মে মাসের শেষে ফ্রান্সে আবার একটি "আট বড়" দেশের শীর্ষবৈঠক হতে চলেছে. এখানে আলাদা করে একটি আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে মাদক বিপদ. এই বারের বৈঠকে প্রথমবার ফরাসী রাষ্ট্রপতি নিকোল্যা সারকোজির উদ্যোগে আন্তর্জাতিক সমস্যা হিসাবে পশ্চিম আফ্রিকা হয়ে ইউরোপে আসা কোকেইন জাতীয় মাদক দ্রব্যের সমস্যা বিচার করে দেখা হতে চলেছে.

    মস্কো থেকে আফগানিস্তানের মাদক সমস্যার আন্তর্জাতিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনার কথা বলা হবে. এই বিষয়ে "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রুশ রাষ্ট্রীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার ডিরেক্টর ভিক্তর ইভানভ উল্লেখ করেছেন. তাঁর কথামতো, আজকের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রাক্ শীর্ষবৈঠক আলোচনায় প্যারিসে জড় হয়েছেন "আটটি বড়" দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধানেরা ও এখানে রাশিয়ার প্রতিনিধিদল পৌঁছেছেন এই প্রশ্নটিকে শীর্ষবৈঠকের আলোচ্য বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য খুবই দৃঢ় মনোভাব নিয়ে, তিনি বলেছেন:

    "পরিস্থিতি রাশিয়াকে বিশ্বের দ্বিতীয় বড় মাদক পাচার আফগানিস্তান থেকে ইউরোপে আসা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে সহায়তা করেছে. আফগানিস্তানের মাদকের থেকে বিপদ প্রতিদিনই বাড়ছে, আর একই সঙ্গে ন্যাটো জোটের সেনাবাহিনী, যাঁরা আজ আফগানিস্তানে রয়েছে, তাঁরা আফিমের চাষকে ধ্বংস করতে চাইছে না. একই সময়ে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে কলম্বিয়া ও লাতিন আমেরিকার দেশ গুলিতে মাদক চাষ বন্ধ করার জন্য দরকারে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে ও খুবই মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে, এই কাজের ফলও পরিস্কার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে".

    রাশিয়ার তরফ থেকে রাষ্ট্রীয় মাদক বিরোধী পরিষেবার বিশেষজ্ঞদের তৈরী পরিকল্পনা আফগানিস্তানের শুধু মাদক চাষের মোকাবিলা করার জন্য কীটনাশক ব্যবহারেই শেষ করা হয় নি. এই পরিকল্পনায় একেবারে চুড়ান্ত পথ হিসাবে যে সমস্ত জমিতে মাদক চাষ হচ্ছে, সেগুলিকে জোর করে ব্যক্তি মালিকানা থেকে সরকারের মালিকানাতে নিয়ে আসার কথাও বলা হয়েছে. এই সবই করা হয়েছে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক আইন অনুসারেই, যা মাদক দ্রব্যের বিরুদ্ধে বিশ্বে গ্রহণ করা হয়েছে ও আফগানিস্তান এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে বলে, তার আওতায় পড়ে.

    এখানে অন্য বিষয় হল, এই বিষয়ে সরকারি ভাবে কাবুল, ন্যাটো জোট ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি রকম মনোভাব নেবে?

    ভিক্তর ইভানভ বলেছেন:

    "আমি সমস্ত পক্ষের সঙ্গেই এই বিষয়ে কথা বলে দেখেছি, আফগানিস্তানের তরফ থেকে বলতে হলে, এখানে নিজেদের অসুবিধা রয়েছে. অংশতঃ সেই সমস্ত দুর্গম অঞ্চলের চাষ নিয়ে, যেখানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি, সেই সমস্ত অঞ্চলে মাদক চাষের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে জমি মাপাও সম্ভব নয়, তাই তা নিয়ে কথা হচ্ছে না".

ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্বন্ধে বলতে গিয়ে ভিক্তর ইভানভের কথামতো, তারা এখনও রুশ পরিকল্পনা নিয়ে কোন পাকাপাকি উত্তর দেয় নি.

আমাদের আফগান বিশেষজ্ঞ পিওতর গনচারভের মতে, ভিক্তর ইভানভ যে পরিকল্পনা দিয়েছেন, তা অবশ্যই খুবই সফল হতে পারত আফগানিস্তানের মাদক চাষের ক্ষেত্রে. কিন্তু এখানে সমস্যা হল যে, আন্তর্জাতিক সেনা সমাহারের ইউরোপীয় সদস্য দেশ গুলি তাদের সামরিক বাহিনীকে বোধহয় আফগান মাদক সমস্যা সমাধানের কাজ করতে দেবে না, তাই তিনি বলেছেন:

"এই পরিকল্পনা অবশ্যই খুব ভাল, কিন্তু তার একটা "কিন্তু" রয়েছে. ব্যাপার হল, যেহেতু এখানে কথা হচ্ছে আফগানিস্তানে সামরিক বাহিনীর কাজের বিবরণে পরিবর্তনের বিষয়ে, তাই আফগানিস্তানে মাদক বা আফিম চাষের জমি নষ্ট করতে সামরিক বাহিনী ব্যবহারের সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সেই সমস্ত দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বা রাষ্ট্রপতিদের নয়, বরং দেশ গুলির পার্লামেন্টের. আর তাদের এই সম্বন্ধে একটি উত্তর তৈরী আছে: আফগানিস্তানে মাদক চাষ নষ্ট করার দায়িত্ব সেই দেশের আভ্যন্তরীণ সমস্যা বলেই শুধু স্থানীয় সরকারের সমস্যা".

একই সঙ্গে সকলেরই খুব ভাল করে জানা আছে যে, আফগানিস্তানের সরকারের বর্তমানে এই কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি বা ক্ষমতা নেই. ফলে সমস্যা নিয়ে আলোচনা চলছে বছরের পর বছর ধরে একই বৃত্তের মধ্যে, আর সময়ের সঙ্গে সমস্যা খালি বেড়েই চলেছে. সম্ভবতঃ, রাশিয়ার পরিকল্পনা সমস্ত পক্ষকেই সাহায্য করতে পারে, যারা আফগানিস্তান থেকে মাদক পাচার বন্ধ করাকে নিজেদের জন্য প্রয়োজনীয় মনে করছেন ও তারাই পারেন একটানা তত্ত্ব কথা তৈরী করা থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে.