ইসলামাবাদে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পাকিস্তানের বিদেশ সচিব সলমন বশির ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে ওসামা বেন লাদেন কে ধ্বংস করার কাজে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘণ করার কোন দরকার ছিল না. নিজেদের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী, যদি আবার সন্ত্রাসবাদী নিধনের জন্য অনুরূপ কোন হামলা পাকিস্তানের মাটিতে করা হয়, তাহলে প্রতিরক্ষা বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে আবার করে দেখতে হবে বলে হুমকি দিয়েছে. বিষয়টি নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    সরকারি ভাবে ইসলামাবাদ একেবারেই সন্তুষ্ট নয়. জনগন অসন্তুষ্ট. আর এমনিতেই যথেষ্ট উত্তেজিত মার্কিন – পাকিস্তান সম্পর্ক আরও বেশী করে খারাপ হয়েছে. ওয়াশিংটন থেকে নিজেদের কাজের ব্যাখ্যা করা হয়েছে চরম গোপনীয়তা রক্ষার উদ্দেশ্য ছিল বলে. কিন্তু এটা শুধু পরিস্থিতিকেই আরও বেহাল করেছে, দুই স্ট্র্যাটেজিক সহযোগী দেশের মধ্যে আফগানিস্তানের সামরিক অপারেশনের বিষয়ে পরস্পরকে অবিশ্বাসের সম্পূর্ণ গভীরতাকেই তা তুলে ধরেছে জন সমক্ষে. পরিস্থিতি জটিল হয়েছে পাকিস্তানের শান্তিপূর্ণ জনপদে তালিব যোদ্ধা নিধনের জন্য নিয়মিত আমেরিকার ড্রোন বিমানের উপর্যুপরি হামলাতেও. পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষের সমস্ত আগাম জানান দেওয়ার আবেদন আমেরিকার পক্ষ থেকে উপেক্ষাই করা হয়েছে. ফলে শুধু তালিব যোদ্ধারাই নয়, মারা পড়েছেন বহু শান্তিপ্রিয় নাগরিকও. এই ক্ষতির পরিমান বর্তমানে হাজার ছাড়িয়েছে. এরই মধ্যে ভবিষ্যতে কোন কিছু পাল্টাতে পারে এমন আশা করা বাতুলতা বলে রুশ প্রাচ্য বিশারদ ও বিজ্ঞানী ভিয়াচেস্লাভ বেলোক্রিনিতস্কি বলেছেন:

    "পাকিস্তান নিজেদের অর্থনৈতিক দুর্বল তার কারণে ও বিনিয়োগ ব্যবস্থায় অস্থিতিশীলতার জন্য বহুলাংশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপরে নির্ভরশীল ও খুবই আগ্রহ নিয়ে চেষ্টা করে চলেছে তাদের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক বজায় রাখার. তাই আকাশ পথে আসা সমস্ত রকমের ক্ষতি স্বত্ত্বেও এই ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে খুব বেশী গুরুত্বপূর্ণ কোন পরিবর্তন হবে না".

    হতেই পারে যে, পাকিস্তানে খুব শীঘ্রই আমেরিকার বিশেষ বাহিনী আবার যাবে. আমেরিকার জেনেরাল রিচার্ড মিলস বলেছেন যে, আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে তালিবান আন্দোলনের আদর্শগত নেতা মুল্লা মহম্মদ ওমর, যে ওসামা বেন লাদেনের মতই কিছু তথ্য বিচার করে মনে হয়েছে যে, পাকিস্তানের এলাকাতেই আছে.

    এটা পাকিস্তানেও ভাল করে বুঝতে পেরেছে. বিদেশ সচিব সলমন বশির কিছু আগেই অন্যান্য দেশকে আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর মত পাকিস্তানে অনুপ্রবেশের বিষয়ে সাবধান করে দিয়েছেন. পাকিস্তানের এই উচ্চপদস্থ কূটনীতিবিদ বলেছেন যে, এই ধরনের প্রচেষ্টা হলে প্রলয় কাণ্ড ঘটে যাবে. তিনি বলেছেন, কারও যেন সন্দেহ না থাকে যে, পাকিস্তান নিজেদের ভাল করেই রক্ষা করতে জানে. পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম যেমন উল্লেখ করেছে যে, এই কথা তিনি ভারতের সেনা প্রধান জেনেরাল ভিজয় কুমার সিংহের ঘোষণার জবাবেই দিয়েছেন. ভারতের সেনা বাহিনীর কেন্দ্রীয় দপ্তরের প্রধান বলেছিলেন যে, প্রয়োজনে ভারতের সেনা বাহিনীও এই ধরনের অপারেশন করতে পারে.

    কিন্তু এই রকম হলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কেন সম্ভব পাকিস্তানের সীমান্ত লঙ্ঘণ করা, অন্য দেশের এলাকায় সামরিক অপারেশন চালানো, আর অন্যদের তা করা সম্ভব নয়? অথবা অন্যদের পক্ষেও তা করা সম্ভব, তবে সকলের নয়? আর কারা করতে পারে? অনেক প্রশ্নেরই উদয় হয়. বাস্তবে, আমেরিকার এই বেন লাদেন নিধন যজ্ঞের কাণ্ড, বর্তমানে দেশ গুলির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় সীমান্তের নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা ইত্যাদি সমস্ত প্রশ্নকেই আবার দেশের একান্ত অধিকারের আওতায় পড়ে কিনা সেই বিষয়ে প্রশ্নের পুনরুত্থান করেছে.