চিন আমেরিকার পতনের ভয়ে আতঙ্কিত. গণ প্রজাতন্ত্রী চিন বাস্তবে একমাত্র দেশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যারা স্ট্যান্ডার্ড এন্ড পুয়োর'স কোম্পানীর কাজের তীক্ষ্ণ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে: গত সপ্তাহে এই রেটিং এজেন্সি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক স্থিতিশীলতার পূর্বাভাসকে "স্থিতিশীল" থেকে "নেতিবাচক" করে দিয়েছে. আর যদিও বর্তমানে আতঙ্কিত হওয়া তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে, তাও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, চিনের – আমেরিকার সবচেয়ে বড় পাওনাদার হওয়ার কারণে বেশী করে ভাবা দরকার, যাতে এই পরিস্থিতিতে তারা একেবারে ভুক্তভোগী না হয়ে দাঁড়ায়.

    বেইজিং কিন্তু প্রাচ্যের জ্ঞানী ভাব প্রকাশ করেছে. চিনের জনতা ব্যাঙ্কের বিশ্লেষকদের ঘোষণা খুবই সহজ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বিশ্বাস করি না, কিন্তু মার্কিন বিনিময় মুদ্রার দর ওঠা নামার ফলে অর্থক্ষয় করতে চাই না. অন্যভাবে বলতে হলে, চিনের বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা খুবই মনোযোগ দিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন, এবারে অর্থ কি ভাবে সংরক্ষণ করা যেতে পারে. প্রসঙ্গতঃ এই অর্থের পরিমান কিছু কম নয়: চিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ তহবিলের প্রদত্ত কাগজে নিজেদের সঞ্চয়ের প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশী অংশ রেখেছে. এখনই ইউরোর তুলনায় ডলারের দাম শতকরা এক ভাগ কমাতে চিন হারিয়েছে দশ বিলিয়ন ডলারেরও বেশী. অবশ্যই এই পরিস্থিতিতে চিনের বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা তত্ক্ষণাত বলে উঠেছেন যে, সমস্ত ডিমই এক বাক্সে রাখা ঠিক হচ্ছে না ও এখনই বিনিয়োগের জন্য নতুন রাস্তা বের করা দরকার. কিন্তু এখানে বোকার মতো ভাবলে ঠিক হবে না যে, চিন দ্রুত ডলার নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসবে, এই কথা উল্লেখ করে "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রাশিয়ার উচ্চ অর্থনৈতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক পিওতর মোজিয়াস বলেছেন:

    "চিনের লোকেরা খুব ভাল করেই বোঝেন মার্কিন অর্থনীতির চিনের উপরে নির্ভরতা ও তারা এটাকে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার সময়ে নিজেদের অবস্থানের জোর বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করছেন. তাই তারা নানা সময়ে নিজেদের স্বর্ণ ও বিদেশী মুদ্রার সঞ্চয় আমেরিকার ঋণ পত্রের ক্ষেত্রে কখনও কমিয়ে ও কখনও বাড়িয়ে থাকেন. দুই পক্ষই একে অপরের উপরে নির্ভর. আর তারা কখনও কথা বলে কখনও চুপিসাড়ে নিজেদের মধ্যে একমত হওয়ার পথ খোঁজেন. চিনকে নিজেদের বিদেশী মুদ্রার সঞ্চয় কোথাও একটা রাখতে হবে, আর আমেরিকার লোকেদের নিজেদের রাষ্ট্রীয় ঋণে বিনিয়োগ করতে হবে".

    প্রাথমিক ভাবে চালচিত্র যথেষ্ট শান্তিপূর্ণ: যদি কেউ ঋণ নেয়, তবে কেউ তা দিয়েও থাকে. এখানে অন্য প্রশ্ন হল যে, এটা শুধু হিমশিলার চূড়া মাত্র. এই দুই অর্থনীতির পারস্পরিক জোড়া লাগা আজ সত্যিকারের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে পিওতর মোজিয়াস বলেছেন:

    "১ ট্রিলিয়ন ডলার, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় ঋণ পত্রে সঞ্চিত রয়েছে, যদি তা বর্তমানের বিনিময় মুদ্রার মূল্যে বিচার করা হয়, তবে তা চিনের সার্বিক জাতীয় আয়ের প্রায় এক চতুর্থাংশ. যদি মনে করা হয় যে, চিনের সঞ্চয় এর মধ্যেই তিন ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, তবে এর অর্থ হল যে, প্রায় সত্তর ভাগের বেশী চিনের সার্বিক জাতীয় আয় বর্তমানে দেশের মধ্যের কারবার থেকে বের করে বিদেশী মুদ্রায় সঞ্চয় করা হয়েছে. কিন্তু যদি আমেরিকার সার্বিক জাতীয় আয়ের ক্ষেত্রে দেখা হয়, তবে তিন ট্রিলিয়ন ডলার – এটা প্রায় আমেরিকার সার্বিক জাতীয় আয়ের এক চতুর্থাংশ. দুই পক্ষের এই পারস্পরিক নির্ভরতা বর্তমানে সঙ্কটের মাত্রা ছাড়িয়েছে. এর মানে হল যে, বিশ্ব অর্থনীতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্যহীণতা দেখা দিয়েছে".

    আর যদি মনে করা হয় যে, বিশ্বের অর্থনৈতিক সঙ্কট ঘটেছে বিভিন্ন অর্থনীতির মধ্যে ভারসাম্যহীণতা জনিত কারণে (ভরসার অযোগ্য লোকেদের বড় মাপের ঋণ দানের ফলে, অন্যের অর্থ নিয়ে ঝুঁকি পূর্ণ কাজ করা, ফটকাবাজি মূলধনের উপরে অর্থনীতির নির্ভরতা), তবে বর্তমানের পরিস্থিতি আতঙ্কিত না করে পারে না. কারণ এখনও অর্থনীতি এই সমস্ত প্রশ্নের সমাধান করতে পারে নি. আর তার মানে হল, অবশ্যই আমেরিকার রেটিং কমায় ভয় পাওয়া দরকার, কিন্তু এই সময়ে ভাল হয় ভাবলে যে, কি করে অর্থনীতি গুলির মধ্যে সেতু বন্ধন করা যায় নতুন করে. যাতে ভবিষ্যতে সেই গুলি একই শৃঙ্খলে বাঁধা না থাকে, বরং একই লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়.