রুশ দেশে বুধবারে এক উল্লেখ যোগ্য দিন পালন করা হচ্ছে. আজ থেকে একশ পাঁচ বছর আগে দেশে প্রথম প্রতিনিধিত্ব মূলক আইন প্রণেতাদের সভা সৃষ্টি হয়েছিল. এই দিনে রুশ সাম্রাজ্যের রাজধানী সেন্ট পিটার্সবার্গের তাভরিদ রাজ প্রাসাদে প্রথম রাষ্ট্রীয় পার্লামেন্ট – রাষ্ট্রীয় দ্যুমার অধিবেশন বসেছিল.

    বহু ইউরোপীয় দেশের তুলনায়, যেখানে পার্লামেন্ট ব্যবস্থার প্রচলন হয়ে গিয়েছিল এই শতকের মাঝামাঝি, রাশিয়াতে কিন্তু পার্লামেন্ট ব্যবস্থা, তার প্রচলিত অর্থে শুরু হতে পেরেছিল শুধু বিংশ শতাব্দীর শুরুতেই উদয় হতে পেরেছিল. কিন্তু তার ইতিহাস কিছু কম রোমহর্ষক নয়. ১৯০৬ সালের ২৭ শে এপ্রিল রাষ্ট্রীয় দ্যুমার অধিবেশন হয়েছিল, প্রথম সভার অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের কাজ উত্সাহিত ভাবেই শুরু করেছিলেন. তাঁদের উপরে এবার থেকে নির্ভর করছিল দেশের আইন ব্যবস্থা, যা দেশের উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় ছিল. কৃষকদের জন্য জমি বরাদ্দ করা, কি করে শ্রমিকের কাজকে লঘু করা সম্ভব হয়, সেনা বাহিনীর কাজ কি রকম হওয়া উচিত্ এই সমস্ত নিয়েই বিতর্কের প্রবর্তন হয়েছিল. দৃষ্টিকোণ ছিল বহুমুখী, প্রায়শঃই পরস্পর বিরোধী. কারণ রাশিয়ার দ্যুমার লোকেরা ছিলেন দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে আসা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাবলম্বী, এই কথা মনে করিয়ে দিয়ে রুশ ইতিহাসবিদ ডঃ ভালেন্তিন শেলোখায়েভ বলেছেন:

    "রুশ পার্লামেন্টে দেশের সমস্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক ধ্যান ধারণার প্রতিনিধিরাই ছিলেন – সংরক্ষণ বাদী, লিবারেল, বাম চরমপন্থী – দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা: "অক্টোবর দল", রাজ তন্ত্র বাদী, ক্যাডেট দল, বাম পন্থী দল গুলি, সামাজিক গণতান্ত্রিক দল, এসের দলের লোকেরা. দেশের প্রজাতি গত রাজনৈতিক দলের লোকেরাও এখানে প্রতিনিধিত্ব করেছিল: পোলিশ দল, মুসলমান সংঘ, ইহুদী ও ইউক্রেনের বিভাগ. এটা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণের বিচারে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ রাশিয়ার গণতন্ত্রের একটা ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল".

    জারের রাশিয়াতে পার্লামেন্ট চারবার নির্বাচিত হয়েছিল. প্রথম দ্যুমা ৭২ দিন টিকে ছিল, তারপরে সম্রাট তাদের বরখাস্ত করেছিলেন, বলা যেতে পারে অন্য ধারণা পোষণ করার অভিযোগে. এই দ্যুমাকে "জাতীয় ক্রোধের দ্যুমা" বলা যেতে পারে. সদস্যরা সমস্ত রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা দাবী করেছিলেন. তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে তার অপসারণ চাওয়া হবে. ১৯০৭ সালের দ্বিতীয় লোকসভাও প্রথমটির ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করেছিল. শুধু তৃতীয় লোকসভা প্রশাসনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সম্পূর্ণ সময় পর্যন্ত বহাল থাকতে পেরেছিল, আর তার কাজ হয়েছিল সবচেয়ে সফল, এই কথা উল্লেখ করে ইতিহাস বিজ্ঞানের ডঃ ওলগা মালীশেভা ব্যাখ্যা করেছেন:

    "প্রথম ও দ্বিতীয় দ্যুমা দুঃখের কথা হল আইন প্রণয়নের ব্যবস্থা হিসাবে কাজই করতে পারে নি. এই ক্ষেত্রে প্রথম হয়েছিল তৃতীয় লোকসভা, যা প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশী আইন প্রণয়নের প্রচেষ্টায় সক্ষম হয়েছিল ও তা সম্রাটের অনুমোদনও পেয়েছিল. তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল – কৃষি বিষয়ে সংশোধন ও শ্রমিকের অধিকার সংক্রান্ত আইন গুলি, যা এর আগে রাশিয়াতে সম্পূর্ণ ভাবেই অনুপস্থিত ছিল".

    চতুর্থ ও সাম্রাজ্যের ইতিহাসে শেষ দ্যুমা প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ শুরু হওয়ার অল্প আগেই নির্বাচিত হয়েছিল. আর ১৯১৭ সালের অক্টোবর মাসে তার অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়েছিল. দেশের পরিস্থিতি পার্লামেন্টের সদস্যদের গুরুত্ব সহকারে আইন প্রণয়নের কোন কাজ করতে দেয় নি. এই সময়ে লোকসভা সারাক্ষণই উত্তেজনায় আচ্ছন্ন ছিল. এই কথা উল্লেখ করে ভালেন্তিন শেলোখায়েভ বলেছেন:

    "পার্লামেন্টের সদস্যরা একে অপরকে ডুয়েলে আহ্বান করতে শুরু করেছিলেন, অপমান করছিলেন, সমস্ত রকমের মারপিট চলছিল সারাটা সময় জুড়ে.  এই তথাকথিত লোকসভার ঘরোয়া কাণ্ড দেশের কোন কাজে লাগে নি".

বর্তমানের রাষ্ট্রীয় লোকসভা জন্ম নিয়েছে ১৯৯৩ সালের শেষে. এর ভাগ্য ভাল. এর আগের সভা গুলির তুলনায় কাজও করছে বেশি দিন ধরে – সব মিলিয়ে আঠেরো বছর. বর্তমানে আর সভা তত উত্তেজক হয় না, যা হত রাশিয়াতে পার্লামেন্ট ব্যবস্থার শুরুর বছর গুলিতে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার লোকসভার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান ও তিন বারের লোকসভা সদস্য কনস্তানতিন কোসাচেভ বলেছেন:

"রাশিয়ার লোকসভার জন্য মূল বলে আমি মনে করি যে আমরা পারস্পরিক সহায়তায় কাজ করার একটা সংস্কৃতি তৈরী করতে পেরেছি ও তা হত পেরেছে নানা দল, প্রশাসন ও আইন সংরক্ষণ বিভাগের সঙ্গেও. আমি মনে করতে পারি নব্বই এর দশকের কথা, যখন প্রশাসনের ভাগের মধ্যেই ক্রমাগত টানাপোড়েন চলত. রাষ্ট্রপতি বনাম লোকসভা, লোকসভা বনাম প্রশাসন. কিন্তু এর থেকে রাশিয়াতে কারও কিছু ভাল হয় নি. আর বর্তমানের মডেল আমার মতে অনেক বেশী প্রগতির উপযুক্ত ও সফল. পরবর্তী কালের লোকসভা গুলির প্রধান ও উল্লেখ যোগ্য সাফল্য হল বাজেট প্রণয়নে শৃঙ্খলা – বিগত কিছু বছর ধরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব এই রকমের বাজেট গ্রহণ করা হয়েছে. দ্বিতীয় হল – দেশে আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থা পুনর্স্থাপন. বিগত বছর গুলিতে অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় আইন রাষ্ট্রীয় আইনের উল্টো ছিল. আমরা এই ক্ষেত্রে একটা শৃঙ্খলা আনতে সক্ষম হয়েছি".

এখানে আগ্রহের বিষয় হল যে, প্রথম লোকসভার বহু নিয়ম এখনও চালু রয়েছে. যেমন, প্রতিটি আইন তিনবার করে পড়া হয়ে থাকে ও তিনটি স্তরে তা গ্রহণ করা হয়ে থাকে পার্লামেন্টের দুটি কক্ষ ও রাষ্ট্রপতির দ্বারা. কিন্তু পর্যবেক্ষকেরা উল্লেখ করেছেন যে, বিগত শতকে নিয়ম শৃঙ্খলা ছিল আরও শক্ত. লোকসভার অধিবেশনে অংশগ্রহণ ছিল আবশ্যিক – না এলে জরিমানা করা হত. ১০৫ বছরে অনেক কিছুই পাল্টেছে, কিন্তু তখন নেওয়া এক সারি সমস্যার সমাধানের প্রচেষ্টা সেই সময়ের মতোই আজকের লোকসভা, রাজ্যসভা ও সরকারের জন্য বাস্তব রয়েছে. এটা অর্থনৈতিক উন্নতি, সামাজিক প্রশ্নাবলী, সামরিক বাহিনীর উন্নতি, পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক সমস্যা. রাশিয়ার প্রথম পার্লামেন্ট অভিজ্ঞতার অর্থ বিশাল, এই কথা উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা . কারণ গত শতকের শুরুতে দেশে প্রথম সর্ব সাধারণের জন্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, আর সেই ভাবে দেশে জনগনের প্রতিনিধিত্ব ক্ষমতায় আনা হয়েছিল.