"ফুকুসিমা -১" দূর্ঘটনার পরে রাশিয়ার পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলিতে আপত্কালীণ পরীক্ষা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, রাশিয়ার কেন্দ্র গুলি নিরাপদ. এই বিষয়ে রাশিয়ার "রসঅ্যাটম" কোম্পানীর প্রধান সের্গেই কিরিয়েঙ্কো কিয়েভে চেরনোবিল পারমানবিক কেন্দ্রের দূর্ঘটনার ২৫ বছর উপলক্ষে আয়োজিত এক সম্মেলনে ঘোষণা করেছেন.

সের্গেই কিরিয়েঙ্কো বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়ার নতুন প্রজন্মের পারমানবিক কেন্দ্র গুলি জাপানের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র "ফুকুসিমা – ১" এর পরিস্থিতির মত অবস্থাও সহ্য করতে সক্ষম. রসঅ্যাটম সংস্থার প্রধান বলেছেন যে, নতুন প্রযুক্তি দিয়ে তৈরী রিয়্যাক্টর গুলি সমস্ত রকমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুযায়ী তৈরী, তাই তিনি যোগ করে বলেছেন:

"পারমানবিক কেন্দ্রের নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব. কিন্তু এর অর্থ নয় যে, আমরা ফুকুসিমা থেকে শিক্ষা না নিয়ে বলবো যে, আমাদের আধুনিক পারমানবিক কেন্দ্র গুলি এটা সহ্য করতে পারবে. যদিও এটা সত্য. আমরা এর মধ্যেই সেই পরিস্থিতির মডেল করে দেখেছি. যদি রাশিয়ার পারমানবিক রিয়্যাক্টর "ফুকুসিমা" কেন্দ্রে থাকত তবে তা ৯ অঙ্কের ভূমিকম্প ও ১৪ মিটার উচ্চতার ঢেউ অনায়াসে অসীম সময় পর্যন্ত সহ্য করতে পারত. রাশিয়ার কেন্দ্র গুলি সমস্ত আন্তর্জাতিক ও নিয়ম ও মানের সঙ্গে তুলনীয়. কিন্তু আমরা তাও আরও এগিয়ে যাচ্ছি ও "ফুকুসিমা" দূর্ঘটনার পরে বলছি, যে আরও কড়া করতে হবে নিয়ম কানুন. নতুন কেন্দ্র গুলি সমস্ত রকমের ধারণা করা যেতে পারে এমন প্রয়োজনের উপযুক্ত".

রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা আজ বলছেন যে, শান্তিপূর্ণ আণবিক শক্তির বিকাশ করা উচিত্ হবে সম্পূর্ণ নতুন নীতির উপর নির্ভর করে. আণবিক শক্তি উত্পাদন ভূমিকম্প ও অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বিষয়ে খুবই নির্ভরযোগ্য. কিন্তু বাস্তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের "থ্রিমাইল আইল্যান্ড", চেরনোবিল ও "ফুকুসিমা" দেখিয়েছে যে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে ও তা ঘটে থাকে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার গ্যাস সমিতির প্রেসিডেন্ট ভালেরি ইয়াজেভ বলেছেন:

"নতুন প্রজন্মের স্বাভাবিক নিরাপত্তা যুক্ত পারমানবিক কেন্দ্র ব্যবহার করার সময় এসেছে, যেখানে রিয়্যাক্টর গুলি হবে প্রকৃতি থেকে উদ্ভূত বড় ধরনের দূর্ঘটনার থেকে নিরাপদ, শুধু যান্ত্রিক ব্যবস্থা ব্যবহার করেই তা করা হবে না. রাশিয়াতে এই ধরনের রিয়্যাক্টরের ধারণা ও প্রকল্প ইতিমধ্যেই করা হয়েছে. বর্তমানে রিয়্যাক্টর গুলিতে দূর্ঘটনার কারণে ঠাণ্ডা করার জন্য স্বাভাবিক ভাবেই নিষ্ক্রিয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে".

"ফুকুসিমা" কেন্দ্র থেকে পাওয়া দ্বিতীয় শিক্ষা – ব্লক গুলি একে অপরের খুব কাছে না হওয়া দরকার. এর ফলে একটি রিয়্যাক্টরের বিস্ফোরণ অন্য গুলিতে কাজ করতে দেয় নি. ভালেরি ইয়াজেভ মনে করেছেন যে, পারমানবিক কেন্দ্রের কর্মীদের কঠিন বিপর্যয়ের সময়ের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার, যা "ফুকুসিমা" কেন্দ্রে করা হয় নি ও সমস্ত রুশ কেন্দ্র গুলিতে স্থায়ী ভাবে করা হয়ে থাকে. তৃতীয় শিক্ষা – জাপানের পারমানবিক কেন্দ্রকে পুনরায় তৈরী করা দরকার নতুন প্রকল্প ও নতুন নিয়ম মেনে, আর পুরানো গুলিকে আবার করে পরীক্ষা করে দেখা দরকার, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার পারমানবিক বৈজ্ঞানিক বুলাত নিগমাতুলিন বলেছেন:

"নতুন রিয়্যাক্টর গুলিতে এমনকি প্রবল সুনামি ঢেউ আসলেও তার বাড়ী ও সমস্ত ব্যবস্থা এই ধাক্কা সহ্য করার ক্ষমতা রাখে. ব্যবহৃত জ্বালানীর ভাণ্ডার – এটা ১৭০০ টন – প্রথম কেন্দ্র থেকে সরিয়ে নিয়ে দূরে "দ্বিতীয় ফুকুসিমা" কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া দরকার, যাতে এমনকি বাঁধ ভেঙে পড়লেও, তা বিপজ্জনক এলাকায় না থাকে. সবচেয়ে জটিল প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার. এই ধরনের ব্যবস্থা অন্যান্য জায়গাগুলিতেও নেওয়া দরকার – চিনের মহাসমুদ্র সংলগ্ন তীর অঞ্চলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, সর্বত্র, যেখানেই মহাসমুদ্রের কাছে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র রয়েছে. তার ওপরে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে এমনিতেই শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে".

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, এই ধরনের সংস্থা, যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমানবিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা, বর্তমানে খুবই কঠোর সমস্ত সিদ্ধান্ত তৈরী করছে ও এই সমস্ত কেন্দ্রের মালিকদের পারমানবিক কেন্দ্রের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করছে. একই সময়ে সেই সমস্ত দেশে, যেখানে আজ রাশিয়া কাজ করছে, তাদের পারমানবিক কেন্দ্র নিয়ে পরিকল্পনায় কোন রকমের পরিবর্তন ঘোষণা করে নি. প্রাথমিক ভাবে মুখ্য সহকর্মী দেশ গুলি – ভারত ও চিন, এই কথা উল্লেখ করেছেন সের্গেই কিরিয়েঙ্কো. চিনে সদ্য শেষ হওয়া ব্রিকস শীর্ষ বৈঠকের সময়ে আবার করে সমর্থন করে বলা হয়েছে যে: পারমানবিক শক্তি প্রকল্পের উন্নয়নের পক্ষে কোন রকমের পরিবর্তন করা হবে না.