ত্রিপোলি শহরের গাদ্দাফির বাসস্থানের উপরে শনিবার থেকে রবিবারের ভোর রাতে ন্যাটো জোটের বিমান থেকে বোমা ফেলে আক্রমণ করা হয়েছে. বোমার গায়ে মুহম্মর গাদ্দাফির ছোট ছেলে ২৯ বছর বয়সী সৈফ আল- আরব ও তিন নাতির মৃত্যু হয়েছে.

   লিবিয়ার নেতা ও তাঁর কাছে থাকা স্ত্রীর কোন ক্ষতি হয় নি. যদিও লিবিয়ার সরকার বিশ্বাস করে যে, গাদ্দাফিকে মেরে ফেলাই ছিল মূল উদ্দেশ্য এই বোমা বর্ষণের.

   একদিনের মধ্যে লিবিয়ার নেতাকে হত্যা করার এটা ছিল দ্বিতীয় প্রচেষ্টা. শনিবারে লিবিয়ার নেতা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর সেনাবাহিনী যুদ্ধ বিরতিতে প্রস্তুত, যদি এই বিরোধের সমস্ত প্রতিপক্ষই একজোটে অস্ত্র সংবরণ করতে তৈরী থাকে.

   “অগ্নি সংবরণের সিদ্ধান্ত একতরফা হতে পারে না. আমরা প্রাথমিক ভাবে এর সপক্ষে ও তৈরীও আছি, কিন্তু ন্যাটো জোট আগের মতই আঘাত হেনে চলেছে”.

   উত্তর অতলান্তিকের জোট শুধু এই বিষয়কে উপেক্ষাই করে নি – এই বক্তৃতা যখন চলছিল, তখনই যেখানে টেলিভিশন স্টুডিও, সেই অঞ্চলে বোমা বর্ষণ চালু করেছিল. একই সঙ্গে ন্যাটো জোটের কর্তৃত্ব ঘোষণা করে যাচ্ছে যে, সমস্ত লক্ষ্যই ছিল একেবারে সামরিক ও শান্তি পূর্ণ জনতার মধ্যে ক্ষতির জন্য তাঁরা সমবেদনা প্রকাশ করছেন.

   গাদ্দাফির সংসারের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি শুধুমাত্র বিরোধকেই বৃদ্ধি করবে, এই কথা উল্লেখ করেছেন প্রাচ্য বিশারদ ও রাজনীতিবিদ স্তানিস্লাভ তারাসভ, তিনি বলেছেন:

   “লিবিয়াতে একেবারেই অন্য ধরনের এক ঘটনা হয়ে চলেছে. গাদ্দাফি যে রকমেরই হোন না কেন, তাঁকে কেউই মৃত্যুদন্ড দেয় নি. রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত শুধু লিবিয়ার উপরে উড়ান বিহীণ এলাকা ঘোষণা করেছিল. আর বর্তমানে চলছে গাদ্দাফি শিকার. পরবর্তী কালের ঘটনা আরও ভয়ঙ্কর হতে চলেছে”.

0    বর্তমানে সবচেয়ে বিপজ্জনক হতে পারে ন্যাটো জোটের লিবিয়াতে পদাতিক বাহিনীর সামরিক অনুপ্রবেশ. রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন যে, জোটের মধ্যে যে এই নিয়ে পরিকল্পনা চলছে, তা রাশিয়া জানে. কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন অনুয়ায়ী এটা করা যেতে পারে শুধু রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমতি পেলেই. তিনি বলেছেন – “যদি কারও সেই রকমের সিদ্ধান্ত পাওয়ার ইচ্ছা হয়ে থাকে, তবে আমরা তাদের সাদরে আহ্বান করছি নিরাপত্তা পরিষদে আসার, আমরা আলোচনা করতে তৈরী, চেষ্টা করব বোঝার, কি ও কেন পরিকল্পনা করা হয়েছে, কারণ সিদ্ধান্ত থেকে বেঁকে গিয়ে বর্তমানে যা করা হচ্ছে, তা আমরা লক্ষ্য করছি ও তা যথেষ্ট হয়েছে শিক্ষা নেওয়ার জন্য”. তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, বিশ্ব সমাজ এই লক্ষ্য সাধনের জন্য যেন প্রয়াসী না হয় যে, “আমি স্বৈরতন্ত্রীকে ,ঠিক শিক্ষা চাপের মাধ্যমে দিতে পারি”, বরং সাধারন মানুষের বিরুদ্ধে নোরাং সামরিক শক্তি প্রয়োগ একেবারেই চলতে পারে না ও তা ভব্যসমাজের কাজের মধ্যে থেকে সম্পূর্ণ ভাবেই বিসর্জন করা দরকার.