বিশ্বের নেতৃস্থানীয় অর্থনীতিবিদদের ভাল ভবিষ্যদ্বাণীর ভাণ্ডার ফুরিয়ে গিয়েছে. বিশ্ব ব্যাঙ্ক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিশেষজ্ঞরা বলছেন বিশ্ব এখন নতুন সঙ্কটের প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে. সব কিছুর মূলে – সার্বভৌম ঋণ, ঋণের সুদ বৃদ্ধি ও উন্নতিশীল দেশগুলির অর্থনীতি অতিরিক্ত ভাবে উত্তপ্ত. এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগের জন্য আগ্রহোদ্দীপক দেখতে লাগছে রাশিয়াকে, এই কথা বিশ্বাস করেন অর্থমন্ত্রকের প্রধান আলেক্সেই কুদরিন. তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অর্থনীতির সূচক অনুযায়ী দেশ ইউরোপের বহু অর্থনীতির চেয়ে ভাল অবস্থাতেই রয়েছে.

    কবে একটা উচ্চারিত তত্ত্ব "রাশিয়া – স্থিতিশীলতার দ্বীপ" আবার নতুন করে সমর্থন পেয়েছে. বহু ব্যঙ্গোক্তি স্বত্ত্বেও একমাত্র রাশিয়ার অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় বাজেটের অবস্থাই দেখতে পাওয়া গেল বিশ্বের বহু শুধু উন্নতিশীল নয়, এমনকি উন্নত দেশের থেকেও ভাল. উপ প্রধানমন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রী আলেক্সেই কুদরিন উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে দেশে সরকারের ঋণ, জাতীয় গড় উত্পাদনের মাত্র ১১ শতাংশ. তুলনামূলক ভাবে ইতালির এই সূচক বর্তমানে শতকরা একশো ভাগ ও জাপানের – ২০০ ভাগেরও বেশী. কুদরিনের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে উন্নত দেশগুলির ঋণ শতকরা একশো ভাগের বেশী হয়ে যাবে. এটা খুবই বিপজ্জনক এলাকা, বিশ্বের অর্থনীতির বাজার গুলির জন্য খুবই অস্বস্তিকর জায়গা. একই রকমের বিষণ্ণ রঙে বিশ্বের ভবিষ্যত অর্থনীতিকে চিত্রিত করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিনিয়োগ পরিষদের সভাপতি তর্মন সম্মুগারত্নম:

    "ঋণের বোঝা ও অতিরিক্ত রকমের উত্তপ্ত অর্থনীতি গুলির সম্মিলিত দ্রুত বৃদ্ধি, আর তার সঙ্গে দ্রব্য সরবরাহ খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি, এই সবই খুব একটা ভাল ভাবে মূল্য বৃদ্ধিতে প্রভাব বিস্তার করছে না. তার সঙ্গে সুদের হার বাড়তে পারে, আর তা হতে পারে সারা বিশ্ব জুড়ে".

    রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়, আলেক্সেই কুদরিনের ভাষায় দেশের রিজার্ভ ফান্ডে গ্রীস ও আয়ারল্যান্ডের সরকারি ঋণপত্রকে এর মধ্যেই তালিকা থেকে বাতিল করে দিয়েছে. মস্কোতে খুবই মনোযোগ দিয়ে পুরনো দুনিয়াতে কি হচ্ছে তা দেখা হচ্ছে, যাতে ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়. তার সঙ্গে কুদরিন বিনিয়োগকারীদের তরফ থেকে রাশিয়ার সরকারি ও কর্পোরেশন গুলির শেয়ারে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখতে পাচ্ছেন. আর এই সবই দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে বলে হতে পেরেছে. কুদরিন ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, দেশের বাজেট ঘাটতি ছাড়াই হতে পারে, যদি খনিজ তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারের মত থাকে. তারই সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান আরও একবার বিনিয়োগকারীদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সরকার দেশের আভ্যন্তরীণ বাজারে খনিজ তেল বিক্রয় থেকে পাওয়া ডলারের স্রোতকে আটকে রাখতে চান, যাতে মুদ্রাস্ফীতি রোধ করা সম্ভব হয়.

    মূল্যবৃদ্ধি ও ক্রয় ক্ষমতার অভাবই একটি প্রধান কারণ, যা বিশ্বের অর্থনীতিকে বিপজ্জনক করে তুলেছে, এই বিষয়ে স্থির বিশ্বাস নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ডিরেক্টর ডোমিনিক স্ত্রস কান বলেছেন:

    "এটা ঠিক যে, খাবার জিনিস ও জ্বালানীর দামের উপরে প্রভাব ফেলা সম্ভব, কিন্তু মূল্যবৃদ্ধির বিপদ এখন অনুভূত হচ্ছে, কারণ বেশীর ভাগ উন্নতিশীল দেশই তাদের উন্নয়নের সীমার কাছে পৌঁছেছে. আর বর্তমানে তাদের অতিরিক্ত অর্থনৈতিক উত্তাপ সম্পূর্ণ ভাবেই বাস্তব".

   বিশ্ব ব্যাঙ্ক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিশেষজ্ঞদের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী বিশ্বের অর্থনীতিকে নতুন সঙ্কটের মুখে ফেলতে পারে যে কোন ঘটনা. ইউরোপের কোন একটা দেশের সার্বভৌম ঋণের ক্ষেত্রে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া থেকে নিকট প্রাচ্য বা উত্তর আফ্রিকার বৈপ্লবিক ঘটনার একটি নতুন মোড়, যাই হোক না কেন. এই ক্ষেত্রেই "বড় কুড়িটি" দেশ এই সমস্ত অশান্ত এলাকার দেশ গুলিকে অর্থ সাহায্যের পরিমান বৃদ্ধি করা নিয়ে চিন্তা করছে, যাতে দ্রুত পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল করা যায়.