ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ তাঁর প্রধান কাজ হিসাবে ভারত – পাকিস্তান সম্পর্ক স্বাভাবিক করাকে আখ্যা দিয়েছেন. তিনি বলেছেন – "আমার পদত্যাগ করার আগে, আমি মনে করবো যে, আমার কাজ ভাল করে করা হয়েছে, যদি ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে". বিষয়টিকে বিশদ করেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    এই রকম কথা বলতে হলে শুধু ইতিবাচক মানসিকতার লোক হলেই চলে না, তার সঙ্গে দূরদর্শী ও জ্ঞানী রাজনীতিবিদ হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে. ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে মুম্বাই শহরে পাকিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদীদের হামলার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক বলা যেতে পারে ঠাণ্ডা ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল, শান্তি আলোচনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, পারস্পরিক ভরসা, এমনিতেই যা ছিল খুবই কম, তা আরও কমে গিয়েছিল. অবশ্যই এই ধরনের পরিস্থিতি ২০১৪ সালে দেশের লোকসভা নির্বাচনের আগে ভারতের সরকারের কাছে পছন্দসই হতে পারে না. আর সব দেখে বুঝে মনে হয়েছে যে, পাকিস্তানেরও সীমান্তের কাছে শত্রু দেশ থাকার বদলে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব করাই মঙ্গল. তাই শক্তিশালী পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতিকে আমূলে পাল্টে দেওয়াই দরকার. ডঃ মনমোহন সিংহ এটা পেরেছেন. তিনি "ক্রিকেট দৌত্য" কে আবারও ব্যবহার করেছেন, যা আগেও ভারত পাকিস্তানের সম্পর্ককে একটা কানা গলিতে আটকে পড়া অবস্থা থেকে উদ্ধার করেছে. তিনি তাঁর সহকর্মী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে ক্রিকেট বিশ্বকাপের সেমি ফাইনাল ম্যাচ দেখতে নিমন্ত্রণ করেছিলেন. আর খেলার পরে বেসরকারি আবহাওয়াতে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে.

    মনমোহন সিংহের ইউসুফ রেজা গিলানিকে ভারতে নিমন্ত্রণ করাকে রাশিয়ার বিজ্ঞানী ও ভারত গবেষক তাতিয়ানা শাউমিয়ান মনে করেছেন ঠিক কাজ করা হয়েছে, তাই তিনি বলেছেন:

    "দুই দেশের মধ্যে বহু বিতর্কিত বিষয়ে সমাধান না হওয়া স্বত্ত্বেও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাকিস্তানের সহকর্মীকে আমন্ত্রণ জানানো একটা ইতিবাচক কাজ হয়েছে. এত বছর ধরে বিরোধের পরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ খুঁজতেই হবে. তাকে একটা সভ্য কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে হবে. পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল, ভারতের সঙ্গে বিরোধ সেটাকে আরও জটিল করে তুলছে. ভারতের ভাল হয় নিজেদের সীমানার পারে শত্রুর পরিবর্তে সুপ্রতিবেশী পেলে. দুই দেশের বিরোধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি আলোচনার টেবিলে বসতে পারলেই ভালো".

    ভারত ও পাকিস্তানের নেতাদের সাক্ষাত্কারের পরে দুই দেশের সম্পর্ক ভাল দিকে মোড় নিচ্ছে. দুই দেশের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ছে. অংশতঃ এই বছরের জুলাই মাসে ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক হবে. দুই দেশের সরকারের মধ্যে "হট লাইন" চালু হতে চলেছে ২৪ ঘন্টা চালু থাকতে পারে এমন ভাবে. পাকিস্তান এমনকি রাজি হয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কর্মীদের পাকিস্তানে ধরা পড়া "লস্কর এ তৈবা" দলের কিছু লোককে সওয়াল করার. দিল্লীর মতে এই সওয়ালের উত্তরে ২০০৮ এর মুম্বাই হামলার সম্বন্ধে আরও জানা সম্ভব হবে.

    এক কথায় প্রথম আগে বাড়ার পা ফেলা হয়েছে. হিন্দী ও উর্দু ভাষায় এটাকে যে ভাবে বলা যেতে পারে তার রুশী অনুবাদ "বরফ গলতে শুরু করেছে". আর ভগবান করুন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা যেন পূরণ হয়.