১১ থেকে ১৪ই মে অবধি রাশিয়াতে সরকারি সফরে আসছেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারী. কাল তিনি মস্কো শহরে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে দেখা করবেন. তাঁর সফরের পরিকল্পনায় রয়েছে রুশ ব্যবসায়ী সমাজের সামনে স্কোলকোভো উদ্ভাবনী কেন্দ্রে বক্তৃতা, রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ ভ্রমণ.

    ২০০৮ সালে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর অভিষিক্ত হওয়ার পর থেকে এটি তাঁর পঞ্চম সাক্ষাত্কার দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে. রাষ্ট্রপতি দ্বয়ের আলোচনার উপযুক্ত বিষয়ও রয়েছে. মার্কিন বিশেষ বাহিনীর পাকিস্তানে ওসামা বেন লাদেন কে হত্যা করার পরে এই অঞ্চলে নতুন করে সন্ত্রাসবাদী হানার সম্ভাবনা রয়েছে. আমেরিকার সামরিক বাহিনীর বিনা অনুমতিতে দেশের ভিতরে হানা দেওয়ার ফলে আরও বেশী করে আমেরিকা- পাকিস্তানের বিবাদ তীব্র হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে রুশ রাজনীতিবিদ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ বলেছেন:

    "ইসলামাবাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বন্ধনকে আর শক্ত বলে দেখছে না, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের বিশ্বাসের অভাবও প্রকট, যারা এক দিক থেকে তাদের সাহায্য করছে, আর অন্য দিক থেকে পাকিস্তান অনেক বেশী সময় ধরে তার অপেক্ষা করে রয়েছে, তাও সম্পূর্ণ ভাবে পাচ্ছে না. বর্তমানে ইসলামাবাদ শুরু করেছে এই সাহায্যের যথার্থ মূল্যায়ণ করতে, আর সেই রাজনীতি, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে করছে, তাও লক্ষ্য করছে. তাই চেষ্টা করছে নিজেদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে বহুমুখী করতে, তাদের বহু দিনের সঙ্গী রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার দেশ গুলির সঙ্গে সম্পর্কের জন্য হাত বাড়িয়েছে".

    রাশিয়া এই দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির সঙ্গে কার্যকরী সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে আগ্রহী. অংশতঃ, অর্থনীতির ক্ষেত্রে বড় ঘটনা হতে চলেছে আসন্ন আলোচনায় পাকিস্তানকে রুশ ঋণ দান প্রায় ৪৫ কোটি ডলার মূল্যের, যা দিয়ে রুশ ভারী শিল্প রপ্তানী কোম্পানী "তিয়াঝপ্রমএকস্পোর্ট", "পাক স্টীল" কোম্পানীর ইস্পাত কারখানার আধুনিকীকরণ করে দেবে, যা এক সময়ে সোভিয়েত দেশই পাকিস্তানে বানিয়ে দিয়েছিল. এই কারখানার প্রকল্প অনুযায়ী ইস্পাত উত্পাদন ক্ষমতা – বছরে ১০ লক্ষ টন, কিন্তু বর্তমানে সেখানে উত্পাদিত হয়ে থাকে তার একের তিন ভাগ. এই কারখানার পুনর্গঠন করা দরকার. এই সফরে পরিকল্পনা হয়েছে অসামরিক বিমান পরিবহন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কৃষি ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্যও চুক্তি করার.

    আশা করা হচ্ছে যে, দুই পক্ষই বহু দেশীয় তুর্কমেনিয়া থেকে আফগানিস্থান – পাকিস্তান হয়ে গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে পাকিস্তান ও রাশিয়ার সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবে. এই দানবীয় গ্যাস সেতুর দৈর্ঘ্য দেড় হাজার কিলোমিটারের বেশী, আর তা দিয়ে বছরে সরবরাহ হতে পারবে প্রায় ৩০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস. রাশিয়া একই সঙ্গে দুটি আঞ্চলিক পরিকাঠামো প্রকল্পতেও যোগ দেওয়ার বিষয়ে রাজী হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে দুটি নতুন পথ তৈরী করার বিষয়ে – একটি জ্বালানী শক্তি বিষয়ে ও অন্যটি পরিবহন কাঠামো বিষয়ে – মধ্য এশিয়া থেকে আফগানিস্থান হয়ে পাকিস্তান. একটি প্রকল্প – বিদ্যুত পরিবাহী পথ – "মধ্য এশিয়া থেকে – দক্ষিণ এশিয়া" – এর অর্থ হল কিরগিজিয়া ও তাজিকিস্থান থেকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে বিদ্যুত সরবরাহ. রাশিয়া তৈরী আছে দুটি মধ্য এশিয়ার দেশে দুটি জল বিদ্যুত প্রকল্প তৈরী করে দিতে, যা এই প্রকল্পের জন্য বিদ্যুতের যোগান দেবে. দ্বিতীয় প্রকল্প – এটা তাজিকিস্থান থেকে সড়ক ও রেল পথ আফগানিস্তানের উত্তর পূর্বে ওয়াখান পাস হয়ে পাকিস্তান, এই নতুন করে জন্ম নেওয়া "রেশমী পথ" স্ট্র্যাটেজিক ভাবে প্রকল্পে অংশ নেওয়া দেশ গুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে. পাকিস্তান মধ্য এশিয়া ও রাশিয়ার বাজারে সোজা পৌঁছনোর পথ পাবে, আর তাজিকিস্থান ও রাশিয়া পাবে পাকিস্তানের বন্দর গুলিতে যাওয়ার পথ. অংশতঃ, রাশিয়াতে এই সফরে আগে রাষ্ট্রপতি জারদারী রাশিয়াকে ইতিমধ্যেই এই দক্ষিণ সমুদ্রে পৌঁছনোর পথ ব্যবহার করতে আহ্বান করেছেন, যা পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির কথায়, দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির পক্ষে সহায়ক হবে.