সিরিয়ায় বিরোধীদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের বল প্রয়োগের নিন্দে সহ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ তার অন্তর্ভুক্ত ১৫টি দেশের প্রতিনিধিদের মাঝে বুধবার সহমত অর্জন করতে পারে নি.

   বৃটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ও পর্তুগাল প্রস্তাব করে শান্তিপূর্ণ অধিবাসীদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের ভারসাম্যহীন বল প্রয়োগের জন্য ডামাস্কাসের নিন্দে করার. তারাই আহ্বান জানায় ঘটনাবলির স্বাধীন তদন্ত চালানোর. এ ব্যাপারে রাষ্ট্রসঙ্ঘে সিরিয়ার প্রতিনিধি বাশার জাফারি বলেন যে, ডামাস্কাস স্বতন্ত্রভাবে তদন্ত চালাতে সক্ষম এবং তার লুকোনোর কিছু নেই. সেই সঙ্গে তিনি এ কথা সমর্থন করেন যে, সিরিয়ার সৈন্যবাহিনী বেসামরিক অধিবাসীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে না, বরং চরমপন্থী সন্ত্রাসবাদী দলগুলির বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাচ্ছে.

   রাশিয়া, চীন এবং নিরাপত্তা পরিষদে একমাত্র আরব দেশ-লেবানন খসড়া ঘোষণাপত্রের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করে. সেই সঙ্গে রাষ্ট্রসঙ্ঘে রাশিয়ার প্রতিনিধি আলেক্সান্দর পানকিন আহ্বান জানান এ বিষয় উপেক্ষা না করার যে, সিরিয়ায় বল প্রয়োগ মোটেই একতরফা ব্যাপার নয়. তিনি সরকারবিরোধী শক্তির দ্বারা সৈন্যবাহিনীর সারির উপর গুলিবর্ষণ, সামরিক প্রকল্প ও চৌকির উপর সশস্ত্র হানা, পুলিশ-কর্মীদের হত্যা এবং তারপরে মৃতদেহের অবমাননার মতো ঘটনার কথা উদ্ধৃত করেন. রাশিয়ার কূটনীতিজ্ঞ মনে করেন না যে, সিরিয়ায় সঙ্ঘর্ষমূলক পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিপন্ন করছে. উপরন্তু দাবি করা হচ্ছে বাইরের হস্তক্ষেপের, স্পষ্টভাবে যার আহ্বান জানায় পশ্চিমী দেশগুলির খসড়া সিদ্ধান্ত.

   রাশিয়া তা সমর্থন করে নি আরও এজন্য যে, অন্য একটি বিষযও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে. কেউ কেউ সিরিয়ায়, এবং অন্যান্য দেশে খোলাখুলি আশা করছে যে, পরিস্থিতি তীব্র হলে আন্তর্জাতিক জনসমাজ তাতে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবে সাহায্য দানের অজুহাতে এবং এক দিকের পক্ষ নেবে. লিবিয়ার উদাহরণ – তার প্রমাণ দেয়. আর এ হল বল প্রয়োগের শৃঙ্খল প্ররোচিত করা এবং গৃহযুদ্ধের জন্য স্বকীয় ধরণের আমন্ত্রণ, মনে করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা অধ্যয়ন ইনস্টিটিউটের ডেপুটি-ডিরেক্টর পাভেল জোলোতারিয়োভঃ

   এ ক্ষেত্রে সিরিয়ায় আভ্যন্তরীন সমস্যার মীমাংসায় বাইরের হস্তক্ষেপ অতি বিপজ্জনক. কারণ যে কোনো দেশেই রয়েছে কোনো না কোনো আভ্যন্তরীন বিরোধী শক্তি, যারা বিশৃঙ্খলা প্ররোচিত করতে পারে এ হিসেব করে যে, অন্যান্য দেশ, যারা এ দেশের অস্থিতিশীলতায় অথবা এমন ব্যক্তিকে ক্ষমতায় আনতে আগ্রহী, যে তাদের জন্য লাভজনক নীতি অনুসরণ করবে, এই বিরোধী শক্তিগুলিকে সমর্থন করবে. এই ভাবে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আমরা কখনও সুনিশ্চিত করতে পারব না. যদি আমরা এ পথে এগিয়ে যাই, তাহলে আমরা সত্যি সত্যিই বিশৃঙ্খলায় গিয়ে পড়ব. সেইজন্য সিরিয়া সম্পর্কে রাশিয়া অবস্থান গ্রহণ করেছে আন্তর্জাতিক আইন ও সুবুদ্ধির ভিত্তিতে.

   রাষ্ট্রসঙ্ঘে ফ্রান্সের প্রতিনিধি ঝেরার আরো বলেন যে, নিরাপত্তা পরিষদের ঘোষণাপত্রের অনুপস্থিতির অর্থ বিফলতা নয়. সিরিয়ায় নাটকীয় ঘটনাবলি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের মৌন থাকার অধিকার নেই. নিরাপত্তা পরিষদের উন্মুক্ত বৈঠক আহূত হয়েছিল, যাতে অবিলম্বে অত্যাচার বন্ধ করার জন্য সিরিয়াকে সুনির্দিষ্ট বার্তা পাঠানো যায়, বলেন ফরাসী কূটনীতিজ্ঞ. গ্রেট-বৃটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থানও মনোযোগ আকর্ষণ করেছে. ঐ দেশে সিরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো হয় এবং সরকারবিরোধী আন্দোলন কঠোরভাবে দমনের জন্য তিরস্কার করা হয়. 

   বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ লিবিয়ার পরিস্থিতি আলোচনা করবে. কোনো খসড়া সিদ্ধান্ত এখনও নেই. রাশিয়া নতুন সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত সমর্থন করবে এই শর্তে, যদি তাতে উভয় পক্ষের কাছে অত্যাচার, রক্তক্ষয় ও সামরিক ক্রিয়াকলাপ বন্ধ করার এবং অবিলম্বে আলাপ-আলোচনার টেবিল বসার ও লিবিয়ার ভবিষ্যত্ সম্পর্কে সমঝোতায় আসার  আহ্বান থাকে, এর প্রাক্কালে বলেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ. সিদ্ধান্ত যদি গৃহযুদ্ধ আরও গভীর করার আর সেই সঙ্গে বাইরের হস্তক্ষেপের দিকে নিয়ে যায়, তাহলে আমরা তা সমর্থন করতে পারব না, জোর দিয়ে বলেন রাশিয়ার মন্ত্রী.