মস্কো থেকে লিবিয়াতে মানবাধিকার রক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে. এই বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘে রাশিয়ার পক্ষ থেকে স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন নিরাপত্তা পরিষদের এক বিশেষ অধিবেশনে ঘোষণা করেছেন. ন্যাটো জোটের সামরিক অপারেশনের সময়ে যে রকমের তুলনাহীণ শক্তি প্রয়োগ চালু রয়েছে, তাতে লিবিয়ার স্থানীয় জনসাধারন ও সামাজিক পরিকাঠামো ধ্বংস হয়েছে প্রভূত পরিমানে.

    বিগত কিছু কাল আগে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি শহরে বোমা বর্ষণের ফলে অংশতঃ মানুষের জীবনের অধিকার খর্ব করা হয়েছে. ফলে টিউনিশিয়ার সীমান্ত অঞ্চলে নতুন করে শরনার্থী দলের দেখা পাওয়া যাচ্ছে. এই দেশের মধ্যে এখনই কয়েক লক্ষ লিবিয়ার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন. কিছু লোক সেখানে পালিয়েছেন ন্যাটোর বোমা ও গোলা বর্ষণের হাত থেকে রক্ষা পেতে, অন্যরা – মুহম্মর গাদ্দাফির অনুগত সেনা বাহিনীর গোলার হাত থেকে রক্ষা পেতে. নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে মস্কোর তরফ থেকে আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালতকে বিরোধী যুযুধান দের কোন এক পক্ষের জন্য বিশেষ করে বিচার না করতে বলা হয়েছে. সমস্ত পক্ষেরই কাজ কর্মকে ন্যায় বিচার করে দেখা উচিত্, কে বা কারা লিবিয়াতে মানবাধিকার খর্ব করেছে ও খুবই ন্যক্কার জনক ভাবে তা ভঙ্গ করেছে. এই দেশ বর্তমানে মানবিক বিপর্যয়ের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে. এই দেশের মানুষের দ্রুত প্রয়োজন খাদ্য ও চিকিত্সার উপযুক্ত ওষুধ পত্রের, এই কথা উল্লেখ করে প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির ইসায়েভ বলেছেন:

    "লিবিয়ার পরিস্থিতি একেবারেই ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের মতো, ন্যাটো লিবিয়াতে খাদ্য ও অন্যান্য জিনিস পত্র নিয়ে যাওয়া কোন জাহাজ পৌঁছতে দিচ্ছে না, ভয় পাচ্ছে যে, তার ফলে গাদ্দাফির সৈন্য বাহিনীর কাছে অস্ত্র পৌঁছতে পারে. ফলে লিবিয়ার মত দেশ, যারা কখনই খাদ্য ও ওষুধ পত্রের বিষয়ে সম্পূর্ণ ভাবে স্বয়ং নির্ভর ছিল না, তারা খুবই জটিল পরিস্থিতিতে পৌঁছে গিয়েছে. জোটের উচিত্ হবে জাহাজ গুলি পর্যবেক্ষণ করে মানবিক সাহায্য পৌঁছতে দেওয়ার. তা না হলে শুরু হবে দোকান, ফার্মেসী ও খাদ্য ভাণ্ডার লুন্ঠন, যদি তখন পর্যন্ত সেখানে কিছু থেকে থাকে".

    বুধবারে লিবিয়ার মিসুরাত শহরের বন্দরে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবার ১৮০ টন আন্তর্জাতিক সাহায্য পৌঁছেছে. ন্যাটো জোটের বোমা বর্ষণের শুরু ১৯শে এপ্রিল থেকে এই দেশের পশ্চিমের অঞ্চলে কোন রকমের খাদ্য পৌঁছতে দেওয়া হচ্ছে না. আর মে মাসের শুরুতে গাদ্দাফির বাস ভবনে বোমা বর্ষণের পরে ত্রিপোলি থেকে রাষ্ট্রসংঘের মানবিক মিশন সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে. আর এর মানে হল, লিবিয়ার সাধারন মানুষদের জন্য কোন রকমের বাইরে থেকে সাহায্য পাওয়ার শেষ সম্ভাবনা চলে গিয়েছে.

    লিবিয়া থেকে সরে গিয়ে রাষ্ট্রসংঘের মানবিক সহায়তা মিশন বর্তমানে সিরিয়াতে আসতে চাইছে. বুধবারে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব বান গী মুন সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদকে দেশের দক্ষিণের দেরা শহরের লোকেদের কাছে সাহায্য পৌঁছতে দিতে আহ্বান করেছেন, যাদের গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী ঘিরে রেখেছে. দেশের সরকার বলতে চাইছে যে, দেরা শহরে সবচেয়ে মুখ্য চরমপন্থী দলের নেতারা আশ্রয় নিয়েছে. বৃহস্পতিবারে সেখান থেকে সরকারি বাহিনী ফিরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে. কিন্তু রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের আহ্বান অনুযায়ী দেশের বিক্ষোভ কারীদের উপরে শক্তি প্রয়োগ বন্ধ করা ও আগে বিক্ষোভের সময়ে সংঘর্ষে নিহত লোকেদের বিষয়ে অনুসন্ধান করার বদলে সরকার আরও বেশী করে কড়া ব্যবস্থা প্রয়োগ করেছে. শুরু হয়েছে অল্প কিছু দিন আগে হওয়া বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া লোকেদের ব্যাপক হারে ধর পাকড়. মানবাধিকার রক্ষা কর্মীরা অভিযোগ করেছে যে, কোন রকমের অনুসন্ধান ও বিচার ছাড়াই দেশের জেলে পাঠানো হয়েছে প্রায় আট হাজার লোককে.

    শুরু হয়েছে "ডোমিনো এফেক্ট" – হিংসা, যার কোন শাস্তি হচ্ছে না, তার বদলায় নতুন হিংসার জন্ম হচ্ছে. বুধবারে ইয়েমেনে যোদ্ধারা পুলিশের পাহারা দারদের উপরে গুলি চালনা করেছে. এর পরে নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীর লোকেরা প্রত্যুত্তর দিতে গুলি চালিয়েছে. ৮ জন মারা গিয়েছে ও ২১ জন আহত হয়েছে.

    বাদ দেওয়া যায় না যে, এই নতুন আপদের উত্পত্তি হয়ত আল- কায়দা নেতা ওসামা বেন লাদেনের মৃত্যুর বদলা হিসাবে "আরব উপদ্বীপ অঞ্চলের আল- কায়দা" দলের কাজ. তার উপরে বিশ্বের তথাকথিত "এক নম্বর সন্ত্রাসবাদী", যাকে আমেরিকার বিশেষ বাহিনী হত্যা করেছে, তার পরিবারের লোকেরা আদতে ইয়েমেনের লোক. আরব দেশ গুলিতে এই দল ও অন্যান্য নানা রকমের সন্ত্রাসবাদী দলের যোদ্ধারা এর মধ্যেই শপথ করেছে, তাদের জেহাদ চালিয়ে যাওয়ার ও বেন লাদেনের মৃত্যুর বদলা নেওয়ার.

    সমগ্র আন্তর্জাতিক সমাজের তরফ থেকে এখন দ্রুত প্রতিষেধক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার. তার মধ্যেই বর্তমানে পশ্চিমের জোটের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে "গাদ্দাফি শিকার". গত দিনে তাদের বোমা বর্ষণ আরও বেশী করে গাদ্দাফির বাস ভবনের চার পাশেই করা হয়েছে. আর বারাক ওবামা এই সময়ে ঠিক করতে ব্যস্ত ছিলেন নিহত বেন লাদেনের ফোটো প্রকাশ করা হবে কি হবে না. ফলে বিশ্ব এর প্রমাণ দেখবে না. আমেরিকার রাষ্ট্রপতিকে বোঝানো হয়েছে যে, আল- কায়দা দলের নেতার বিকৃত মুখের ছবি – বিশ্বে আমেরিকা বিরোধী মনোভাবকে বাড়িয়ে তুলবে ও মুসলিম দুনিয়াতে নেতিবাচক মনোভাবই বৃদ্ধি করবে. আর সেখানে অনেকেই বিনা প্রশ্নে বেন লাদেনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিশ্বাস করতে রাজী নয়.