লিবিয়াতে পশ্চিমের জোটের স্থলপথে অনুপ্রবেশের শুরু – এখন নিকট ভবিষ্যতের বিষয়. রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের নিকট ও মধ্য প্রাচ্য বিভাগের ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের নিরাপত্তা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ এই রকমের ধারণা পোষণ করেন.

    রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি লিবিয়ার পরিস্থিতি পরিবর্তন নিয়ে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছেন:

    "আমি মনে করি যে, আগামী দুই তিন দিন বাদেই স্থলপথে অনুপ্রবেশ করা সম্ভবপর হবে না. আমি মনে করি এখানে খুব কম করে হলে এক সপ্তাহের কথা হচ্ছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাও বোধহয় এই স্থলপথে অনুপ্রবেশের বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত দিতে যাবে না. এই প্রশ্নের জটিলতা বৃদ্ধির কারণ হল যে, দেখা যেতে পারে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও সেই সমস্ত আরব দেশগুলি, যারা দাবী করছে যে লিবিয়ার প্রতিপক্ষের সমর্থক পশ্চিমের দেশ গুলির সাথে স্থলপথে অনুপ্রবেশ শুরু করা দরকার, এদের মধ্যে একটা মত পার্থক্য দেখা যেতে পারে. আমি মনে করি যে, আমেরিকা শেষ অবধি বিষয়টিকে দীর্ঘায়িত করার প্রচেষ্টা করবে. আর পশ্চিমের প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকেরা কি পথ নেবে তা অনুমান করা কঠিন".

    আরও সাবধান হয়ে মূল্যায়ণ করেছেন রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ভিতালি নাউমকিন, তিনি বলেছেন:

    "ক্ষুদ্র মাপের স্থলপথে অনুপ্রবেশ এর মধ্যেই শুরু হয়েছে. এক উত্তেজনা বৃদ্ধির পথে তা ছোট সমস্ত পদক্ষেপ করে চলছে. আজ দেখাই যাচ্ছে যে, এমন এক সময় এসেছে যখন আরও বড় মাপের অংশগ্রহণের দরকার. আর আমার মনে হয়েছে যে, রাষ্ট্রসংঘের সিদ্ধান্ত ছাড়াই স্বল্প সংখ্যক সেনা প্রয়োগ করা হতে পারে. সম্পূর্ণ ভাবে সেনা বাহিনী নামিয়ে দেওয়া এখন সম্ভবপর হবে না, কারণ তা হলে এর জন্য নিরাপত্তা পরিষদের অনুমতির দরকার হবে. আর সেই ধরনের সিদ্ধান্ত নেই, আমি মনে করি আজ এই রকমের সিদ্ধান্তে ভোট দেওয়ার মত কেউ তৈরী নেই".

    এর আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ পশ্চিমের দেশ গুলিকে এই ধরনের স্থলপথে অনুপ্রবেশের বিষয়ে সাবধান করে দিয়ে বলেছেন:

    "লিবিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে বিগত সময়ের পরিবর্তন আমাদের হর্ষ বর্ধন করে নি. এটা বিরোধকে স্থলপথে পরিস্কার আরও বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা. আমরা মনে করি এই ধরনের পদক্ষেপ খুবই বিপজ্জনক, যার ফলাফল আগে থেকে অনুমানের অযোগ্য. আমরা সমস্ত পক্ষকেই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নেওয়া সিদ্ধান্তের কথা ও তার নিগূঢ় অর্থ মেনে চলতে আহ্বান করছি, আর এই সিদ্ধান্তের কাঠামোর বাইরে যেতে নিষেধ করছি, যার মানে হল শান্তিপ্রিয় জনগনের নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য লিবিয়ার আকাশকে উড়ান বন্ধ এলাকাতে পরিনত করা".

    এই ঘোষণা ঠিক তার পরের দিনই করা হয়েছিল, যেদিন গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইতালি তাঁদের সামরিক প্রশিক্ষকদের লিবিয়ার প্রতিপক্ষ দের কাছে পাঠানোর ঘোষণা করেছিল. ইউরোপের রাজধানী গুলিতে ভরসা দেওয়া হয়েছে যে, এই সামরিক অফিসারেরা প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশ নেবে না, বরং লিবিয়ার লোকেদের গুপ্তচরের কাজ ও রসদ জোগান দেওয়ার কাজ করতে শেখাবে. কিন্তু এর অর্থ হল গৃহযুদ্ধের সময়ে বাস্তবে এটাকেই বলা যেতে পারে যুদ্ধের কাজে "বুদ্ধি" দিয়ে প্রতিপক্ষের দলে যোগ দেওয়া.

    তাছাড়া বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, ন্যাটো জোটের সামরিক বিশেষজ্ঞদের লিবিয়ায় উপস্থিতি শুধু ঘোষিত কাজ কর্মেই শেষ হবে না. শুধুশুধুই তো আর রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের মানবিক প্রশ্নাবলী বিষয়ে সহকারী ভালেরি আমোস রাষ্ট্রসংঘের কনভয়ের জন্য জোট থেকে  সশস্ত্র রক্ষী বাহিনী দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি করেন নি. তাঁর কথামতো, এটা রাষ্ট্রসংঘের কর্মচারীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকির কারণ হতে পারে. তাছাড়া বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, যদিও পশ্চিম থেকে বাহ্যিক ভাবে মানবিক সাহায্য পাঠানোর কনভয় রক্ষা করার কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে এটা সেই সমস্ত লোকেদের সঙ্গে যুদ্ধে পরিনত হতে পারে, যারা এই মাল পাঠানোতে বাধা দিতে পারে. আর যদি পশ্চিমী দেশের কোন সৈনিক বা রাষ্ট্রসংঘের কোন কর্মচারী মারা পড়ে, তবে সেটা স্থলপথে অনুপ্রবেশের জন্য একটা দোহাই হবে.

0    লিবিয়াতে ন্যাটো জোটের অংশীদার দেশ গুলি ও তার মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় ভাবে ঘোঁট পাকানো ফ্রান্স ও গ্রেট ব্রিটেন খুবই ঢাক পেটাচ্ছে যে, তারা সামরিক অনুপ্রবেশ করতে চায় না. কিন্তু এরই মধ্যে আলজিরিয়ার সংবাদ পত্র "আল- হাবাব" যে রকম জোর দিয়ে বলেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে আলজিরিয়ার প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব করেছে, তারা যেন লিবিয়াতে অনুপ্রবেশের সম্ভাব্য পরিণতি সম্বন্ধে নিজেদের মূল্যায়ণ আমেরিকানদের জানায়. অংশতঃ এখানে পেন্টাগনের আলজিরিয়ার মতের প্রয়োজন পড়েছে যে, লিবিয়াতে অনুপ্রবেশ করা হলে তা "আল- কায়দা" দলের উত্তর আফ্রিকাতে অবস্থান কতটা জোরালো করবে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আলজিরিয়ার সহকর্মীদের কাছে আরও জানতে চেয়েছে যে, সম্ভাব্য স্থলপথে অনুপ্রবেশে তাদের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়া যাবে কি না. এখানে কথা হচ্ছে আলজিরিয়ার আকাশ পথে ন্যাটোর বিমান বাহিনীর জন্য রাস্তা পাওয়ার ও তারই সঙ্গে আহতদের বের করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সাহায্য. আপাততঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লিবিয়ার আকাশ পথে নিজেদের দুটি পাইলট বিহীণ বিমান উড়িয়েছে. পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে সেই গুলির ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা থেকে বলা যেতে পারে যে, এই পাইলট বিহীণ বিমান থেকে জমিতে থাকা লক্ষ্যে রকেট বর্ষণই শুধু করা যায় না, গুপ্তচর বৃত্তিও করা যায়. এখানে এই ধারণা বাদ দেওয়া যায় না যে, এই আকাশ পথ থেকে পাওয়া তথ্য সেই সমস্ত পশ্চিমের প্রশিক্ষকরাও পাবেন, যাদের এখন লিবিয়াতে পাঠানো হচ্ছে.