যোগাযোগের সব মাধ্যম ও রোডিও সম্প্রচারের কর্মীরা ৭ মে রেডিও দিবস হিসাবে উদযাপন করেন।১৮৯৫ সালের এই দিনই খ্যাতিমান রুশি পদার্থবিদ আলেকসান্দ্রার পাপোব বিশ্বের প্রখম বেতার যন্ত্রের উদ্ভাবন করেন।বর্তমান সময়েও রেডিও অন্যতম জনপ্রিয় গনমাধ্যম হিসাবে বজায় রয়েছে এবং বেশ সাফল্যের সাথেই টেলিভিশন,প্রিন্ট মিডিয়া এবং ইন্টারনেটের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলছে।

১৮৯৫ সালের ৭ মে সেন্ট-পিটার্সবুর্গে অনুষ্ঠিত রুশি পদার্থ-রসায়ন সমাজের এক সম্মেলনে উপস্থিত বিজ্ঞানীরা বিশ্বের নতুন আবিষ্কার ‘রেডিও’র জন্মের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।আলেকলান্দ্রার পাপোবের উদ্ভাবিত রেডিও যন্ত্র থেকে কয়েকশ মিটার দূরবর্তী স্থানে বেতার সংকেত শোনা যেত।রেডিও রাশিয়াকে এমনটিই জানালেন সেন্ট্রাল যোগাযোগ জাদুঘরের বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমীর আর্লাভ।তিনি বলছেন,বেতার সংকেত ধারনকারী যন্ত্রটি রাখা হয়েছিল পিটার্সবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিদ্যা বিভাগে এবং বেতার সংকেত প্রদানকারী যন্ত্রটি ছিল রসায়ন বিভাগে।প্রথম বেতার সংকেত ছিল দুইটি শব্দ, ‘হেনরী গের্স’ এবং এরই ফলে তারবিহীন সংবাদ প্রচার প্রচলিত হল।তবে ‘রেডিও’ সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা এর কিছু সময় পরই জানা যায়।

রেডিও কখনই বিলুপ্ত হওয়ার সংকটে পরে নি।প্রথমত,যখন টেলিভিশন আবিষ্কার হয়েছে এবং পরবর্তিতে ইন্টারনেট।কিন্তু,রেডিও সবসময় গ্রহনযোগ্যতা অর্জনে সক্ষম হয় এবং অন্যতম একটি গনতান্ত্রিক ও কার্যকরী গনমাধ্যম রুপে বহাল রয়েছে।বর্তমানে রেডিও সম্প্রচারে এসেছে আমূল পরিবর্তন।যোগ হয়েছে ডিজিটাল সম্প্রচার।রেডিও কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুন এবং সমানতালে প্রচার অনুষ্ঠানের মানও বেড়েছে।এই বিষয়টি রেডিও’কে নিজের অবস্থানে বজায় রাখতে সহায়তা করবে।সর্বশেষ সময় রেডিও’র সামাজিক-রাজনৈতিক অনুষ্ঠানগুলোর প্রতি শ্রোতাদের আগ্রহ বাড়ার বিষয়টিও বেশ উল্লেখযোগ্যভাবে নজরে এসেছে।বলছিলেন,মিডিয়া ইউনিয়নের সদস্য ইগর মালোভ।তিনি বলছেন,পরিসংখান অনুসারে,রাশিয়ায় ৮০০-র মত রেডিও কেন্দ্র আছে।আলোচনাধর্মী রেডিও’র প্রচলন হয় ২০০০ সালের দিকে।মনে করছি,বিষয়টি দেশের সমষ্টিগত প্রভাবই সম্পর্কযুক্ত, এবং সামাজিক-রাজনৈতিক গনমাধ্যমে শ্রোতার সংখ্যা বৃদ্ধি যা সমাজের নাগরিক পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।এই পরিসংখ্যান রাশিয়ার শ্রোতাদের মাঝে অনেক বেশী।

১৯৪৫ সালে মহান বিজয় বর্ষের ৭ মে আনুষ্ঠানিকভাবে রেডিও দিবস পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জনে রেডিও’র অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য,অনুরুপ অবদান রেখেছে রেডিও ‘ভয়েস অব রাশিয়া’ ।সময়ের পেক্ষাপটে ঐ সময় রেডিওতে যুদ্ধের খবরাখবরই বেশী প্রচারিত হত।রেডিও যুদ্ধের ময়দানের পরিস্থিতি,শুত্রুদের অবস্থান ও সেনাদের কৌশল বিষয় বিভিন্ন সংবাদ প্রচার করত.’ভয়েস অব মস্কো’ শুনেছেন দূরবর্তী প্রান্তের বহু শ্রোতা।

  ‘ভয়েস অব রাশিয়া’ আজকের দিনে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান প্রচার করছে।তবে অবশ্যই নতুন আঙ্গিকে।রাশিয়া এবং বিশ্বে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া ঘটনাবালী যেমনঃ রাজনীতি,অর্থনীতি,সংস্কৃতি অথবা খেলাধুলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ৪৪টি ভাষায় আমরা অনুষ্ঠান প্রচার করছি.বিশ্বের সব কয়টি মহাদেশের মোট ১৬০টি দেশে আমাদের শ্রোতারা ছড়িয়ে আছেন।

কঠিন প্রতিযোগিতার মুখেও ‘ভয়েস অব রাশিয়া’ কোম্পানী নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে এবং নতুন শ্রোতা তৈরির ধারাবাহিক কাজ অব্যহত রেখেছে।বর্তমানে ‘ভয়েস অব রাশিয়া’এ এসেছে আমূল পরিবর্তন।নিয়মিত শর্ট ওয়েবে অনুষ্ঠান সম্প্রচার বজায় রাখার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে।মধ্যপ্রাচ্য ও দুরপ্রাচ্যের ১০০-রও বেশী দেশের বিভিন্ন শহরে এফএম তরঙ্গে অনুষ্ঠান প্রচার হচ্ছে।ইউরোপ,দক্ষিন আমেরিকা,চীন ও দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার একসারি শহরের শ্রোতারা মধ্য তরঙ্গে আমাদের অনুষ্ঠান শুনতে পায় এবং চলতি বছর থেকে তা ওয়াশিংটনে ও নিউইয়র্কে শুরু হয়েছে।উল্লেখ্য করা যাচ্ছে যে,‘ভয়েস অব রাশিয়া’-র ওয়েবসাইট www.ruvr.ru যা ৩৭টি ভাষায় অনুদিত আছে।ওয়েবসাইটে থাকছে প্রতিদিনের সংবাদ,রাশিয়া ও বহির্বিশ্বের গনমাধ্যের পর্যালোচনা,বিশেষজ্ঞদের মতামতসহ আরো অনেক কিছু।অনুষ্ঠানমালার বিভিন্ন সংবাদ ২৪ ঘন্টাই অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে এবং একই সাথে তা মুঠোফোনের মাধ্যমে,অডিও,ভিডিওসহ অন্যান্য মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট আকারে প্রচারিত হচ্ছে।তবে রেডিও কোম্পানীর সৃজনশীল দলের রয়েছে আরও বিভিন্ন যুগপোযুগী  প্রকল্প।

রেডিও রাশিয়ার সকল শ্রোতাদেরকে রেডিও দিবসের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি! ।