জাতিসংঘ যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংঘের(সিএসটিও) সাথে পারষ্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চাচ্ছে।জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংঘের মহাসচিব নিকোলাই বারদুজেইয়ের সাথে মিলিত সাক্ষাতকারে যৌথ উদ্দোগে মাদক ও সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং সেই সাথে শান্তি-স্থিতিশীল পরিবেশ গঠনের ৩টি প্রস্তাব দিয়েছেন।বান কি মুন তার পূর্ব ইউরোপে সফরসূচির কার্যক্রমের অংশ হিসাবে রাশিয়া এসেছেন।

মস্কোতে বান কি মুনের সফর তেমন গুরুত্ব বহন করছে না,তবে সিএসটিও পরিদর্শন যা ঐতিহাসিক ঘটনার সৃষ্টি করেছে।সাক্ষাতের শুরুতে সিএসটিও’র মহাসচিব নিকোলাই বারদুজ উল্লেখ করেছেন যে,বিদেশী সহকর্মীদের আমন্ত্রন জানানো হবে।সত্যিকার অর্থে,২০ বছরেরও বেশী সময়ের পূর্বে আজকের এই সিএসটিও ছিল ন্যাটোর বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের উদ্দোগে প্রতিষ্ঠিত ইউরোপের  সমাজত্রান্তিক দেশের সামরিক জোট ‘বার্শাবস্কি চুক্তি’র সদর দপ্তর।সংস্থাটি সামরিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন প্রশ্নের সমাধানের জবাবদিহিতা করে।সদর দপ্তরে দ্বিপাক্ষিক কার্যকরী সম্পর্ক ও সংস্থার সদস্য দেশসমূহ তথা-রাশিয়া,আর্মেনিয়া,বেলারুশ,কাজাকিস্তান,কিরগিজস্তান,তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানের মধ্যে পারষ্পরিক সামরিক মহড়া আয়োজনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।তাই জাতিসংঘের মহাসচিবের আগমন যা তাকে সিএসটিও’র শুধমাত্র আঞ্চলিক  কার্যক্রমই নয় বরং আন্তর্জাতিক পরিরিধিতে সংস্থাটির প্রভাব বৃদ্ধির বিষয়টি অনুধাবন করতে সহায়তা করবে।

জাতিসংঘ ও সিএসটিও’র মধ্যে যৌথ কার্যক্রমের মধ্যে আফগানিস্তানের মাদক পাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে অপারেশন ‘চ্যানেল’ হিসাবে নামকরন করা যেতে পারে।বান কি মুনের ভাষায়,বর্তমানে মাদক চোরাচালান বানিজ্য যা প্রকট আকার ধারন করেছে।তিনি আস্থার সাথেই উল্লেখ  করেন যে, সংঘবদ্ধ থেকে শুরু করে মাদক বিক্রি পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই মাদক পাচাররোধে সংগ্রাম করা উচিত।এই ক্ষেত্রে আগ্রহশীল সবার সাথেই সম্পর্ক তৈরী করতে হবে,ঠিক যেমন রাষ্ট্রের সাথে,তেমনি অনুরুপভাবে বেসরকারি সংস্থার সাথে কাজ করতে হবে।

যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংঘের মহাসচিব নিকোলাই বারদুজ আগামী পথে এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানান।তিনি বলছেন,জাতিসংঘের নীতিমালার সাথে রাজনৈতিক সম্পর্ককে কার্যকরী করার গুরুত্ব অনেক এবং একই সাথে সন্ত্রাসবাদ,রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে।আমাদের জন্য এই প্রশ্নাবলী প্রধান গুরুত্বের তালিকায় রয়েছে।আজ শুধুমাত্র কোন সাধারণ ঘোষণা ছিল না।আমরা সত্যিকারের সম্পর্ক তৈরীর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছি।জাতিসংঘের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তৈরীর কাঠামাগত কাজের জন্য খুব শিঘ্রই সিএসটিও’র একটি প্রতিনিধি দল নিউইয়র্ক সফর করবে।

জাতিসংঘ ও যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংঘের মধ্যেকার সম্পর্কের অন্যান্য গুতুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রসমূহের একটি হচ্ছে-শান্তি প্রতিষ্ঠার সংলাপ।সম্প্রতি সিএসটিও নিজেদের ‘নীল মুখোশ’ শীর্ষক যৌথ শান্তি প্রতিষ্ঠার শক্তি গঠন করে।যারা জাতিসংঘের শান্তিবাহিনীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যৌথভাবে কাজ করতে পারে।সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত কার্যক্রমকে তা আরও বেগবান করতে সাহায্য করবে।নিজের দেওয়া বক্তব্যে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেন,সন্ত্রাসবাদ যা মারাত্বক হুঁশিয়ারি প্রদান করছে এবং তা সামরিক শক্তি দিয়ে জয়ী লাভ করা যায় না।জাতিসংঘের রয়েছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দমনে কৌশলগত কার্যক্রম এবং আমরা আশা করছি যে,সিএসটিও’র অংশগ্রহনে তা পূর্ণতা লাভ করবে।পারষ্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ একই সাথে দুইটি কাজ করতে পারবে।সামগ্রিক অর্থে  পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় জাতিসংঘ বিশ্বস্ত সহযোগি ও সাহায্যকারী সংস্থা পাবে।পক্ষান্তরে,যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংঘ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বাড়তি সমর্থন পাবে।