রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সমস্ত দেশকে একত্রে পারমানবিক সন্ত্রাসের মোকাবিলা করার আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত বহাল করেছে. এই দলিল তৈরী করার কাজে সাতটি দেশ অংশ নিয়েছে, তার মধ্যে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে. এই দলিলে বিশেষ কমিটিকে আরও দশ বছর কাজ করার মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা কালো বাজার কে লক্ষ্যে রাখে ও সেখানে গণহত্যার অস্ত্র আসাকে নিরোধ করে.

এই বিশেষ কমিটি ২০০৪ সালে তৈরী করা হয়েছিল. তার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল – যে কোন ধরনের গণহত্যার অস্ত্র প্রসারের পথ বন্ধ করা: পারমানবিক, জৈব ও রাসায়নিক অস্ত্র. কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে বিগত বছর গুলিতে বেশী করে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে পারমানবিক দ্রব্যের প্রতি. এটা এই ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদীদের হাতে এই ধরনের অস্ত্র পৌঁছনোর সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছে. রাষ্ট্রসংঘ আপাততঃ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ ভালো করে করতে পারছে না, এই কথা “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন রাজনীতিবিদ কনস্তানতিন সিমোনভ, তিনি বলেছেন:

“এটা রাষ্ট্রসংঘের কাজ ছিল – যাতে বিশ্বে পারমানবিক অস্ত্র কিছুতেই উদ্ভূত ও প্রসারিত না হয়. কিন্তু দেখুন, বিগত বছর গুলিতে কি হয়েছে. পারমানবিক বোমা ভারত পেয়েছে, পাকিস্তান পেয়েছে. ইরান তাদের কাছে পারমানবিক অস্ত্র রাখার বিষয়ে এগিয়েছে. উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে তো আমরা হাত গুনতে বাধ্য হয়েছি যে, তাদের কাছে পারমানবিক বোমা আছে না নেই”.

এই কমিটির কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া ও নির্দেশ করা যে, রাষ্ট্রসংঘ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সাথে লড়াই করতে সক্রিয় হয়েছে – এটা বিনা শর্তে বলা যেতে পারে যে ইতিবাচক বিষয়. আর আগামী দশকে এটাই বিশেষ কমিটির একটি মুখ্য কাজ হওয়া দরকার, এই কথা মনে করে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংগঠনের সন্ত্রাস বিরোধী বিভাগের কর্তা ভ্লাদিমির লুত্সেঙ্কো বলেছেন:

“সন্ত্রাসবাদ – যে পক্ষ যুদ্ধ করছে না তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ভাবে উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে একেবারে চরম শক্তি প্রয়োগ করা, অর্থাত্ শান্তিপ্রিয় জনগনের বিরুদ্ধে. যদি পারমানবিক দ্রব্য অথবা যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তবে তা হবে – ভয়ঙ্কর ও বিপর্যয়ের সমান. কিন্তু আপাততঃ স্বস্তির বিষয় হল, পারমানবিক দ্রব্য সন্ত্রাসবাদীদের হাতে নেই. আমাদের মনোযোগ বাড়িয়ে খেয়াল করতে হবে যাতে পারমানবিক দ্রব্য তাদের হাতে না পৌঁছায়. সন্ত্রাসবাদ – এটা খুবই ভয়াবহ রোগ, যা ক্যানসারের কোষের মত সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে. তার সঙ্গে সংগ্রাম করা সম্ভব শুধু একত্রিত ভাবে. একক শাস্তি প্রদানের বিচারসভা থাকা প্রযোজন. সরাসরি কার্যকর এই ধরনের আইন প্রণয়নের প্রয়োজন আছে”.

একই সময়ে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি তাদের উপরে ন্যস্ত দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হচ্ছে না. তার চেয়ে বেশী কার্যকর অল্প কিছু দেশের জোটের একসাথে কাজ করা. এই ভাবে পারমানবিক দ্রব্যের প্রসার রোধে সবচেয়ে বেশী কার্যকর হতে পারে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত প্রয়াস, এই কথা উল্লেখ করে কনস্তানতিন সিমোনভ বলেছেন:

  “সম্ভবতঃ প্রয়োজন হচ্ছে আজকের দিনের সবচেয়ে শক্তিশালী পক্ষকে আলাদা করার নীতি নেওয়া প্রযোজন, যারা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের মোকাবিলা করার জন্য সফল ভাবে লড়াই করতে আগ্রহী. তারা আরও ছোট সংস্থা বানাতে পারে, নিজেদের আইন রক্ষা সংস্থাগুলির মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে পারে ও একত্রে কাজ করতে পারে, একেবারে প্রতিটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে”.

রাষ্ট্রসংঘের সিদ্ধান্তে বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই বিশেষ কমিটির কাজ হবে শুধু সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই ও দেশ গুলির মধ্যে বৈজ্ঞানিক – প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় তা বাধা হয়ে দাঁড়াবে না, অংশতঃ, শান্তিপূর্ণ পারমানবিক শক্তি বিষয়ে বিকাশের ক্ষেত্রে.