বেন লাদেনকে ধ্বংস করা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় একটি সাফল্যের অন্যতম হতে পেরেছে. কিন্তু এই হিংসার সঙ্গে একযোগে সংগ্রামই ফল দিতে পারে. বহু দিন ধরে একক ভাবে কুখ্যাত হওয়া এই সন্ত্রাসবাদী "নম্বর একের" নিহত হওয়ার খবরে ক্রেমলিনের সংবাদ পরিষেবা থেকে এই রকম করেই মন্তব্য করা হয়েছে.

    মস্কোতে এই সম্বন্ধে সরকারি ভাবে ঘোষণার আগেই খবর পাঠানো হয়েছিল.রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের সংবাদ পরিষেবা দপ্তরে বিশ্বাস করা হয়, যে সমস্ত সন্ত্রাসবাদীর উপরেই প্রতিশোধের খাঁড়া ঝুলছে ও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, রাশিয়া অন্যন্য দেশের মধ্যে একটি প্রথম দেশ, যারা এই বিপদের সম্মুখীন হয়েছে অনেক আগে ও আল- কায়দা যে কি তা রুশ দেশের জন্য কোন শোনা কথা নয়.

    বেন লাদেন চরিত্র তার ভক্ত দের প্রচেষ্টায় অনেক দিন হল এক উপকথায় পরিনত হয়েছে. জানা আছে যে, সে সৌদি আরবে আশ্রয় নেওয়া ধনী ইয়েমেনের কৃষক পরিবারের সন্তান. যারা খনিজ তেলের দাম বাড়ার বছর গুলিতে রাস্তা ঘাট, বাড়ী ঘর বানিয়ে প্রচুর পয়সা করেছিল. এই পরিবারের সঞ্চিত অর্থের পরিমান কয়েক বিলিয়ন ডলার. ওসামা ধন কুবের ও নির্মাণ কারবারের ব্যবসায় নাম করা ব্যবসায়ী মুহাম্মদ বেন লাদেনের ৫২ সন্তানের মধ্যে ১৭ নম্বর সন্তান. ১৯৭৯ সালে সে অর্থনীতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী পেয়ে পারিবারিক ব্যবসায় সফল ভাবে কাজ করতে শুরু করেছিল. কিন্তু এই কাজ তাকে তখনকার সোভিয়েত দেশের সঙ্গে যুদ্ধে রত আফগান মোজাহেদ দের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরী করার বিষয়ে কোন বাধা সৃষ্টি করে নি. তাদের খুবই সক্রিয় ভাবে ওয়াশিংটন থেকে সাহায্য করা হয়েছিল. আর জানা তথ্য অনুযায়ী বেন লাদেন নিজে খুবই সক্রিয় ভাবে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে জড়িত ছিল. কিন্তু আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত বাহিনী প্রত্যাহারের পরে বেন লাদেনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই প্রধান শত্রুতে পরিনত হয়েছিল. অংশতঃ ১৯৯৩ সালে সোমালিতে মার্কিন সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রসংঘের শান্তি রক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অর্থ সাহায্যও করেছিল. সোমালিতে পরাজয় রাষ্ট্রসংঘ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদার জন্য খুবই কঠিন আঘাত হতে পেরেছিল এবং "সোমালি সিনড্রম" নামে এক বিশেষ অর্থবহ কথারও সৃষ্টি হয়েছিল.

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১১ই সেপ্টেম্বর ২০০১ সালে পরপর অনেক গুলি সন্ত্রাস বাদী হানায় প্রায় তিন হাজার লোকের নিহত হওয়ার পরে, এফ বি আই বেন লাদেন কে প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তি বলে ঘোষণা করার পরে, বিশ্বের সন্ত্রাসবাদীদের তালিকায় বেন লাদেন কে "এক নম্বরে" রাখা শুরু হয়েছিল. তার বিরুদ্ধে শুরু হয়েছিল সত্যিকারের শিকার. তার মৃত্যু সংবাদ বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমে কম করে হলেও ছয়বার প্রকাশিত হয়েছে. আর এই বারে মনে হয়েছে বেন লাদেন বোধহয় সত্যই ধ্বংস হয়েছে.

    আল-কায়দার প্রধান মারা যাওয়ার পরেও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে লক্ষ্যে অবিচল ভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে, সমস্ত জায়গায় ও একেবারেই বিশ্রাম না নিয়ে, এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার কনোভালভ বলেছেন:

    "এই সংস্থা কখনোই প্রধান ছাড়া থাকবে না. আর আল- কায়দা ও অন্যান্য সন্ত্রাসবাদী কাঠামো কখনোই একজন মাত্র নেতা বা একটি প্রধান নেতৃত্বের দপ্তরের কথায় চলে না. আর তাই বেন লাদেন নিহত হলেও তার অর্থ এই নয় যে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সংগ্রামে জয় হয়েছে. এটা এক বড় যুদ্ধে জয় মাত্র".

    তা স্বত্ত্বেও এই ঘটনার অর্থকে বাড়িয়ে বলা কঠিন. বিশ্বের নেতৃত্বের বেন লাদেন ধ্বংসের সংবাদে প্রতিক্রিয়া ছিল বিদ্যুত গতি সম্পন্ন. গ্রেট ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, ইউরোপীয় পরিষদের প্রধান জোসে মানুয়েল বারোজু ও ইউরোপীয় সংঘের রাষ্ট্রপতি হেরমান ভ্যান রমপেই, জার্মানীর চ্যান্সেলার অ্যাঞ্জেলা মেরকেল আল- কায়দার নেতা মরার খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন. কিন্তু এটাই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শেষ জয় নয়. ন্যাটো জোটের দেশ গুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে, সেখানে আশঙ্কা রয়েছে যোদ্ধাদের প্রতিহিংসার.