২০০৯ সালে বিশ্বের অন্যান্য সব দেশের মধ্যে রাশিয়া প্রতিরক্ষা বিষয়ে তিন হাজার আটশো কোটি ডলারের সমান ব্যয় করেছিল. এই তথ্য দিয়েছে বিশ্ব অস্ত্র বিক্রয় বিশ্লেষণ কেন্দ্র. এটা বিশ্বে সপ্তম বড় ব্যয় ও তার অর্থ হল যে, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় সামরিক খাতে খরচের পরিমান যথেষ্ট বেশী মনোযোগ দিয়ে বৃদ্ধি করা হয়েছে, কারণ আগে রাশিয়া ছিল একাদশ স্থানে.

    সর্বাধিক প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যারা এ সামরিক লক্ষ্যে ব্যয় করেছিল ৫৭ হাজার চারশো কোটি ডলার. দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চিন, যারা ব্যয় করেছিল সাত হাজার কোটি ডলার ও তৃতীয় স্থানে গ্রেট ব্রিটেন পাঁচ হাজার নয় শো কোটি ডলার. গত কয়েক বছরের তুলনায় বর্তমানে রাশিয়ার সামরিক বাজেট বরাদ্দ বেশী, আর সামরিক শিল্পের প্রয়োজনে অর্থ বরাদ্দ পৌঁছেছে বেশী করেই, এই কথা উল্লেখ করে "নিজাভিসিমায়া গাজেতা" সংবাদ পত্রের সামরিক পর্যবেক্ষক ভ্লাদিমির মুখিন বলেছেন:

    "রাশিয়াতে প্রতিরক্ষা বরাদ্দ দেশের সার্বিক জাতীয় আয়ের প্রায় তিন শতাংশ. এই বছরে বাজেটে তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে. এই পরিমান অর্থ, অবশ্যই সামরিক বাহিনী যাতে সমস্যাহীণ ভাবে থাকতে পারে, তার প্রয়োজনের তুলনায় কম. জানুয়ারী মাস থেকে সামরিক বাহিনীর লোকেদের মাইনে বাড়বে গড়ে তিন গুণ, অবসর ভাতাও বাড়বে. এই সব কিছুকেই সামরিক বাজেটে ধরা হয়ে থাকে. এই সমস্ত ব্যয় বাড়ানো দরকার কারণ, যাতে সামরিক ক্ষেত্রে কর্মীদের সামাজিক অবস্থান অন্যন্য দেশের গড় অবস্থানের সঙ্গে সমান করা সম্ভব হয়. এই ভাবে, রাশিয়াতে সামরিক ক্ষেত্রে ব্যয়ের পরিমান বেড়ে হবে সার্বিক জাতীয় আয়ের প্রায় ৪ শতাংশ. তুলনার জন্য: চিনের সামরিক ব্যয়ের পরিমান সার্বিক জাতীয় আয়ের ৩, ৭ শতাংশ, আমেরিকায় – সাড়ে তিন শতাংশ".

    রুশ সেনা বাহিনীর প্রযুক্তি গত সম্ভার সম্বন্ধে বলা যেতে পারে যে, তা বর্তমানে নতুন অস্ত্রের সম্ভার সব মিলিয়ে অস্ত্র সম্ভারের ১৫ – ২০ শতাংশ. কয়েক বছর পরে তা বেড়ে হবে শতকরা ৭০ শতাংশ. কিছু দিন আগে গৃহীত নতুন দীর্ঘস্থায়ী সরকারি পরিকল্পনায় সামরিক ক্ষেত্রে ব্যয়ের পরিমান প্রায় দশ বছরের জন্য ২০ লক্ষ কোটি রুবল স্থির করা হয়েছে – যা প্রায় ৭০ হাজার কোটি ডলার অর্থ. এটা অনেক না কম? সবই তুলনামূলক, উল্লেখ করেছেন ভ্লাদিমির মুখিন, তিনি বলেছেন:

    "আমাদের দেশে সামরিক অস্ত্র সম্ভারের দাম নিয়মিত বেড়েই চলেছে, আর এটা সমস্যা. যদি রাশিয়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগ দেয়, তবে সমস্ত ইঞ্জিনিয়ারিং জিনিসের দামই, অথবা নিখুঁত ইঞ্জিনিয়ারিং করে তৈরী জিনিসের দাম, অর্থাত্ সেই সমস্ত কিছুই যা সামরিক প্রয়োজনে প্রতিরক্ষা শিল্প তৈরী করে তা বিশ্বের অন্য সব জায়গার দামের মতই হবে. আগে, সোভিয়েত দেশের সময়ে এই দাম বেশী ছিল না. কিন্তু এটা তখন বাজার অর্থনীতিও ছিল না. যদি ২০ লক্ষ কোটি থেকে ধরা হয়, তবে এই পরিমান অর্থ ভাল রকমের পরিকল্পনা করলে যথেষ্ট হওয়া উচিত্, আর যদি সামরিক বাহিনী কে প্রয়োজনের উপযুক্ত রকমের আধুনিকীকরণ করা হয়. যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, আরও বেশী দেওয়া যেতে পারতো".

    কিন্তু, আধুনিক অস্ত্র দ্রুত সামরিক বাহিনীতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর মন্ত্রণালয়ের সরকারি বায়না বরাদ্দের কাজের প্রক্রিয়া পাল্টানো দরকার. দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে মঙ্গলবারে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ খুবই কড়া ভাবে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প কর্তাদের সমালোচনা করেছেন, দেশের অস্ত্রসজ্জা সংক্রান্ত পরিকল্পনাকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বায়না বরাদ্দের কাজে গাফিলতি করে দেরী করিয়ে দেওয়ার জন্য. রাষ্ট্রপতির কথামতো, এই কাজ খুবই ধীরে ও খারাপ করে করা হয়েছে. আরও মেদভেদেভ বিরক্ত হয়েছেন এই কারণে যে, ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে পরিকল্পনা হয়েছিল কবে কি অস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহ করা হবে, আর এই বছরের মার্চ মাসে প্রতিরক্ষা বিষয়ে মন্ত্রীসভা বিশদ হয়েছে যে, সরকারি পরিকল্পনা সময় মতো করা সম্ভব হয় নি. মেদভেদেভ বলেছেন এটা চলতে দেওয়া যায় না, যখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, টাকা দেওয়া হয়েছে, অথচ জিনিস দেওয়া হয় নি. তাছাড়া তিনি উল্লেখ করেছেন যে, নেওয়া ব্যবস্থা স্বত্ত্বেও দেশের প্রতিরক্ষা বিষয়ে উত্পাদনের জায়গা গুলিকে ভাল বলা যেতে পারে না. সেখানের প্রধান যন্ত্রপাতির ক্ষয় হয়েছে শতকরা ৭০ ভাগ. এমনকি প্রতিরক্ষা উত্পাদনের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও বাজেট বহির্ভূত অর্থ যোগান দেওয়াও সম্ভবপর হয় নি. দেশের নেতা বিশেষ করে বলেছেন যে, এই পরিকল্পনায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন, বিদেশের বায়নার কথা ভাবলেই চলবে না, বরং দেখতে হবে দেশের প্রতিরক্ষা সামগ্রী উত্পাদনের শিল্প সামরিক প্রযুক্তি উত্পাদনের বিষয়ে কতটা তৈরী.

    রাষ্ট্রীয় লক্ষ্য পূরণের পরিকল্পনায় দেশের প্রধান সামরিক উত্পাদন ব্যবস্থাকে দেখা হচ্ছে এই ক্ষেত্রে রয়েছে: রকেট উত্পাদন, সামরিক বিমান নির্মাণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা উত্পাদন, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, অনুসন্ধান ব্যবস্থা, সামরিক অস্ত্র রসদ উত্পাদন ও জাহাজ নির্মাণ.

    সব মিলিয়ে ২০০৯ সালে সমগ্র বিশ্বে সামরিক ক্ষেত্রে খরচের পরিমান ছিল ১, ৩৪ লক্ষ কোটি ডলারের সমান ও তা আগের বছরের তুলনায় সামান্য কম হয়েছিল. বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট এই ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলেছিল. কিন্তু বিশ্বের বড় অর্থনীতি গুলি এই সমস্যা থেকে ইতিমধ্যেই হয় নির্গত হতে পেরেছে অথবা হতে চলেছে. তার উপরে বিশেষজ্ঞদের অনুমান অনুযায়ী একবিংশ শতাব্দীর নূতন বিপদের কথা চিন্তা করে দেখলে, স্থানীয় বিবাদের সংখ্যা বৃদ্ধি হতে পারে বলে, বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রাকৃতিক সম্পদের দখল নিয়ে লড়াই এর কথা ভাবলে, প্রতিরক্ষা খাতে খরচ যারা বাড়াতে চাইবে এই ধরনের দেশের সংখ্যা, মনে হয় না যে কমবে.