ফ্যাসিবাদ বিরোধী মহান বিজয় দিবসের ৬৬তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে মস্কোর রেড স্কায়ারে সামরিক কুঁচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।রুশ ফেডারেশনের জাতিয় পতাকা ও বিজয়ের স্মারক পতাকা বহনের মধ্য দিয়ে কুঁচকাওয়াজ শুরু হয়।১৯৪৫ সালের মে মাসে বার্লিনের রেইসতাগে অনুরুপ বিজয় পতাকাই উত্তোলন করা হয়েছিল।যা ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুদ্ধে সোভিয়েত নাগরিকদের বিজয়ের প্রতিক হিসাবে গন্য করা হয়।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ কুঁচকাওয়াজের শুরুতে যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী বীর যোদ্ধা,আমন্ত্রিত অতিথি ও সেনা সদস্যদেরকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানান।মেদভেদেভ বিজয় দিবসকে দেশের সবচেয়ে উজ্জ্বল উত্সব হিসাবে বর্ননা করেন।প্রেসিডেন্ট তার দেওয়া ভাষনে বলেন,আমাদের কাছ থেকে যুদ্ধের ঐ বছরগুলো যতই দুরে চলে যাচ্ছে ঠিক ততই যুদ্ধকালিন ঐ সময়ের মানুষের প্রতি,তাদের বীরত্বের প্রতি ভালবাসা ও শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পাচ্ছে।আপনারাই,প্রিয় মুক্তিযোদ্ধারা যারা কঠিন বার্তা বয়ে এনেছেন এবং পিতৃভূমির প্রতি নিজেদের সততার ইতিহাস রচনা করেছেন।আমাদের কর্তব্য হচ্ছে,এই ইতিহাসকে স্মরণ করা এবং শান্তিকে আগলে রাখা।নিজের জীবনকে উপেক্ষা করে,আপনজন আর বন্ধুদের হারিয়ে আপনারা সেই বিজয়ের পথে অগ্রসর হয়েছেন।প্রতিটি শহর এবং প্রতিটি গ্রামের জন্য যুদ্ধ করেছেন।

রুশ প্রেসিডেন্ট ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী প্রতিটি দেশের যোদ্ধাদেরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।তিনি উল্লেখ করেন,বিজয় দিবস আমাদের সার্বজনিন উত্সব ছিল এবং থাকবে।মেদভেদেভ বলছেন,বর্তমানে রাশিয়া শান্তিময় পথেই এগিয়ে যাচ্ছে,নিরাপত্তা পদ্ধতি নিশ্চয়তা প্রদানে কাজ করে চলছে এবং বিশ্বে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।আমাদের সেনাবাহিনীরা শান্তিরক্ষী মিশনে সাফল্যের সাথে কাজ করছে।রাশিয়ার আর্মি ও নৌবাহিনী বিশ্বস্থতার সাথে দেশ ও দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা দিচ্ছে।

সেনা সদস্যদের অংশগ্রহনকারীদের সংখ্যার দিক দিয়ে আজকে অনুষ্ঠিত হওয়া বিজয় কুঁচকাওয়াজ ছিল আধুনিক রাশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কুঁচকাওয়াজ।রেড স্কয়ারে প্রায় ২০ হাজার সৈনিক ও সামরিক অফিসার কুঁচকাওয়াজে অংশ নেয়।কুঁচকাওয়াজে অংশগ্রহনকারীরা এবারই প্রথম ভিন্নধর্মী নতুন পোশাকে উপস্থিত হয়.স্থল,বিমান,নৌ ও মহাকাশ পথের সেনারা ভিন্ন ভিন্ন রংয়ের পোশাকে ছিল।কুঁচকাওয়াজে প্রথম বারের মত মহাকাশ সেনারা অংশ গ্রহন করেছে।

এছাড়া রেড স্কায়ারে ১০৬টি সামরিক প্রযুক্তি প্রদর্শিত হয়।যাদের মধ্যে ছিল,ট্যাংক,রকেট ক্ষেপোনাস্ত্র ‘ইসকান্দার’ ও ‘তাপোল’ ।এবারই প্রথম জেনিত ক্ষেপনাস্ত্র সিস্টেম সি-৪০০( ত্রিউমফ) প্রদর্শিত হয়।এই বছর থেকেই এই ক্ষেপোনাস্ত্র রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে।

বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আজ বিকেলে মস্কো নগরীতে আতশ বাজি ফোটানো হবে।নগরীর ১৩টি স্থানে আতশ বাজি ফোটানের উদ্দোগ নেওয়া হয়েছে।