২০২০ সালের মধ্যে বার্ষিক জাতীয় আয়ের সূচকে রাশিয়া বিশ্বের পাঁচটি উন্নততম দেশের মধ্যে থাকবে, ফ্রান্স ও ইতালির মত দেশ গুলিকে পার হয়ে. রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন এই ঘোষণা করেছেন. তিনি রাশিয়ার লোকসভায় প্রশাসনের বার্ষিক কাজকর্মের ফলাফল নিয়ে বক্তৃতা দিতে গিয়ে এই কথা বলেছেন. লোকসভার সামনে মন্ত্রীসভার কাজের বিবরণ দেওয়ার ঐতিহ্য বর্তমানে – বেশী দিনের নয়. মাত্র তিন বছর আগে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে রাশিয়ার সংবিধানে এই রকমের একটি সংশোধন গৃহীত হয়েছে. ২০০৯ সালে প্রথম কাজের বিবরণ দেওয়া হয়েছিল ও তাতে দেশে সঙ্কট নিবারণে কি করা হয়চ্ছে, তা বলা হয়েছিল. গত বছরে পুতিন লোকসভাতে বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট অতিক্রম করার জন্য কি করা হয়েছে তা বলেছিলেন. বর্তমানের বিবরণকে বাস্তবে দেশে সঙ্কট উত্তর কালে উন্নতির সম্পূর্ণ এক পরিকল্পনা বলা যেতে পারে. এই পরিকল্পনার আলোচনা. প্রশাসন প্রধানেপর বিবরণ পাঠ ও তার পরে লোকসভা সদস্যদের প্রশ্নোতত্র সব মিলিয়ে রেকর্ড চার ঘন্টা সময় ধরে করা হয়েছে.

প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুয়ায়ী আগামী দশ বছরে – দেশে শ্রম থেকে উত্পাদনের হারকে দ্বিগুণ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, আর অর্থনৈতিক ভাবে মুখ্য শিল্পক্ষেত্রে তা বাড়িয়ে তিন – চার গুণ করা হবে. জানাই আছে যে, রাশিয়াতে এই মুখ্য সূচকটি খুব একটা উঁচু স্তরের নয়. এই সূচকের উন্নতি ও অন্যান্য আরও নানা ব্যবস্থা দেশের জাতীয় মোট বার্ষিক আয়ের পরিমান বাড়িয়ে জনপ্রতি বছরে ৩৫ হাজার ডলারের সমান করবে. এই ধরনের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ভাবেই বাস্তব মনে করে রাজনৈতিক প্রযুক্তি কেন্দ্রের উপ সভাপতি সের্গেই মিখিয়েভ বলেছেন:

“পুতিন এই বিষয়ে একশো ভাগ প্রতিশ্রুতি দেন নি. তিনি বলেছেন যে, এটা সম্ভব. কিন্তু শুধু সম্ভব দেশের শ্রমের থেকে উত্পাদনের হার বাড়লে তবেই, যা তিনি উল্লেখ করেছেন প্রয়োজনীয় বলে. অর্থনীতিকে জোর দিয়ে আবার শিল্প নির্ভর করতে পারলে ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি কে কাজে লাগালে তবেই. নীতিগত ভাবে এটা সম্ভব. যদিও মনে রাখতে হবে য়ে, এটা আমাদের লক্ষ্য ও তার দিকে চলতে হবে এবং তা বহু রকমের বিষয়ের সঙ্গে জড়িত”.

রাশিয়া আজ খুবই স্থিতিশীল উন্নতি প্রদর্শন করেছে ও প্রসাসনের উচিত্ এর সুযোগকে কাজে লাগানো, এই কথা রেড়িও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে উল্লেখ করেছেন রাজনীতিবিদ দিমিত্রি অরেশকিন, তিনি বলেছেন:

“এটা বাজার নির্ভর অর্থনীতির সংশোধনের ফল ও আমাদের মূল রপ্তানী যোগ্য মালের দাম বিশ্বের বাজারে ভাল মিলছে বলেই বলা যেতে পারে. সেটা খুব একটা কম কথা নয়. যদি এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকে ও খনিজ তেলের দাম বাড়তেই থাকে অথবা স্থিতিশীল ভাবে বেশীতেই থেমে থাকে, যেমন এখন রয়েছে, তবে যা পুতিন বলেছেন, তা সহজেই করা সম্ভব. যদিও তিনি ঠিকই বলেছেন যে, আমাদের উচিত্ হবে অর্থনীতিতে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির পথে উন্নতি করার প্রয়োজন রয়েছে ও শ্রমের বিনিময়ে আরও উত্পাদনের হার বাড়ানো দরকার”.

ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়ার অর্থনীতি সঙ্কট মুক্ত হয়ে ক্ষতিপূরণ করে ফলবে আর এক বছরেরও কম সময়ে. দেশের মানব সম্পদ ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতাকে কাটানো ও সামাজিক জীবন যাত্রার মানকে অবনয়নের হাত থেকে রক্ষা করার কাজ রাশিয়ার সমাজের সার্বিক প্রচেষ্টার ফলেই সম্ভব হয়েছে. ২০১০ সাল দেখিয়েছে – সঙ্কট আমাদের দেশে সমস্ত দিকেই হার মানতে বাধ্য হয়েছে: শিল্প ও বিনিয়োগ থেকে শুরু করে কাজের বাজার পর্যন্ত.

প্রধানমন্ত্রী রাশিয়ার প্রযুক্তগত উন্নয়নের আরও একটি নতুন মোড় ফেরানোর জন্য আহ্বান করেছেন ও “বুদ্ধিমান” বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের জন্য পরিবেশ প্রস্তুত করতে বলেছেন. তাছাড়া আগামী দশ বছরে অর্থনীতির পরিকাঠামোগত ভিত্তি তৈরী করা হবে. তাঁর মতে, এছাড়া অন্য কোন পথ নেই. প্রসঙ্গতঃ, শুধু সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ রাশিয়াতে ৬০ থেকে ৭০ বিলিয়ন ডলারে উন্নত করার কথা হয়েছে ও তা আরও বৃদ্ধি করার কথা বলা হয়েছে. বিনিয়োগ আকর্ষণ বহু বিষয় নির্ভর. এই কথা উল্লেখ করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ সংস্থার প্রধান দিমিত্রি অরলভ বলেছেন:

“সামগ্রিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মনোনয়নের বিষয় থেকে, দেশের বিচারসভা কি রকম করে কাজ করে ও কি করে এই দেশে মূলধন বিনিয়োগ করা যেতে পারে, ইত্যাদি বিষয়ে বিচার করলে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবেশের কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী যে মাত্রায় বিনিয়েগের কথা বলেছেন তা সম্পূর্ণ ভাবেই বাস্তব. কিন্তু এটা এমন একটি কাজ, যার সমাধান করার প্রযোজন রয়েছে. বিনিয়োগ – এটা দেশের বাজেটে খনিজ তেল বেচার অর্থ নিয়ে আসা নয়”.

প্রশাসনে বিশ্বাস জন্মেছে যে, বর্তমানে গুণগত ভাবে উন্নত বিনিয়োগের জন্য দেশে সমস্ত রকমের ব্যবস্থা রয়েছে. বহু বড় বিশ্বের সংস্থা রাশিয়ার বাজারের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে, কারণ দেশের ভিত্তি মূলক অর্থনৈতিক সূচক গুলি স্থিতিশীল উন্নতি দেখাতে পেরেছে. বিদেশী বিনিয়োগ তহবিলের জন্য বহু সহস্র কোটি ডলার দেওয়া হচ্ছে, তার মধ্যে খনিজ তেল ও গ্যাস থেকে পাওয়া অর্থও রয়েছে. আর সব মিলিয়ে রাশিয়ার শেয়ার বাজার বর্তমানে মোট মূলধনে এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে. ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে উন্নতির হার হয়েছে রেকর্ড সমান.

এখানে উল্লেখ করার দরকার রয়েছে যে, তাঁর বক্তৃতার সময়ে ভ্লাদিমির পুতিন বিদেশে রাশিয়ার ব্যবসায়ের সুরক্ষার প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন. এই বিষয় বর্তমানে অতি বাস্তব হয়েছে উত্তর আফ্রিকায় জনগনের বিক্ষোভের ঢেউ আসাতে. যে সমস্ত বাজারে রাশিয়ার কোম্পানী গুলি ঐতিহ্য মেনেই সামরিক শিল্প ক্ষেত্রে শক্তিশালী ছিল. প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়ার প্রশাসন তাদের সাহায্য করার জন্য প্রযোজনীয় অর্থ খুঁজে দেবে, এমনকি যদি এর জন্য বাজেট অতিরিক্ত অর্থের প্রযোজন হয়, তাহলেও.

রাশিয়ার কোম্পানী গুলি এই এলাকার অস্ত্র বাজারে কতথানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা বিচার করা কঠিন বলে ইতালির রাজনীতিবিদ জুলিয়েত্তো কিয়েজা বলেছেন:

“দেখাই যাচ্ছে যে, সেখানে সবকটি দেশেরই স্বার্থ ও আগ্রহ ছিল, রাশিয়াও তাদের দলে পড়়ে. তাই আজকের দিনে এই সমস্যা সমস্ত দেশের প্রশাসনের জন্যই রয়েছে – কারণ এই বিক্ষোভ চালু রয়েছে ও থাকবে. সম্ভবতঃ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে রাশিয়ার প্রশাসনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সহায়তা”.

পুতিনের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হল রাশিয়ার মন্ত্রীসভা এই বছরে বাজেট ঘাটতির পরিমান অনেকটাই কমিয়ে আনবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে – ১০ থেকে মাত্র দেড় শতাংশ. আর ভবিষ্যতে চেষ্টা করবে ঘাটতি বিহীণ বাজেট করার, যা অর্থনীতিকে সম্ভব্য বিপদের ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে পারবে. অংশতঃ, এই বিষয়ে সাহায্য করবে দেশের মুদ্রার নিরূপণ যোগ্য মূল্য ও ইতিবাচক বাণিজ্য ক্ষেত্রে লাভ.

অর্থনীতি ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে সাহায্য বৃদ্ধি, ব্যবসায়ীদের সহায়তা ও কার্বণ যৌগের রপ্তানী নির্ভরতা থেকে দেশকে মুক্ত করার সঙ্গে প্রশাসন দেশের একটি অত্যন্ত নেতিবাচক ঘটনা – দুর্নীতির সঙ্গে লড়াই করতেও সক্রিয় হবে. কারণ তা পুতিনের মতে, “আমাদের পিছনের দিকে টানছে ও সমাজকে মূল্যবোধ হারাতে সাহায্য করছে”. এই জটিল গ্রন্থিকে কাটতে পারলেই, দেশ আধুনিক হওয়ার জন্য নতুন শক্তি অর্জন করবে.