"ফুকুসিমা -১" দূর্ঘটনার পরে গত দেড় মাস ধরে একাধিকবার প্রশ্ন করা হয়েছে  বর্তমানের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলি কি নিরাপদ হতে পারে? চেরনোবিল পারমানবিক কেন্দ্রের দূর্ঘটনার ২৫ বছর পূর্তির দিনে বিশ্বে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে ইতিবাচক.

"যাতে চেরনোবিল শহরের উপরে আকাশ আবার মেঘমুক্ত হয়" – কিয়েভে আয়োজিত পারমানবিক শক্তি নিরাপদ ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি সম্বলিত ভাবে ব্যবহার নিয়ে শীর্ষবৈঠকে বক্তাদের মূল সুর ছিল এই রকমই. দাতা দেশ গুলির পক্ষে ৫৫ কোটি ইউরো যোগাড় করা সম্ভব হয়েছে, যা দিয়ে চেরনোবিলের রিয়্যাক্টরের উপরে নতুন করে ঢাকনা লাগানো যায়. এই শীর্ষবৈঠকের মূল প্রশ্ন ছিল – নূতন বিপর্যয় নিরোধ করা. জাপানের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র "ফুকুসিমা – ১" এর পরে এই প্রশ্নের বাস্তবতা আরও বেশী করে উপলব্ধি করা সম্ভব হয়েছে.

চেরনোবিল ও ফুকুসিমা বিপর্যয়ের ফল – বিশ্বব্যাপী, আর আজ শান্তি পূর্ণ পারমানবিক শক্তির ব্যবহারের মূল প্রশ্নগুলিকে নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন আছে. এই কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব বান কী মুন বলেছেন:

"জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারমানবিক নিরাপত্তার নিয়ম গুলিকে একেবারে শুরু থেকে নতুন করে দেখার প্রয়োজন হয়েছে. এখানে প্রধান হওয়া উচিত্ পারমানবিক শক্তি ব্যবহারের জায়গার নিরাপত্তা. এই প্রসঙ্গে স্বচ্ছতার স্তর হওয়া উচিত্ আরও উন্নত, যাতে মানুষের বিশ্বাস পাওয়া সম্ভব হয়. আমাদের আন্তর্জাতিক স্তরে নির্মাণের বিষয়ে একটি মান তৈরী করা দরকার, যা নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেবে, সমস্ত দেশের মধ্যে স্বচ্ছ ও সম্পূর্ণ ভাবে তথ্য বিনিময়ে সাহায্য করবে".

রাষ্ট্রসংঘের প্রধানের মতে বর্তমানে প্রাকৃতিক পরিস্থিতির উপরে রিয়্যাক্টরের কাজ করা নির্ভর করছে. পারমানবিক শক্তি কেন্দ্রের প্রাকৃতিক বিপর্যয়  - ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড, ঝড় ইত্যাদি সহ্য করার ক্ষমতা থাকতেই হবে, বর্তমানে সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের সম্ভাবনার কথাও ভেবে দেখতে হবে. বান কী মুন খুবই ছোট অথচ বহু অর্থবহ এক ফরমুলা তৈরী করেছেন: বাইরের প্রভাব থেকে নিরাপত্তা হল জনগনের নিরাপত্তার সমান.

আজ বিশ্বে ৬২টি পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করা হচ্ছে. সব মিলিয়ে ৪৪৩ টি পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র রয়েছে. তাদের মধ্যে এমন অনেক রয়েছে, যা ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে রয়েছে.

রাশিয়া বিশ্বে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরীর বিষয়ে নেতৃস্থানীয় দেশ. পারমানবিক শক্তি – বর্তমানের প্রযুক্তির উন্নতি করার জন্য এক চালিকা শক্তি, এই কথা উল্লেখ রাশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী ইগর সেচিন বলেছেন:

"পারমানবিক শক্তি কেন্দ্রের দূর্ঘটনা স্বত্ত্বেও আমরা বিশ্বাস করি যে, আণবিক শক্তির উন্নতি করা উচিত ও তা হবে. রাশিয়ার কোন সন্দেহ নেই যে, আজকের দিনেও শান্তিপূর্ণ পারমানবিক শক্তি  - জ্বালানী শক্তি পাওয়ার বিষয়ে একটি অত্যন্ত লাভজনক উত্স. অবশ্যই এখানে প্রকল্প গঠন, নির্মাণ ও ব্যবহারের সময়ে সমস্ত রকমের নিয়ম ও নীতি অনুসরণ করা দরকার. পারমানবিক শক্তি ছাড়া সারা মানব সমাজের শক্তির চাহিদা নিয়ে যে দাবী রয়েছে তা পূরণ করা সম্ভব হবে না".

রাশিয়ার জন্য আজকের দিনে প্রাথমিক কাজ হবে চালু পারমানবিক কেন্দ্র গুলিতে অত্যন্ত চরম পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা সম্বন্ধে পুনর্মূল্যায়ণ করে দেখা. দেশের সমস্ত পারমানবিক শক্তি কেন্দ্রগুলিতেই আপত্কালীণ পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে:

"আমরা আমাদের পারমানবিক কেন্দ্র গুলিতে ১৪ মিটার উঁচু সুনামি ও ৯ অঙ্কের ভূমিকম্প ও আরও নানা রকমের চরম অবস্থা হলে কি হতে পারে তা নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছি. আমরা প্রমাণ পেয়েছি যে, রাশিয়ার প্রযুক্তিতে তৈরী রিয়্যাক্টর সমস্ত রকমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে তৈরী ও সমস্ত ব্যবস্থাকেই দূর্ঘটনা এড়ানোর মত গ্যারান্টি দিতে পেরেছে. আমরা মনে করি জুলাই মাসের আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সম্মেলনে সমস্ত দেশই তাদের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলির আপত্কালীণ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করুক. আমরা এটা করতে তৈরী".

রাশিয়ার পারমানবিক কেন্দ্র গুলির প্রযুক্তিগত ভরসা যোগ্যতার প্রমাণ লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রুস কুবিলিউস শোনেন নি. কিয়েভ সম্মেলনে তিনি রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ ও বেলোরাশিয়াতে পারমানবিক শক্তি কেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন. ইগর সেচিন এই সম্বন্ধে মন্তব্য করে বলেছেন যে, "দুঃখের বিষয় হল যে, যদি লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী, যিনি সমালোচনা করে মন্তব্য করেছেন, তিনি এখন সম্মেলনের ভবন ছেড়ে না চলে যেতেন, তবে তিনি সেই সমস্ত সর্বাধুনিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গুলি নিয়ে শুনতে পারতেন, যা লিথুয়ানিয়া দেশের কাছে কালিনিনগ্রাদে বাল্টিক পারমানবিক কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প অবস্থাতেই নেওয়া হয়েছে". খুবই তাড়াতাড়ি তিনি লিথুয়ানিয়ার সহকর্মীদের কাছে সমস্ত তথ্য পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন.

কিয়েভের শীর্ষ সম্মেলনে আরও একবার এই ধারণা উচ্চারণ করা হয়েছে যে, প্রাকৃতিক বিপর্যয় মানব সমাজের প্রযুক্তির উন্নয়নকে রোধ করতে পারে না ও পারবেও না. কিন্তু এই ঘটনা থেকে প্রযোজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার. এর উপরেই আগামী কালের পৃথিবীর আর্থিক ও সামাজিক উন্নতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নির্ভর করছে.