রাশিয়া, চিন, কিরগিজিয়া ও তাজিকিস্থানের বিশেষ বাহিনীরা শনিবারে চিনের সীমান্তের মধ্যে সন্ত্রাস বিরোধী মহড়া "তিয়ান- শান – ২" শেষ করেছে. মধ্য এশিয়াতে চরমপন্থী শক্তির সক্রিয়তা বৃদ্ধি লক্ষ্য করে এই মহড়া করার উদ্যোগ এসেছিল বেইজিং থেকে. সরকার নিজেদের উত্তর পশ্চিম অঞ্চল – সিনজিয়ান প্রদেশে, যেখানে বেশীর ভাগ স্থানীয় লোকের ধর্ম ইসলাম, সেখানে উত্তেজনার মাত্রা বৃদ্ধির ভয় পেয়েছে.

    এই মহড়া নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিল আঞ্চলিক সন্ত্রাস বিরোধী সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার বিভাগ. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় আরও কাজাখস্থান ও উজবেকিস্থান রয়েছে. এই মহড়ার ফলে সন্ত্রাস বিরোধী বিভাগ গুলির পারস্পরিক সহযোগিতা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া করার ক্ষেত্রে যুদ্ধ প্রস্তুতিও পরীক্ষিত হয়েছে. পদাতিক, বিমান বাহিনী ও প্যারাট্রুপার সেনা বাহিনীর সম্মিলিত মহড়ার জন্য এই বারের মুখ্য লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাস দমন. বর্তমানে এই ধরনের বিপদের তালিকায় যোগ করা হয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জাতীয়তা বাদী শক্তির মাথা চাড়া দেওয়া. এই ধরনের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা সম্ভব হয়েছে উত্তর ককেশাসে, মধ্য এশিয়াতে ও উজবেক- কিরগিজ সীমান্ত অঞ্চলে. প্রতিবারেই যখন সিনজিয়ান প্রদেশে এক দল গা ঢাকা দেওয়া ঐস্লামিক চরমপন্থীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়, তখনই দেখা যায় যে, চিনের সরকার তাদের যোগাযোগ পাকিস্তান, আফগানিস্থান ও অন্যান্য মধ্য এশিয়ার দেশের চরমপন্থী দল গুলির সঙ্গে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে. তার ফলেই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলির মধ্যে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী গুলির পারস্পরিক কাজকর্মের যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হয়েছে. বিশেষ করে বিশ্বের বিগত সময়ের পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য করে সামাজিক- রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির এভসেয়েভ বলেছেন:

    "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবারও আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধানে শক্তি প্রয়োগ করে দেখাচ্ছে. আর এখানে এক দল লোকের মুহম্মর গাদ্দাফি বা ওসামা বেন লাদেনের উপরে সহমর্মীতা আছে এটাই বড় কথা নয়. আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘণ করা উচিত্ নয়, যা বর্তমানে হয়ে চলেছে লিবিয়াতে. যদি পশ্চিমের দেশ গুলি এটা করতে শুরু করে, তবে বাকী দেশেরা ভাবতে পারে যে, তাদের অধিকার আছে একই ভাবে কাজ করার. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের মাটিতে বিশেষ অপারেশন করে সেখান থেকে কিছু লোককে মেরে উঠিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছে, পাকিস্তানকে কিছুই না জানিয়ে. এটা অন্যান্য দেশেও বিপদের ভয় বৃদ্ধি করেতে পারে, যে একই ধরনের কাণ্ড তাদের জমিতেও হতে পারে. ন্যাটো জোটের গাদ্দাফি শিকার চলছে সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘণ করেই. এই সবই, আমি মনে করি, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার পরবর্তী মহড়া গুলিতে লক্ষ্য করা হবে. বর্তমানের মহড়া শুধু প্রমাণ করেছে রাশিয়া, চিন ও তাদের মধ্য এশিয়ার সহযোগী দেশ গুলির একসাথে নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার ক্ষমতা. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার এই প্রশিক্ষণকে দেখা উচিত্ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সেই সমস্ত দেশের কাজের উত্তর হিসাবে, যারা নানা ছলে আন্তর্জাতিক আইনের প্রাধান্যকে লঙ্ঘণ করে চলেছে".

    বর্তমানের মহড়া আগে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, শুধু গত বছরেই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার অন্তর্ভুক্ত দেশ গুলিতে ৭১জন সন্দেহভাজন ও সন্ত্রাসবাদী ক্রিয়াকলাপে অংশ নেওয়া লোককে ধরা হয়েছে, যারা স্থানীয় জনসাধারনের মধ্যে নাশকতা মূলক কাজকর্মের মনোভাব বিস্তার করেছিল. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার দেশ গুলি দেখা গিয়েছে যে, সাংহাই শহরে একস্পো – ২০১০ প্রদর্শনীর নিরাপত্তা রক্ষার কাজ করেছে, গুয়াঞ্জো (দক্ষিণ চিন) শহরে গ্রীষ্ম কালীণ বিশ্ব ছাত্র ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় নিরাপত্তা রক্ষা, এই বছরে কাজাখস্থানে এশিয়াড ও ২০১০ সালে এবং আস্তানা শহরে ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষবৈঠকের নিরাপত্তা বজায় রাখার কাজে বিশেষ বাহিনী পাঠিয়েছিল. মধ্য এশিয়ার সমস্ত দেশেই ৯ই মে মহান বিজয় দিবসের ৬৬ তম বার্ষিকী পালনের সময়েও নিরাপত্তা বজায় রাখার কাজ করবে সাংহাই সহযোগিতার সংস্থার সদস্য দেশ গুলির আইন ও নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীর লোকেরা একসাথে.