গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করা ও সমাজের সার্বিক উন্নতির জন্য মুক্ত সংবাদ মাধ্যম এক অনন্য ভূমিকা পালন করে থাকে. এই বাক্য ১৯৯৩ সালে রাষ্ট্রসংঘের সাধারন সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তি হয়েছে ও ৩রা মে দিনটিকে স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম দিবস বলে ঘোষণা করা হয়েছে.

    এই দিনটি পালন করার উদ্যোগ আফ্রিকার দেশগুলির প্রতিনিধিরা নিয়েছিলেন. ১৯৯১ সালের ৩রা মে নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহুক শহরে এই মহাদেশের স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা বিশ্বের সমস্ত দেশের সরকারের প্রতি এক আহ্বান প্রকাশ করেছিলেন, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য. প্রতি বছরে এই দিনটিতে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি বিভিন্ন দেশে সংবাদ মাধ্যমের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তৃতা দিয়ে থাকেন. গত বছরে বান গী মুন উল্লেখ করেছিলেন যে, মানুষ সেই খবর পাওয়ার অধিকার রাখে, যা তাঁদের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে, আর সরকার এই তথ্য দিতে বাধ্য.

    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষা সংস্থা গুলিও সাংবাদিক সমাজের পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত মূল্যায়ণ প্রকাশ করে থাকে. তাঁদের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে শতকরা ৩২ ভাগ মানুষ বিশ্বে বাক স্বাধীনতা রহিত অবস্থায় বেঁচে আছেন. এই পরিসংখ্যান যথেষ্ট রকমের বানানো কথা হলেও তা চিন্তার বিষয়. যদিও বিশ্বকে বর্তমানে যে সব দেশে বাক স্বাধীনতা রয়েছে, কিছু অংশে রয়েছে ও একেবারেই নেই, এই তিন ভাগে ভাগ করার চেষ্টা চলছে, তবুও সব জায়গাতেই সাংবাদিকদের কাজকর্মের প্রতি নানা রকমের বাধা নিষেধ রয়েছে. ক্ষমতায় থাকা লোকেরা কোন জায়গাতেই সমালোচনা সহ্য করতে পারে না. আর এটা একই রকম ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য. অন্য বিষয় হল, কি করে ক্ষমতায় থাকা লোকেরা এই সমালোচনার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে থাকে. আর কি ভাবে সাংবাদিকেরা তাঁদের কাজ সম্বন্ধে ধারণা পোষণ করে থাকেন, এই কথা উল্লেখ করে রুশ সাংবাদিক সঙ্ঘের সচিব পাভেল গুতিয়োন্তভ বলেছেন:

    "সংবাদ মাধ্যম, যাদের এই সমস্ত দিনে সম্মান করে চতুর্থ শক্তি বলে আখ্যা দেওয়া হয়ে থাকে ও গণতন্ত্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অস্ত্র বলে মনে করা হয়ে থাকে, তারা সব মিলিয়ে পৃথিবীর কোন জায়গাতেই সমাজের প্রিয় হতে পারে না. সংবাদ মাধ্যম – এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিরক্তি উদ্রেকের যন্ত্র. এটা একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ও ভাল যদি স্বাধীন একক হতে পারে. আর মানুষেরা মোটেও তাঁদের পছন্দ করেন না, যাঁরা তাঁদের বিরক্তির কারণ হয়, তাঁদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন এমন সমস্ত তীক্ষ্ণ বিষয়ে, যা মানুষের প্রয়োজনের চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ".

    তা স্বত্ত্বেও স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম  - এটা সমাজের স্বাধীনতারই একটি অন্যতম সূচক. প্রায় এক বছর আগে আমেরিকার টেলিভিশন কোম্পানী সি এন এন কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রুশ রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছিলেন যে, বর্তমানের বিশ্বায়নের দুনিয়াতে সংবাদ মাধ্যমে কোন বিশেষ ভাবে চুপ করিয়ে রাখার মতো বিষয় থাকতেই পারে না. কোন একটা বিষয় নিয়ে চুপ করে থাকা যেতে পারে, টেলিভিশনে না দেখানো যেতে পারে, কিন্তু যদি লক্ষ্য করা হয় যে আমাদের দেশে প্রায় চার কোটি লোক নিয়মিত ইন্টারনেটের মাধ্যম ব্যবহার করছেন, তবে কোন একটা ঘটনা নিয়ে মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সারা দেশে সকলে জেনে যেতে পারেন. তাই মেদভেদেভ বিশ্বাস করেন যে, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার উপরে চাপ সৃষ্টি করা – একেবারেই লক্ষ্য হীণ বিষয়.

    রাশিয়াতেও অন্যান্য দেশের মতই স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমের সমস্যা রয়েছে. শুধু বিগত দুই দশকেই রাশিয়াতে তিনশরও বেশী সাংবাদিক তাঁদের পেশাদার কাজের জন্য নিহত হয়েছেন. আর সব সময়ে এই সব হত্যার পিছনে থাকা হত্যাকারী বা তাদের ভাড়া যারা করেছিল, তাদের সন্ধান পাওয়া যায় নি, এই কথা উল্লেখ করে পাভেল গুতিয়োন্তভ বলেছেন:

    "এখানে কথা হচ্ছে না যে, সাংবাদিকদের শুধু আহত করা, আক্রমণ করা  বা মৃত্যু হতে পারে কি না তা নিয়ে নয়, প্রসঙ্গ হল সাংবাদিকের যেন নিজের কাজ করার মতো সম্ভাবনা থাকে. তিনি এমন একজন লোক হতে বাধ্য, যার কাজ ভাল লাগুক অথবা নাই লাগুক, যিনি সকলের স্বীকৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকেন. তিনি আসলে মানব সমাজের একজন সাফাই কর্মী".

0     এই বছরে বিশ্ব বাক স্বাধীনতা দিবস ইন্টারনেটের উদ্দেশ্য নিবেদিত – আমাদের সময়ের প্রধান সংবাদ মাধ্যম বলে যা স্বীকৃত. বিগত কিছু বছরে সমাজের উপরে এর প্রভাব খুবই বেশী রকম করে পড়েছে. ইন্টারনেট মানব সমাজকে নিজেদের চিন্তা বিশাল সংখ্যক মানুষের সামনে নিয়ে আসার সুযোগ করে দিয়েছে. সমগ্র বিশ্বে খুবই সক্রিয়ভাবে ফেসবুক, লাইভ জার্নাল, ইউ টিউব ও অন্যান্য সামাজিক সাইট ব্যবহার করা হচ্ছে. আর অনেকটাই এই সবের কারণে সরকার মানুষের সামনে নিজেদের কাজকর্মের বিষয়ে একটা দায়িত্ব অনুভব করতে শুরু করেছে. শুধু এইটুকু মনে করলেই যথেষ্ট যে, বহু দেশের নেতৃত্ব নিয়ে স্ক্যাণ্ডাল ও তাদের রাগ পড়েছে ইন্টারনেট সাইট উইকিলিক্স গোপন খবর ফাঁস করে দেওয়াতে.