রাশিয়ায় ইন্টারনেট সাইটসমূহ স্বেচ্চাসেবীমূলক গনমাধ্যম হিসাবে রেজিষ্ট্রেশন করা হবে। রাশিয়ার পার্লামেন্ট দুমার তথ্য রাজনৈতিক ও সম্পর্ক বিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান সেরগেই জেলেজনিয়াক এ খবর জানান। সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর কারণেই তিনি এই ঘোষণা করেন। বর্তমানে রুনেটের জন্য রাষ্ট্রীয় সেন্সরশীপ আরোপ বিষয় নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে।

রুনেটে রাষ্ট্রীয় সেন্সরশীপ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। সেই সময় দুমা ওয়েবসাইটসমূহের জন্য বিশেষ আইন প্রনয়ন করে। ওই আইনে বলা হয় যে,ইন্টারনেট সাইটসমূহকে গনমাধ্যম হিসাবে গন্য করা হবে। এই পেক্ষাপটে কর্তৃপক্ষ যে বিষয়টি বিবেচনা করছেন তা হচ্ছে ইন্টারনেটের অবাধ বিচরনে রাষ্ট্রের বিধি-নিষেধ আরোপ করা।তাছাড়া,চলতি বছরের বসন্তকালে জনপ্রিয় ব্লগ ‘লাইভজার্নাল’ এবং ‘নভোই গাজেটা’ পত্রিকার ওয়েবসাইটে সাইবার আক্রমনের পরই ওয়েবসাইটসমূহ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রনে আনার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত ওয়েবসাইটসমূহের গনমাধ্যমে রুপান্তরের একমুখী নামকরনের  কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রনয়ন করা হয় নি। আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়টি এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়টি দুমার তথ্য রাজনৈতিক ও সম্পর্ক বিষয়ক সংসদীয় কমিটির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেই দেখা যাবে। যে কোন প্রকার হুঁমকি থেকে বিরত রাখার জন্যই পার্লামেন্ট সদস্যরা ওয়েবসাইটে খোলামেলা পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন।

তবে সংসদীয় কমিটির সাথে ভিন্ন মত প্রকাশ করে রুনেট কর্তৃপক্ষ বলছেন যে,আইনি প্রক্রিয়াকরনের ফলেও তা স্বাধীন মতামত প্রকাশে কোন বাধা সৃষ্টি করবে না। উপরন্তু নথিপত্রসমূহ ইলেকট্রনিক উপায় গনমাধ্যম হিসাবে রেজিষ্ট্রেশন করা হলে তা যে কোন তথ্যের উত্স ও সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রচারে আরও বেশি সহায়ক ভুমিকা রাখবে এবং তা থেকে রেটিং দেওয়া সম্ভব হবে। রেডিও রাশিয়াকে এমনটিই বলছিলেন আইটি ও মিডিয়া ব্যাবস্থাপক মিখাইল জানেনশাবিলি। তিনি সাইটসমূহকে গনমাধ্যমে রুপ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসাবে উল্লেখ করেন। তবে রুনেটের সেন্সরশীপ বিষয়ে সব আলোচনাকে তিনি  পৌরাণিক কাহিনী বলেই মনে করেন। তিনি বলছেন,সবাই এক কথায় বলেন যে, ইন্টারনেটকে নিয়ন্ত্রন করা হবে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা সম্ভব না। যদি চীনের পদ্ধতিও অনুসরন করা হয়;সেক্ষেত্রে আমি মনে করছি যে, রাশিয়ার জন্য খুব কমই তা কার্যকর হবে কারণ আমাদের জনগন অনেক বেশী সক্রিয় যারা খুব ভালভাবেই জানেন যে কিভাবে নিয়ন্ত্রন থেকে বেরিয়ে কাজ করা যায়।

বিশেষজ্ঞ চীনের উদাহরন টেনেছেন, যেখানে অনেক আগে থেকেই ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন গুগল বন্ধ রয়েছে। মিখাইল জানেনশাবিলি বলছেন,এই বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে,অনেকেই লিখছেন কিন্তু কেউই একবারের জন্য চিন্তা করছেন না যে, গুগল সাইটে প্রবেশের জন্য ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক(ভিপিএন) ব্যবহার করা যায়। যা একটি অথবা কয়েকটি কম্পিউটারের সাথে নেটওয়ার্কিং পদ্ধতিতে সংযুক্ত করা যায়। চীনের প্রোভাইডার কর্তৃপক্ষ থেকেই অবিকল একই ধরনের এই সুযোগ পাওয়া যাবে। সুতরাং,ইন্টারনেটের ওপর নিয়ন্ত্রন আরোপের জন্য রাষ্ট্রকে বিপুল অংকের অর্থ গুনতে হবে । তবে বিশেষজ্ঞ অনেকটা আস্থার সাথেই বলেন যে,এটি পুরোপুরিই বিফল প্রচেষ্টা এবং বস্তুত তা সম্ভব না।