মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের বিশেষজ্ঞদের "ফুকুসিমা – ১" পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের মতো কেন্দ্র গুলিতে নতুন সমস্যার জন্য তৈরী হতে হবে. এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন 'রসঅ্যাটম' সংস্থার প্রতিনিধি. বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, একটি বলয় সম্পন্ন ফুটন্ত রিয়্যাক্টর গুলি নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনেক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে. আর এই ধরনের প্রকল্পকে আধুনিকীকরণ করা সম্ভব নয়. এগুলি বন্ধ করে নতুন তৈরী করা দরকার.

    জাপানের "ফুকুসিমা – ১" পারমানবিক কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পরে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে চলেছে. এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা উদীয়মান সূর্যের দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও দূর্ঘটনা ঘটার প্রায় দ্বিতীয় দিনেই ঘোষণা করেছিলেন. কিন্তু শুধুমাত্র এখনই এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত বিশেষজ্ঞদের প্রথম নির্দিষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী প্রকাশ করা শুরু হয়েছে. 'রসঅ্যাটম' সংস্থার প্রকল্প বিভাগের ডিরেক্টর সের্গেই বইয়ারকিন ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের এই ধরনের পারমানবিক কেন্দ্র গুলিতে নতুন সমস্যার উদয় হতে পারে. এই ধরনের কেন্দ্রের গঠন কাঠামোতেই খুব গুরুত্বপূর্ণ হিসাবের ভুল রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে "পারমানবিক স্ট্র্যাটেজি" জার্নালের প্রধান সম্পাদক ওলেগ দ্ভোইনিকভ বলেছেন:

    "প্রথম হল - এই রিয়্যাক্টর গুলির প্রধান চালক অংশটি নীচে. বাষ্প সোজা জেনারেটর ও টারবাইন গুলিতে বেরিয়ে আসে – এটা দ্বিতীয়, ছোট, খুবই পাতলা ও ভীষণ অসুবিধাজনক রিয়্যাক্টরের বাইরের খোলস – এটা তৃতীয় কারণ. অর্থাত্ সেখানে প্রচুর প্রশ্ন জাগে. কিন্তু এই সমস্ত ধরনের অসুবিধার কথাই আমাদের নতুন জল- জলীয় শক্তি উত্পাদনের রিয়্যাক্টর গুলির ক্ষেত্রে ভাবা হয়েছে. অবশ্যই এই ধরনের রিয়্যাক্টরের দুটি বাইরের আবরণ থাকায় সেগুলি খুবই নিরাপদ. কারণ এমনকি প্রথম খোলসের কোন রকমের ক্ষতি হলেও বাইরে তেজস্ক্রিয় পদার্থ বেরোতে পারে না. তাছাড়া সেখানে আরও অন্যান্য ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে. আপনারা বোধহয় অনেকবারই শুনেছেন যে, এই রিয়্যাক্টর গুলিতে তেজস্ক্রিয় দ্রব্যের বিভাজনের ফলে উত্পন্ন পদার্থ ধরে রাখার জন্য ফাঁদের ব্যবস্থা রয়েছে, যা বিশেষ ভাবে তৈরী করা হয়েছে. তাই এই ৩, ৩+ ও এমনকি চতুর্থ প্রজন্মের রিয়্যাক্টর, যা এখন বানানো হয়েছে ও তার সম্বন্ধে অনেক কথা বিচার ও আলোচনা করে লেখাও হয়েছে, - অর্থাত্ এগুলি একেবারেই অন্য ধরনের রিয়্যাক্টর".

    রাশিয়াতেও পুরানো অর্থাত্ চেরনোবিল কেন্দ্রে যে রকম ব্যবহার করা হতো, সেই রকমের রিয়্যাক্টর রয়েছে. সেগুলিও একটি খোলসের ও ফুটন্ত ধরনের রিয়্যাক্টর. রসঅ্যাটম সংস্থা বর্তমানে সমস্ত পারমানবিক কেন্দ্রেরই পরীক্ষা করে দেখছে. প্রসঙ্গতঃ এর জন্য সারা বিশ্বের সমস্ত পারমানবিক কেন্দ্র যাঁরা চালনা করেন, তাঁদের সংগঠনের লোকেদেরও ডেকে আনা হয়েছে. বর্তমানে ভূমিকম্প সংক্রান্ত গবেষণা করে দেখা হচ্ছে, যাতে বিপর্যয়ের সম্ভাবনাই এড়ানো সম্ভব হয়. রাষ্ট্রীয় সংস্থা থেকে জানানো হয়েছে যে, এই গবেষণার ফলে যদি বোঝা যায় যে, নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য খুবই জটিল সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার আছে, তবে এই রিয়্যাক্টর গুলিকে স্রেফ থামিয়ে দেওয়া হবে. তাছাড়া সমস্ত রুশ পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলিতে বিপর্যয় কালীণ ডিজেল – জেনারেটর ও জলের ভাণ্ডার তৈরী করা হবে. কিন্তু এখানে মূল কথা হল – রসঅ্যাটম বর্তমানে নতুন ধরনের রিয়্যাক্টর ব্যবহার করে আধুনিক পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করার সময় কমিয়ে আনতে চায়. এখানে কথা হচ্ছে একই সঙ্গে দ্রুত নিউট্রন প্রযুক্তির রিয়্যাক্টর স্থাপনের. বেলোইয়ারস্ক জল বিদ্যুত কেন্দ্রে এই ধরনের রিয়্যাক্টর এখনই কাজ করছে, সেখানেই আরও একটি স্থাপনের কাজ চলছে, যেটি আরও শক্তিশালী. কিন্তু এই ধরনের পরিবর্তনের জন্য বেশ কয়েক বছরের প্রয়োজন, এই কথা উল্লেখ করে ওলেগ দ্ভোইনিকভ বলেছেন:

    "চিন্তা করে দেখুন, বহু অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে. আজ এটা এক বারে সমস্ত ভেঙে ফেলা সম্ভব নয়, এই সমস্ত যন্ত্র নষ্ট করা যায় না. এটা যুক্তরাষ্ট্রে ও অন্য সমস্ত দেশে ও আমাদের দেশেও বহু এলাকায় বিদ্যুত শক্তি সরবরাহ করে, তাই এটা একই রকমের ব্যাপার. প্রযুক্তি পাল্টানো, রিয়্যাক্টর বদল করা, এই সবই চলবে ধারাবাহিক ভাবে, ধীরে. কারণ এখানে অর্থ খরচ করতে হয় প্রচুর, শুধু তাই নয়, কর্মীদের প্রশিক্ষণেও অনেক অর্থের প্রয়োজন. তাই অবশ্যই সব হবে পরম্পরা মেনে, "ফুকুসিমা" সকলকেই জায়গা মতো বসিয়ে দিয়েছে. বুঝিয়ে দিয়েছে যে, পারমানবিক শক্তির সঙ্গে কৌতুক করা খুবই খারাপ ব্যাপার".

    পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নিয়ে রসঅ্যাটম সংস্থার বিশেষজ্ঞরা যে সমস্ত আধুনিক প্রকল্প গুলি তৈরী করছেন, তা আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের ভাষায় একেবারেই নিরাপদ. পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে যে, এই গুলি নয় অঙ্কের ভূমিকম্প ও ১৪ মিটার উচ্চতার ঢেউ সহ্য করতে পারে.