পাশ্চাত্যের "ফোর্বস" পত্রিকা পৃথিবীর বৃহত্তম পাবলিক কোম্পানিগুলির রেটিং নবীকৃত করেছে. নতুন তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে নীট মুনাফার সূচকের দিক থেকে রাশিয়ার গাজপ্রোম কোম্পানি তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে. বাকি প্রধান প্রধান সূচকের – বিক্রির পরিমাণ, শেয়ার ও ক্যাপিটালাইজেশনের – ভিত্তিতে রাশিয়ার বৃহত্তম এই গ্যাস কোম্পানি এক স্থান উপরে উঠে এখন পঞ্চদশ স্থানে রয়েছে. বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, আগামী বছরে গাজপ্রোমের স্থিতি আরও বেশি সুদৃঢ় হবে.

   রাশিয়ার এই হোল্ডিং কোম্পানির নীট মুনাফা ২০১০ সালে ছিল ২৫৫০ কোটি ডলারের উপর. এই সূচক অনুযায়ী গাজপ্রোমের উপরে রয়েছে অন্য তেল ও গ্যাস কোম্পানি - ExxonMobil, যার নীট মুনাফা ছিল ৩০০০ কোটি ডলার. এ রেটিংয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে Nestle নামে খাদ্যদ্রব্যের কোম্পানি, যার নীট মুনাফা ছিল প্রায় ৩৭০০ কোটি ডলার.

   সমস্ত প্রধান প্রধান প্রকল্পে সফল অগ্রগতি ( ইউরোপে উত্তরী ও দক্ষিণী প্রবাহ, চীনা গণপ্রজাতন্ত্রের সাথে আলতাই গ্যাস পাইপলাইন সংক্রান্ত চুক্তি), এবং অনুকূল বাজারের অবস্থা – গাজপ্রোমের উচ্চ সাফল্যের দুটি প্রধান চালিকা শক্তি, মনে করেন বিশ্লেষকরা. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্থান লাভ এ হোল্ডিং কোম্পানির স্থিতি আরও মজবুত করবে, বলেন Nettrader. ru কোম্পানির বিশ্লেষণ বিভাগের অধিকর্তা বগদান জ্ভারিচঃ

   গাজপ্রোম তার কাজের সমস্ত প্রকল্প থেকে পূর্ণমাত্রায় সব কিছু পাচ্ছে, তাই কোনো একটিকে পৃথক করা মুস্কিল. গাজপ্রোমের জন্য লাভজনক উভয় দিকেই বিকাশ করা – এশীয় দিকে এবং ইউরোপীয় দিকে. আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাস সরবরাহ সম্বন্ধে বলতে চাই যে, খুবই সম্ভব যে, গাজপ্রোম এ বাজারে ঢুকতে পারবে এবং যথেষ্ট সক্রিয়তা দেখাতে পারবে. যদি তা হয়, তাহলে এ কোম্পানি প্রাধান্য পাবে. তবে গাজপ্রোম ইউরোপকেও ত্যাগ করবে না. মনে হয় সেখানে সরবরাহ এখনকার সূচক থেকে বেশিই হবে.

   উত্তর আফ্রিকার সঙ্কট, বিশেষ করে, লিবিয়ার পরিস্থিতির দরুণ ইতালিতে রাশিয়ার গ্যাসের সরবরাহ দুগুণ বেড়েছে. অন্যদিকে মে মাসে উত্তরী প্রবাহের সামুদ্রিক অংশের নির্মাণ শেষ হচ্ছে. আর পৃথিবীর বৃহত্তম একটি খনি- ইয়ামাল খনি থেকে পাইপলাইনে তা পাঠানো শুরু হবে নভেম্বরে. আর সেই সঙ্গে যদি যোগ করা যায় জ্বালানির ক্রমাগত মূল্য বৃদ্ধি, তাহলে বলা যায় যে রাশিয়ার কোম্পানিটি আরও মজবুত হয়ে উঠবে. বগদান জ্ভারিচ জোর দিয়ে বলেনঃ

   গ্যাসের চাহিদা বাড়তে থাকবে. আর ইউরোপীয় বাজারে মূল্য বেড়েই চলেছে. সেই সঙ্গে গাজপ্রোমের আয়ও বাড়তে থাকবে. ২০১২ সালে এ প্রবণতা বদলানোর আশা আমি করি না. আর বিশ্ব অর্থনীতিতে যদি সঙ্কটের দ্বিতীয় জোয়ারও আসে, মনে হয় গাজপ্রোম নিজের স্থিতি আরও মজবুত করবে এবং রেটিংয়ে এমনকি দ্বিতীয় স্থানও অধিকার করতে পারবে.

   হোল্ডিং কোম্পানির নীট মুনাফার বৃদ্ধিতে যথেষ্ট অবদান উপস্থিত করছে আভ্যন্তরীন বাজারের পরিস্থিতি, উল্লেখ করেন "উনিভার-ক্যাপিটাল" কোম্পানির বিশ্লেষণ বিভাগের অধিকর্তা দমিত্রি আলেক্সান্দ্রোভঃ

   আভ্যন্তরীন বাজার সম্পর্কে বলব যে, এখানে গাজপ্রোমের সবচেয়ে অনুকূল পরিপ্রেক্ষিত রয়েছে, কারণ আভ্যন্তরীন মূল্যের সঠিকভাবে নিরূপিত ও সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি রয়েছে, যা বছরে প্রায় ১৫ শতাংশ করে বাড়তে পারে. কিন্তু সেই সঙ্গে বিক্রির পরিমাণ তীব্রভাবে কমার কোনো বিপদ নেই.

   আভ্যন্তরীন বাজার সম্পর্কে অপেক্ষাকৃত কম আশাবাদ প্রকাশ করে বগদান জ্ভারিচ বলেনঃ

   আভ্যন্তরীন বাজার সম্পর্কে বলতে চাই যে, এখানে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল মূল্যের উদারনৈতিকরণ. তেলের আভ্যন্তরীন মূল্য বৃদ্ধি, এবং গ্যাস স্টক-মার্কেট গঠন নিঃসন্দেহে কোম্পানির সূচক বৃদ্ধিতে, আভ্যন্তরীন বাজার থেকে প্রাপ্ত উপার্জন বৃদ্ধিতে নির্দিষ্ট প্রেরণা দেবে. কিন্তু উল্লেখ করা দরকার যে, ইউরোপীয় সূচকের সাথে তুলনায় তা খুবই সামান্য ভূমিকা পালন করে.

0   এই "ফোর্বস" পত্রিকার রেটিংয়ের তালিকায় প্রথম ২০০টির মধ্যে রাশিয়ার মাত্র ২৬টি কোম্পানি আছে. এর মধ্যে “লুকঅয়েল”- ৭১, “রসনেফত”- ৭৭ এবং “তে.এন.কা–বি.পি” – ১৬৩তম স্থানে রয়েছে.