আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-কায়দার প্রধান ওসামা বিন লাদেন নিহত হয়েছেন।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সাংবাদিকদের এ কথা জানান।পাকিস্তানের এবোটাবাদ শহরে বসবাসকারি বিশ্বর ১ নম্বর সন্ত্রাসীকে হত্যা করতে মার্কিন সেনাবাহিনীদের মাত্র ৪০ মিনিট সময় লেগেছে।কিন্তু এর পূর্বে লাদেনকে খুঁজতে প্রায় ১০ বছর সময় লেগেছে।ওসামা বিন লাদেন ২০০১ সালে  নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সন্ত্রাসী হামলা পরিচালনা করেন।প্রায় ৩ হাজার মানুষ ঐ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়।তার পরামর্শেই আরও অনেক সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয় এবং যার ফলে অগনিত মানুষ নিহত হয়। যাদের মধ্যে শুধমাত্র খ্রিষ্টানই নয় বরং মুসলমানও রয়েছে।লাদেনকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শত্রু বলে ঘোষণা করা হয়েছিল।অভিযানের শুরুতে লাদেনের অবস্থান ও গতিবিধি সম্পর্কে গতবছরের আগষ্ট মাসেই জানা সম্ভব হয়েছিল।আট মাস ধরে নিরবে এই অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা স্বংয় নিজেই তার নির্দেশ প্রদান করেন।

রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের প্রেস বিভাগ থেকে প্রকাশিত সংবাদে  আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অসাধারন সাফল্যকে স্বাগত জানানো হয়েছে।ওসামা বিন লাদেনের নিহত হওয়ার সংবাদে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে  ক্রেমলিন জানায়,আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কারণে বিপদজনক রাষ্ট্রের তালিকার মধ্যে রাশিয়া অন্যতম এবং আজ সবাই এক কথায় জানে যে আল-কায়দা কি।

রাশিয়ার স্পেশাল সার্ভিস বিভাগ ওসামা বিন লাদেনের নিহতের সংবাদকে উল্লেখযোগ্য ঘটনাকে হিসাবে উল্লেখ করেছে।যদি মার্কিনীরা কখনই ২০০১ সালের ঘটনাকে ক্ষমা না করে তাহলে রাশিয়াও বুদেনোভস্ক,পহেলা মে,বেসলান ও মস্কোতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কথা কখনও ভুলবে না।সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যকরে সুনির্দিষ্ট হামলা করার অভিজ্ঞতা রাশিয়ার স্পেশাল সার্ভিস বিভাগেরও রয়েছে।সঙ্গত কারণেই ক্রেমলিনের ঐ সংবাদ যা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মিলিত সংগ্রমেরই ইঙ্গিত প্রদান করছে।ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করা যা বিশ্ব সম্প্রদায়েরই সাফল্য।রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাতকারে এমনই বলছেন রাশিয়ার পার্লামেন্ট দুমার নিরাপত্তা বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্য মিখাইল স্তারশিনভ।তিনি বলছেন,এই উদাহরন বেশ ইতিবাচক।কারণ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের পরিচালকদের সংখ্যা যত কম হবে ঠিক ততই সমাজের জন্য হুঁমকির আশংঙ্কা কমে আসবে।

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য অন্য বিষয় এড়িয়ে যাচ্ছেন না যে,বিন লাদেনের সমর্থকরা এর বিপরীতে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হয়ত নেবে।যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি দপ্তর ইতিমধ্যে এক ঘোষণায় বিদেশে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।মস্কোসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে মার্কিন দুতাবাসে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।এই ধরনের নিরাপত্তার গুরুত্ব সম্পর্কে মতামত জানিয়েছেন সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মী,পররাষ্ট্র এবং সামরিক রাজনীতিবিদ ভিতালি শ্লিকোভ.তিনি বলছেন,অবশ্যই, এই ঘটনা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিজয় নয় বরং তা  এই সংগ্রামের মাত্র একটি উপহার।কিন্তু এই ধরনের বিজয় পরবর্তিতে দেখা যায় আবারও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে কারণ তারা দেখাতে চায় যে,সে এখনও জীবিত।সুতরাং মার্কিনরা সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে এবং অন্যান্য দেশেরও সর্বোচ্চ সতর্ক ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত।হয়তবা সন্ত্রাসীদের পক্ষথেকে কোন ধরনের হামলা হতেও পারে।তারা সহজভাবেই বিষয়টি মেনে নিবে না।

পার্লামেন্ট দুমার নিরাপত্তা বিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান ভ্লাদিমীর ভাসিলেভও একই ধরনের বিপদজনক ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন।বিন লাদেনকে হত্যা করা যা অনেক খুশির বিষয় তবে অন্য বিষয়টিও দেখতে হবে।ব্যাপক জনগোষ্ঠী,শুধুমাত্র সন্ত্রাসীই নয় যারা লাদেনের জন্য সহানুভূতি প্রকাশ করেছে তারা হয়ত লিবিয়ায় চলমান সহিংসু ঘটনাকে পুঁজি করে সন্ত্রাসী হামলা ঘটাতে পারে।অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক ফেডারেশন কাউন্সিল কমিটির প্রধান মিখাইল মার্গারেভ বলছেন,খুব শিঘ্রই আবার আল-কায়দার নতুন শীর্ষ নেতা দেখা যাবে।বিশেষজ্ঞরা অবশ্য ঠিকই বলছেন কারণ ২য় স্থানে যিনি রয়েছেন আল-কায়দার আইমান আজ-জাভাহারেই এখনও জীবিত আছেন।বিন লাদেনের ঘটনা ছিল উল্লেখযোগ্য।স্বভাবতই তিনি ছিলিন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের অন্যতম প্রধান প্রতিক।