রাশিয়া দেশের কৃষি শিল্পে সহায়তা বৃদ্ধি করছে. এই সাহায্য যেমন দেশে বৃহত্ খামার ও পশু পক্ষী পালনের কেন্দ্র গুলি পেতে পারে, তেমনই ছোট ব্যক্তি মালিকানার কৃষি শিল্পে নিযুক্ত যাঁরা রয়েছেন, তাঁরাও পেতে পারেন. এই বিষয়ে রাষ্ট্রীয় সভার শীর্ষবৈঠকে ঘোষণা করা হয়েছে, এটি আহ্বান করা হয়েছিল গত বছরের ফলাফলের পর্যালোচনা ও এই বছরের পরিকল্পনা সম্বন্ধে আলোচনার জন্য.

    ২০১০ সালে রাশিয়ার মাটি খুব সাধারন কোন পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যায় নি গরমে খরায় শতকরা ১৭ ভাগ চাষের জমি নষ্ট হয়েছে, প্রায় একের চতুর্থাংশ দানাশষ্য পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে. ফলে সব মিলিয়ে ৭০ মিলিয়ন টন মাত্র ফসল তোলা সম্ভব হয়েছিল. এই বছরে সরকার কৃষিকে সহায়তা করতে বাধ্য, যাতে ভাল ফসল হয়, এই কথা উল্লেখ করে মন্ত্রীসভার সভাপতি ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন:

    "সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, সরকারের তরফ থেকে দেশের কৃষি শিল্পের সাহায্য বাড়িয়ে ১৬৩ বিলিয়ন রুবল করা হবে. আগে আমাদের বরাদ্দ ছিল ১৫০ বিলিয়ন, আমরা তা বাড়িয়ে আরও ১৩ বিলিয়ন যোগ করেছি. প্রযোজনীয় সংশোধন করা হয়েছে ও তা দেশের লোকসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে. তাছাড়া রসসেলখোজব্যাঙ্ক ও সবের ব্যাঙ্কে আরও প্রায় ১৫০ বিলিয়ন রুবল বসন্ত কালের মাঠের কাজ কর্মের জন্য ঋণ দেওয়ার জন্য রাখা রয়েছে. অর্থাত্ কৃষি কার্যের সহায়তার জন্য সম্পূর্ণ রকমে ঋণ দানের ব্যবস্থাই হয়ে আছে".

    ২০১০ সালের মতো গরম এই দেশে আগে কখনও পড়ে নি ও দেশের আঞ্চলিক ও জাতীয় সরকারের জন্য খুবই খরচ সাপেক্ষ হয়েছে. অতিরিক্ত বিনিয়োগ সরকারের পক্ষ থেকে করায় বহু কৃষি পণ্যের উত্পাদক দেউলিয়া হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছেন, এই খবর দিয়েছেন রাশিয়ার কৃষি মন্ত্রী এলেনা স্ক্রীণনিক তিনি বলেছেন:

    "সরকারের সাহায্যের কারণেই খরার ফলকে এড়ানো সম্ভব হয়েছে, দেশের খুব কম সংখ্যক কৃষি পণ্য উত্পাদকই একেবারে ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে. আমরা যে জটিল অবস্থা থেকে বেরোতে পেরেছি তা এই বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে দেশের কৃষি পণ্য উত্পাদনের সূচক ১০০, ৭ শতাংশ হওয়া প্রমাণ".

    এই বছরের কাজ সম্বন্ধে বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেছেন যে, "সবচেয়ে প্রাথমিক হল – ন্যূনতম সময়ে বসন্ত কালীণ কৃষি কাজ শেষ করতে পারা. এই বছরে দানা শষ্যের উত্পাদন পরিকল্পনা অনুযায়ী ৮৫ মিলিয়ন টন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে. বোঝাই যাচ্ছে যে, রাশিয়া আগের উঁচু স্তরে ফিরে আসতে চায়. তুলনার জন্য: গত ১৫ বছরের মধ্যে রেকর্ড পরিমান শষ্য উত্পাদন হয়েছিল ৯৫ মিলিয়ন টন অবধি".

    বর্তমানে রাশিয়াতে বীজ বোনার কাজ হচ্ছে, কিন্তু আজও আবহাওয়ার অবস্থাকে খুব ভাল বলা যায় না. গম জাতীয় বীজ বোনা সম্ভব হয়েছে প্রায় ২, ৫ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে, যা গত বছরের এপ্রিল মাসের শেষের চেয়ে অর্ধেক কম. দীর্ঘসূত্রী বসন্তের ফল টের পাওয়া যাচ্ছে. কিন্তু এর মধ্যে কোন বিরল কিছু হয় নি: আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই বাদ পড়ে যাওয়া কাজ সম্পন্ন হবেই. আর দেশের ভেতরে পেট্রোলের বাজারে জটিল পরিস্থিতি ও একসাথে বেশ কয়েকটি এলাকায় এই বিষয়ে ঘাটতি পড়াতে এই বিষয়ে কোন রকমের প্রভাব ফেলতে পারবে না.

    প্রসঙ্গতঃ, রাশিয়ার কৃষকেরা জ্বালানী সংক্রান্ত কোন সমস্যা বোধ করছেন না. কৃষিকাজের জন্য জ্বালানী কেনা হয়ে থাকে পাইকারি বিক্রেতাদের কাছ থেকে. সেখানে ডিজেল ও পেট্রোল যথেষ্ট আছে.

0     এখানে মনে করিয়ে দেওয়া দরকার যে রাশিয়া এখনও রপ্তানিতে নিষেধ প্রত্যাহার করা হয় নি, যা গত বছরের আগষ্ট মাস থেকে বহাল হয়েছিল. প্রথমে প্রয়োজন পড়বে বসন্ত কালীণ মাঠের কাজ শেষ করার. "রপ্তানি নিয়ে প্রশ্ন শুধু তখনই তোলা ঠিক হবে, যখন আমরা বুঝতে পারবো গম জাতীয় শষ্যের ফলন কি রকমের হতে চলেছে" – বলেছেন কৃষি মন্ত্রী.