গত কিছু বছরে ভারত দক্ষিণ এশিয়ার এক অন্যতম বড় ঋণ দাতা দেশ হয়েছে আফগানিস্তানের জন্য, যারা তাদের দেড় বিলিয়ন ডলারের বেশী দিয়েছে. দেশে চার হাজার ভারতীয় বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন, যারা রাস্তার পুনরুদ্ধার, বসত ও প্রশাসনিক ভবন পুনরুদ্ধার ও তার সঙ্গে আফগানিস্তানের লোকসভার ভবন টি পুনর্নির্মাণ করে দিচ্ছেন. ভারতের ডাক্তারেরা আফগানিস্তানের সর্বত্র স্থানীয় লোকেদের বিনা পয়সায় হাসপাতালে চিকিত্সা করছেন.

    পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারতের এই সক্রিয়তা বৃদ্ধিতে সন্দেহ হয়েছে, যারা আফগানিস্তান দেশকে ভাবে নিজেদের স্বাভাবিক ভাবেই সাথী দেশ হিসাবে. ভারতের সংবাদ পত্রে একাধিকবার লেখা হয়েছে যে, আফগানিস্তানে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে এই দেশে ভারতের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব না হয়, তাই এই বিষয়ে রুশ রাজনীতিবিদ আঝদার কুরতভ বলেছেন:

    "দক্ষিণ এশিয়ার ভূ রাজনৈতিক দিক থেকে দেখতে গেলে ভারতের পক্ষে খুবই ভাল হয় যদি আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের রাজনীতিবিদেরা কোন একটা ঐস্লামিক মঞ্চে খাড়া না হলে. এই ধরনের জোট, দিল্লী মনে করে অবশ্যই ভারতের বিরুদ্ধে হবে, কারণ কাশ্মীর নিয়ে দিল্লী ও ইসলামাবাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে এলাকা বিষয়ে. তাছাড়া আফগানিস্তানে চরমপন্থী ঐস্লামিক তালিব বা সে রকমের কোন দলের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন হলে তা ভারতের জন্য ভাল নয়. এটা শুধু ভারতের সীমান্তেই সমস্যা সৃষ্টি করবে না, দেশের ভিতরেও বিরোধ বৃদ্ধি করবে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে".

    ইসলামাবাদ ও দিল্লীর মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক না থাকায় বহু বড় প্রকল্প করা যাচ্ছে না, যা এই অঞ্চলের সমস্ত দেশের পক্ষেই ভাল হত. ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক ভাল হলে শুধু এই তিন দেশের উন্নতিই নয়, বরং তাদের পক্ষে এক সাথে কাস্পিয়ান সাগর এলাকার বিশাল জ্বালানী শক্তি ভাণ্ডারেও প্রবেশের পথ তৈরী হত. কারণ আফগানিস্তান থেকেই তুর্কমেনিয়া ও সম্ভবতঃ ইরানের গ্যাস ভারতে যেতে পারে.

0     ভারত ও পাকিস্তান এই ক্ষেত্রে খুবই ঘনিষ্ঠ ভাবে সহযোগিতা করতে পারত, আর ভারত পাকিস্তানের সম্পর্ক ভাল হলে, তা আফগানিস্তানের পরিস্থিতি ভাল করতেও সাহায্য করত.