সিরিয়ার ঘটনা সম্বন্ধে পশ্চিমের রাজনৈতিক ক্ষমতা শালীদের মধ্যে নানা রকমের মত রয়ে গিয়েছে. এই কথা ইউরোপীয় সংঘের পররাষ্ট্র বিষয়ে প্রধান ক্যাথরিন অ্যাস্টন বাস্তবে স্বীকার করেছেন ও তিনি সংঘের পক্ষ থেকে সিরিয়ার প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে যে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে মনে করেছেন, তেমনই বলেছেন যে, ইউরোপের থেকে এই দিকে কোন দ্রুত পদক্ষেপ আশা করা যেতে পারে না.

    "২৭টি দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সকলের মত পাল্টানো সোজা কাজ নয়, আর এই বিষয়ে নানা রকমের মত যে রয়েছে, তা অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়". ওয়াশিংটন থেকেও সিরিয়া নিয়ে নানা ধরনের মত প্রকাশ করা হচ্ছে, আর সব দিক বিচার করে মনে হয়েছে যে, নানা ধরনের প্রভাবের মধ্যে লড়াই চলছে. আর আপাততঃ ইউরোপ ও আমেরিকাতে খুব অল্প সংখ্যক রাজনৈতিক নেতাই সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আল- আসাদের বিরুদ্ধে যারা রয়েছেন, তাদের মত মেনে নিতে তৈরী. কোথা থেকে এই ধরনের দোলায় মান অবস্থা – কারণ লিবিয়ার ক্ষেত্রে তো পশ্চিমের অবস্থান ছিল একেবারেই অন্য ধরনের?

    এই প্রশ্নের উত্তরে রাশিয়ার প্রাচ্য বিশারদ প্রফেসর ভ্লাদিমির সাঝিন বলেছেন:

    "ইউরোপীয় সংঘ এর মধ্যেই দেখানোর জন্য নিষেধাজ্ঞা জারী করে বসেছে. অস্ত্র পাঠানো, সরকারি কর্মচারীদের প্রবেশ নিষেধ. কিন্তু এই সবই হল প্রতীকী বিষয়. কারণ সিরিয়া এই অঞ্চলের জন্য খুবই জরুরী দেশ, সিরিয়াতেই সমাধান সূত্র খোঁজা হচ্ছে নিকট প্রাচ্য সঙ্কটের, তার মধ্যে প্যালেস্তানীয় – ইজরায়েল সঙ্কট, লেবাননের সমস্যা, হেজবোল্লা ও হামাস দলের সম্পর্ক, কুর্দিস্থানের প্রশ্ন, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক. বহু দেশের স্বার্থই সিরিয়াতে নিবদ্ধ". তাই এই দেশের প্রতি গুরুত্বও দেওয়া হয়েছে বেশী – আর তা লিবিয়ার থেকে অনেক বেশী. বাশার আসাদের শাসনের পতন ঘটলে, সেটা তার প্রতি যে রকমের ধারণাই পোষণ করা হোক না কেন, ভ্লাদিমির সাঝিনের মতে নিকট প্রাচ্যে তার ফল খুবই বিপর্যয়ের হতে পারে. আর তা কেমন – কেউ জানে না.

    সিরিয়া সম্বন্ধে নিজের মত রেডিও রাশিয়া সাথে ভাগ করেছেন রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের ভাইস ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইসায়েভ, তিনি বলেছেন:

    "যদি সিরিয়াতে আরও বেশী গুরুত্বপূর্ণ গণ্ডগোল শুরু হয়, আর দেশ লিবিয়ার পথ নেয়, তবে এর মানে হবে যে সমস্ত নিকট প্রাচ্যের রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ছে, আর তা উদ্ধার করা খুবই কঠিন হবে. লিবিয়ার লোকেরা আমাকে যেন ক্ষমা করেন, কিন্তু লিবিয়া হল এই অঞ্চলের প্রান্তিক দেশ, আর একই সময়ে সিরিয়া এই সমস্যায় শতকরা একশো ভাগ জড়িত. সিরিয়াকে ছাড়া এই সমস্যা সমাধান অসম্ভব". আমাদের আগে এই দেশকে পুনরুদ্ধার করতে হবে, তারপরে আবার করে নিকট প্রাচ্যের সমস্যার সমাধান প্রক্রিয়া চালু করতে হবে. কিন্তু এখানে প্রশ্ন আসে, কি পরিস্থিতিতে? কারণ দামাস্কাস শহরে যদি বর্তমানের প্রশাসনের পতন হয়, তবে কে ক্ষমতায় আসবে, তা অনুমান সম্ভব নয়.

    "আসাদের পতনের পরে সিরিয়ার প্রশাসনের সম্বন্ধে কোন রকমের ধারণা না থাকায়, বেশীর ভাগ দেশই এই দেশে প্রশাসনের বদল নিয়ে আগ্রহী নয়. চরমপন্থী ঐস্লামিক দলের লোকেরা কি সিরিয়াতে ক্ষমতায় আসতে পারে না? তখন সব মিলিয়ে নিকট প্রাচ্যের কাঠামোই পাল্টে যেতে পারে". কারণ বাশার আসাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে ঠাণ্ডা সম্পর্ক অথবা ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা স্বত্ত্বেও সিরিয়ার রাষ্ট্রপতির পক্ষে সম্ভব হয়েছিল এক রকমের রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করার. তা ধ্বংস হলে একেবারেই অ কহতব্য পরিস্থিতি তৈরী হতে পারে.

    নিজের পক্ষ থেকে ভ্লাদিমির ইসায়েভ মনে করেছেন যে, সিরিয়ার প্রশাসনের এই পরিস্থিতি থেকে বিজয়ী হয়ে বের হওয়ার খুব একটা খারাপ সম্ভাবনা নেই, তাই বলেছেন:

    "আমি বিশ্বাস করি না যে, আগামী ২ – ৩ মাসের মধ্যে আসাদের প্রশাসন ভেঙে পড়বে, এখনও সেনা বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী তাঁর পক্ষে রয়েছে, যারা খুবই কঠোর ভাবে এই বিরোধ দমন করছে, তার পতনের আশঙ্কা নেই. তবুও যদি তা ঘটে, তবে সমস্ত দেশেরই যাদের স্বার্থ এখানে জড়িত, তাদের উদ্বিগ্ন হতে হবে. আর শুধু বন্ধুদেরই নয়, এমনকি বিরোধী দেরও. কারণ ইজরায়েলের জন্য খুবই উদ্বেগের সময় চালু হবে, কারণ পরিস্কার নয়, কেমন হবে নতুন নেতারা, যারা আসাদের পরে আসবেন ক্ষমতায়". আর এখন পর্যন্ত ইজরায়েল – সিরিয়ার অগ্নি বর্ষণের রেখা ইজরায়েলের জন্য নিরাপদই ছিল. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেও আসাদের বদলে আসা নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম. কারণ এই দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষের শক্তি সব সময়েই খুব দুর্বল ছিল. অবশ্যই চরমপন্থী সুন্নী মুসলমানেরা ক্ষমতায় এলে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সান্তনা দিতে পারবে যে, সিরিয়া ও ইরানের সম্পর্ক এবারে খারাপ হবে – কিন্তু এটা হবে খুবই খারাপ সান্তনা.

    অর্থাত্ সিরিয়াতে দ্রুত প্রশাসন পাল্টে গেলে এই অঞ্চলে রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে ও পরে কি হতে পারে তা কেউ জানে না, তাই এটা কারো দরকার নেই, একমাত্র চরমপন্থী লোকেরা ছাড়া. কিন্তু তাদের দৃষ্টিকোণ বর্তমানে প্রধান হয়ে উঠতে পারে নি.