রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ মনে করেন যে, স্কুল পড়ুয়াদের মাদকাসক্তির বিষয়ে পরীক্ষা করার জন্য দেশে আইন প্রণয়নের প্রয়োজন রয়েছে. সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক শহরে সোমবারের জাতীয় সভার শীর্ষ সম্মেলনে যুব সমাজের মধ্যে মাদকাসক্তির সমস্যার অগ্রিম সাবধানতা নিয়ে মূল আলোচনা করা হয়েছে. এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত করা হয়েছে: যে রকম ঘোষণা করা হয়েছে তাতে মাদকাসক্তিকে দেশের পক্ষে বাস্তব জাতীয় নিরাপত্তার বিপদ বলে উল্লেখ করা হয়েছে.

    বিশ্বে বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি লোক মাদক ব্যবহার করছে – এই রকমের তথ্য দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রসংঘ থেকে. দিমিত্রি মেদভেদেভ এই সম্মেলনে উল্লেখ করেছেন যে, বেশীর ভাগ সভ্য দেশকেই এর সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে. রাশিয়াতে এই বছরের শুরুর তথ্য অনুযায়ী সরকারি ভাবে সাড়ে ছয় লাখ লোককে মাদকাসক্ত বলে নথিভুক্ত করা হয়েছে. কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, এই সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেশী: প্রায় কুড়ি থেকে পঁচিশ লক্ষ লোক. প্রসঙ্গতঃ ৭০ ভাগ মাদকাসক্ত লোক – যুব ও তিরিশ বছরের কম বয়সী. তার থেকেও খারাপ খবর আছে: রুশ নাগরিক, যারা জীবনে প্রথম মাদকের স্বাদ নিয়েছে তাদের বয়ঃসীমা ১১ -১২ বছর.

    রাষ্ট্রপতির মতে, বর্তমানের পরিস্থিতিতে স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে সারা দেশে মাদক ব্যবহার বিষয়ে পরীক্ষা করার প্রয়োজন আছে. আর সেই কারণেই নতুন রাষ্ট্রীয় আইন গ্রহণ করার দরকার. বোঝাই যাচ্ছে যে, এই ধরনের পরীক্ষা শুধু আইনগত ভাবেই নয়, মূল্যবোধ বিষয়েও সমস্যা. সমস্ত বাবামায়েরাই এর সঙ্গে একমত হতে পারছেন না. কেউ মনে করেছেন এই পরীক্ষা হল এক রকমের ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ. কিন্তু যাঁরা নিজেদের জীবনে ছেলেমেয়েদের নষ্ট হয়ে যাওয়া ও তারপরে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন, তাঁরা এই ব্যবস্থার প্রয়োজন উপলব্ধি করতে পেরেছেন.

    বিগত কিছু কাল ধরে প্রসার লাভ করেছে সেই সমস্ত মাদক দ্রব্য, যা সহজেই যোগাড় করা যায় এমন সব জিনিস থেকে তৈরী করা যায়, যেমন, দোকানে বিক্রী করা হয় এমন ওষুধ. আর এক্ষেত্রে সংবাদ মাধ্যম কিছু কম সহায়তা করছে না. এই কথা বলেছেন স্বয়ং রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ:

    "আমি 'ইয়ানডেক্স' সার্চ এঞ্জিনে খোঁজ করে দেখলাম, প্রথমেই যা উত্তরে আসছে, তা হল: "ডেজামরফিন কি করে তৈরী করতে হবে". খোঁজ করে উত্তর পাওয়া ব্যাপারটা নিজে কোন অপরাধ নয়, আইন ভঙ্গও নয়. কিন্তু সাইট গুলিতে তথ্য আগে থেকেই এক ধরনের অপরাধের জন্য পরিস্থিতি তৈরী করে দিচ্ছে. আর যদিও আমি নিজেই সব সময়ে ইন্টারনেটের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে আসছি, তবুও মনে করি যে, যখন পরিস্কার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, আইন ভঙ্গ করা হচ্ছে, তখন সার্ভিস প্রভাইডারের সমস্ত রকমের ক্ষমতা রয়েছে এই ধরনের সাইট বন্ধ করে দেওয়ার. আমাদের বলা হবে যে: আমাদের এখানে বন্ধ করা হবে, আর দেশের বাইরে তখন খুলবে, কিন্তু এই সবই হল অলস দের দোহাই মাত্র. বন্ধ করা দরকার".

     সত্যই সংবাদ মাধ্যম মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে লড়াইতে যেমন ইতিবাচক তেমনই নেতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারে. কেউ হয়ত সাইট বন্ধ করার ব্যাপারটা কে বাক স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে বলে মনে করতে পারেন. কিন্তু জ্ঞান বুদ্ধি সম্পন্ন লোকেরা অপরাধকে স্বাধীনতার থেকে পার্থক্য করতে জানেন, এই কথা উল্লেখ করে "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া সাক্ষাত্কারে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের রাজনৈতিক অনুসন্ধান কেন্দ্রের প্রধান বরিস শ্মেলেভ বলেছেন:

    "প্রতিদিন এই লড়াই করা দরকার, খুবই শক্ত হয়ে. তার মধ্যে সংবাদ মাধ্যমও রয়েছে – সেখানে সমস্ত রকমের মাদক দ্রব্যের বিজ্ঞাপণ বন্ধ করা দরকার ও মাদকাসক্তির কুফল ইত্যাদি সম্বন্ধে প্রচার করা দরকার. এখানে প্রশ্ন হল মাদক দ্রব্যের প্রচার করা কি বাক স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে বলে বলা হবে. কিন্তু স্বাধীনতা হল – জেনে বুঝে কোন কিছুর প্রয়োজন বোধ করা, স্বাধীনতা সমাজের ন্যায় ও রাজনীতি চেতনার ভিত্তিকে সাহায্য করে, জাতির স্বাস্থ্য কে রক্ষা করে, তা কখনোই ধ্বংস করার দিকে নিয়ে যায় না".

    প্রশাসনের মনোযোগ বোঝাই যাচ্ছে যে, শুধু প্রাথমিক রক্ষা করার ক্ষেত্রেই দেওয়া হবে না. তাদের জন্যও কিছু করার দরকার, যারা এর মধ্যেই মাদকাসক্ত. জাতীয় সভায় উচ্চারিত হয়েছে যে, মাদকাসক্ত অবস্থায় কৃত অপরাধকে মনোযোগ দিতে হবে বেশী. বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই সেই ধরনের অপরাধীকে বাধ্যতা মূলক ভাবে চিকিত্সা করতে পাঠানো হবে. যারা মাদক প্রসারের কাজে রয়েছে, আর তা ছাড়াও এই কাজে অপ্রাপ্তবয়স্কদের টেনে আনছে, তাদের জন্য অপরাধের শাস্তির মাত্রাকে আরও কড়া করা হবে.