রাশিয়াতে এক সারি পুরানো পারমানবিক শক্তি কেন্দ্র ও রিয়্যাক্টর থামিয়ে দেওয়া হবে. রসঅ্যাটম ও রসটেখনাদজোর সংস্থা ঠিক করেছে পুরনো পারমানবিক রিয়্যাক্টর গুলিকে পরীক্ষা করে দেখা হবে. যদি এই পরীক্ষার ফলে প্রমাণ হয় যে, এই গুলি চালু রাখতে গেলে খুবই জটিল বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার আছে, তবে সেগুলি বন্ধ করা হবে. এই বিষয়ে সেন্ট পিটার্সবার্গের আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি বিষয়ক সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়েছে.

রাশিয়া খুবই গোড়ার থেকে পারমানবিক শক্তি বিষয়ে বিকাশের স্ট্র্যাটেজি বদল করছে. এখানে কথা হচ্ছে নতুন গুলিকে দ্রুত তৈরী করার ও সেগুলিকে আরও নিরাপদ পারমানবিক শক্তি কেন্দ্রে পরিনত করার এবং দ্রুত গতি সম্পন্ন নিউট্রন কণা ব্যবহার করার রিয়্যাক্টর দিয়ে আধুনিক করার. এতদিন পর্যন্ত রসঅ্যাটম সংস্থা পুরানো পারমানবিক রিয়্যাক্টর গুলিকে পরিষেবার মাধ্যমে মেয়াদ বাড়ানোর কাজ করেছে.

নতুন পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলিতে দূর্ঘটনা কালীণ ডিজেল চালিত বিদ্যুত উত্পাদনের জেনারেটর যোগ করা ও প্রয়োজনীয় পরিমানে জলের ভাণ্ডার তৈরী করা হবে. কারণ জাপানের ফুকুসিমা – ১ পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে ডিজেল চালিত জেনারেটর বিকল হয়ে যাওয়া ও তার ফল হিসাবে রিয়্যাক্টর ঠাণ্ডা করার মতো জলের অভাবে বিপর্যয় ঘটেছে. রাশিয়ার নতুন পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্প গুলি ৯ অঙ্কের ভূমিকম্প ও ১৪ মিটার উঁচু সুনামির ঢোউ সহ্য করার মতো ক্ষমতা রাখে বলে রসঅ্যাটম সংস্থার প্রধান সের্গেই কিরিয়েঙ্কো বলেছেন:

“শুধু নতুন নিরাপদ পারমানবিক কেন্দ্র তৈরী করলেই হবে না, এগুলি দ্রুত তৈরী করাও দরকার, যাতে আগের প্রজন্মের কেন্দ্র গুলির, যেমন জাপানের ফুকুসিমা – ১ কেন্দ্র, যা আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে তৈরী হয়েছে, সেই গুলির বিকল্প হিসাবে এই গুলি কাজে লাগতে পারে. এই গুলিকেও ঘাটতি পূরণ করে বর্তমানের নিরাপত্তা নিয়মের শর্ত অনুযায়ী ঠিক করা চলতে পারে, কিন্তু ঠিক হবে নতুন কেন্দ্র তৈরী করা”.

রাশিয়ার পারমানবিক কেন্দ্র সারা বিশ্বের ব্যবহারিক বাস্তব অনুযায়ী, বিদেশী বিশেষজ্ঞদের কড়া নজরের আওতায় রয়েছে. রসঅ্যাটম সংস্থায় ভরসা দেওয়া হয়েছে যে, সমস্ত রিয়্যাক্টর গুলিই বর্তমানের বিশ্বের সমস্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবী মেটাতে সক্ষম. আর সমস্ত নতুন তৈরী হওয়া কেন্দ্রের ক্ষেত্রে চারটি স্তরে নিরাপত্তা বাধা রাখা হয়েছে. তার মধ্যে – বিকীরণকে ধরে রাখার ফাঁদ ও দ্বিস্তর কংক্রীটের প্রতিরক্ষা মূলক আবরণ রয়েছে. কিন্তু রাশিয়াতে এখনও বেশ কিছু রিয়্যাক্টর কাজ করে চলেছে, যা প্রায় তিরিশ বছর আগে তৈরী করা হয়েছিল, - “ফুকুসিমা” কেন্দ্রের প্রায় সমসাময়িক. সেই গুলি সম্ভাব্য কারণেই বিপজ্জনক, এই কথা মনে করেন বিখ্যাত রুশ পরিবেশ বিশেষজ্ঞ আলেক্সেই ইয়াবলোকভ, তিনি আবার বলেছেন:

“অবশ্যই সেই সমস্ত রিয়্যাক্টর গুলিকে বন্ধ করা দরকার, যাদের প্রকল্পের মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে. যে সমস্ত কেন্দ্রের মেয়াদ ছিল তিরিশ – চল্লিশ বছর, সেই গুলির মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়াটা একটা মাথা খারাপ করার মতো ব্যাপার হয়েছিল. এটা খুবই বিপজ্জনক. এইগুলিকে বাতিল করা দরকার যেমন জার্মানীতে করা হয়েছে “ফুকুসিমা” কেন্দ্রের পরে”.

0 জার্মানীতে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়াতে সেখানে শক্তি সমস্যা তৈরী হয়েছে. রাশিয়া ধীরে ধীরে পুরানো রিয়্যাক্টর গুলিকে বাতিল করার পক্ষে, আর সেই সব জায়গা যেখানে পারমানবিক কেন্দ্র ছিল, তা “সবুজ ঘাসে ঢাকা মাঠে” পরিনত করা হবে.