রাশিয়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মাদক সংক্রান্ত অপরাধের বিষয়ে সক্রিয়তা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করার আহ্বান জানিয়েছে. এই বিষয়ে রুশ রাষ্ট্রীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার ডিরেক্টর ভিক্তর ইভানভ প্যারিসে বড় আট দেশের আসন্ন শীর্ষবৈঠকের আগে আয়োজিত এক আন্তর্সংস্থা অধিবেশনে ঘোষণা করেছেন.

    ফ্রান্স, এই বছরে বড় আট দেশের শীর্ষবৈঠকের সভাপতিত্ব করছে ও ইতিহাসে এই প্রথমবার ঘোষণা করেছে যে, বৈঠকের একটি অন্যতম মুখ্য বিষয় হবে অন্তর্রাষ্ট্রীয় মাদক পাচার বিরোধী সমস্যা নিয়ে আলোচনা. ইউরোপ লাতিন আমেরিকা থেকে চালান হয়ে আসা কোকেইন নিয়ে বিব্রত. রাশিয়া প্রস্তাব করেছে যে, এই আলোচনায় আফগানিস্তানের হেরোইন পাচারের বিষয়ও যুক্ত করার. "আজ এই সমস্যার গুরুত্ব অনেক কমিয়ে দেখা হচ্ছে, যদিও আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, কি ভাবে সংগঠিত মাদক অপরাধ প্রতি নিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সন্ত্রাসের জন্ম দিচ্ছে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করছে এক সারি দেশে, মাদক ব্যবহার থেকে বহু কোটি লোক মারা যাচ্ছেন". – ঘোষণা করেছেন রুশ মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার ডিরেক্টর ভিক্তর ইভানভ, তিনি আরও বলেছেন:

    "আফগানিস্তানের মাদক পাচার এখন এক সমগ্র বিশ্ব জোড়া কারবার, যা শুধু রাশিয়াকে ক্ষতিগ্রস্তই শুধু করছে না, বরং ইউরোপীয় সংঘকেও করছে. প্রতি বছরে রাশিয়াতে আসছে আফিমের সমতূল্য ৫৪৯ টন, আর ইউরোপের দেশ গুলিতে পাচার হচ্ছে ৭১১ টন, যার অর্থ হল রাশিয়ার চেয়ে প্রায় শতকরা ২৫ শতাংশ বেশী. আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, ইউরোপের দেশ গুলিতে ফি বছরেই মাদক ব্যবহার বেড়ে চলেছে".

    ভিক্তর ইভানভ একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, সমস্ত বর্তমানে গৃহীত কাজ কর্মই এই আফগান মাদকের বিষয়ে ফলদায়ক নয়. এটা ব্যাখ্যা করা যায়, প্রাথমিক ভাবে এই ভাবে যে, তা খুবই বিচ্ছিন্ন ভাবে করা হচ্ছে. তাই এখনও রাশিয়ার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না ন্যাটো জোটের সঙ্গে একসাথে কাজ করার. উত্তর অতলান্তিক জোটের সেনাবাহিনী, যা এখন আফগানিস্তানে রয়েছে, তারা আফগানিস্তানের আফিম চাষের ক্ষেত নষ্ট করার জন্য কিছুই করছে না, যদিও ১৯৯৮ সালের ও পরে ২০০৯ সালে রাষ্ট্রসংঘে গৃহীত সিদ্ধান্তে সমস্ত দেশই মাদক চাষ ধ্বংসের পক্ষে ভোট দিয়েছিল, এই কথা বলে ভিক্তর ইভানভ যোগ করেছেন:

    "আমাদের উচিত্ হবে কারণের উপরে মনোযোগ বেশী দেওয়া, তার ফলের উপরে নয়. কারণ মাদক পাচারের প্রধান কারণ হল, তার বিপুল পরিমানে উত্পাদন. মাটি থেকে মাদক উত্পাদনের উপযুক্ত কাঁচা মাল জন্মাতে পারে বিশাল পরিমানে, তাই প্রশ্ন হল, সমস্ত শক্তি এক করে প্রাথমিক ভাবে উত্পাদনকেই আগে ধ্বংস করা. উত্পাদন থাকবে না, পাচার ও হবে না. আর যখন তা সমস্ত দেশের ভিতরেই ঢুকে পড়ছে, তখন আমরা সক্রিয় ভাবে বিপুল অর্থ ব্যয় করছি তার ফল থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য, কারণ থেকে নয়. তাই এই বিষয়েই আমাদের উদ্যোগ থাকবে. তা আমরা প্রতিফলন করেছি আমাদের রুশ উদ্যোগ, যা আফগানিস্তানের মাদক উত্পাদন ধ্বংস করা নিয়ে "রামধনু – ২" নামের পরিকল্পনাতে".

    রাশিয়ার পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ভাবেই ইউরোপীয় সংঘের উদ্যোগের সঙ্গে মেলে, যা গত বছরের ডিসেম্বর মাসে নেওয়া হয়েছিল. এই দলিলে আফগান মাদক উত্পাদন ধ্বংস করাকেই প্রথম স্থানে রাখা হয়েছিল. ভিক্তর ইভানভ আশা করেন যে, "আট বড়" অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ দেশের শীর্ষবৈঠকের সময়ে ফ্রান্সের দোভিল শহরে মাদক বিরোধী জোট তৈরী করা সম্ভব হবে, যা আফগানিস্তানে মাদক উত্পাদনকে ধ্বংস করতে সাহায্য করবে.