পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র "ফুকুসিমা – ১" এর পরিস্থিতি বছরের শেষ হওয়ার আগে স্বাভাবিক করা হবে. এই আশ্বাস দিয়েছে দূর্ঘটনাগ্রস্ত কেন্দ্রের পরিচালক টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার. কিন্তু কোম্পানীর আগামী নেতৃত্বকেই এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিতে হবে বলে মনে হচ্ছে.

    রবিবারে এই সংস্থার প্রধানেরা নিজেদের উপরে পারমানবিক সঙ্কটের দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন. খুব সম্ভবতঃ এটা গরমের শুরুতেই ঘটবে. একই সঙ্গে নতুন প্রধানমন্ত্রী তাঁর উদ্দেশ্যে করা এক সারি নতুন সমালোচনার সামনে পড়েছেন.

    তাঁর পদত্যাগ দাবী করেছে দেশের বিরোধী পক্ষ. লিবারেল ডেমোক্র্যাট, অংশতঃ প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে নেতা সুলভ কোন গুণের লক্ষণ দেখতে পায় নি, যা দেশকে সঙ্কট মুক্ত করতে পারে. নাওতো কানের উদ্দেশ্যে সমালোচনার ঝড় বইছে তাঁর নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক দলের মধ্যেও. এই দলের প্রাক্তন সভাপতি ইতিরো ওদজাওয়া তাঁর প্রধান রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষকে "ফুকুসিমা" পারমানবিক কেন্দ্রের দূর্ঘটনার পরে "সিদ্ধান্ত নেওয়া ক্ষমতার অভাব", "ঢিলেমিতে অভ্যস্ত" ও "দুর্বল" বলে দোষ দিয়েছেন. সোমবারে এক জনমত সমীক্ষার ফল প্রকাশের পরে দেখা গিয়েছে যে, দেশের শতকরা ৭০ ভাগ জনতা মনে করে যে নাওতো কান সঙ্কটের সঙ্গে পেরে উঠবেন না ও তাঁর পদত্যাগ করা উচিত্. উল্লেখ যোগ্য হল যে, সরকারের প্রতি বিশ্বাসের অভাব মার্কিন রাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টনের সফরে সময়েই শুরু হল. তিনি কয়েক ঘন্টার জন্য উড়ে এসেছিলেন জাপানের নেতাদের প্রতি আস্থা জ্ঞাপন করতে ও তাঁদের উত্সাহ দিতে.

    এরই মধ্যে সোমবার জাপানের প্রতিরক্ষা দপ্তর নতুন করে ফুকুসিমা পারমানবিক কেন্দ্রের লাগোয়া তিরিশ কিলোমিটার সমুদ্র তীরে সুনামি ও ভূমিকম্পে মৃতদের দেহ উদ্ধারের কাজ শুরু করেছে. এই সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে ও বর্তমানে ১৩ হাজার আটশো লোক হয়েছে, আর নিখোঁজ লোকের সংখ্যা এখন ১৪ হাজার একশো.

    একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা রিয়্যাক্টর গুলিতে নতুন ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থা লাগাতে শুরু করেছেন. সেগুলি তেজস্ক্রিয় জলকে পরিশোধন করে আবার রিয়্যাক্টরে ফেরত পাঠাবে. এর ফলে কেন্দ্রের বাইরে দূষিত জলের বের হওয়ার পরিমান সব থেকে কম করা সম্ভব হবে ও বছরের শেষের মধ্যে রিয়্যাক্টর গুলিকে ঠাণ্ডা করা সম্ভব হবে. এখানে রুশী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সম্ভাবনাও বাদ দেওয়া হচ্ছে না. সেই রকমের সম্ভাবনা বিচার করে দেখা হচ্ছে বলে সোমবার জাপানের সংবাদ মাধ্যমে জানানো হয়েছে. অংশতঃ এখানে কথা হচ্ছে লানদীশ নামে জাহাজটিকে দূষিত তেজস্ক্রিয় তরল পদার্থ পরিশোধনের জন্য. রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের জাপান গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান ভালেরি কিস্তানভ মন করেন যে, জাপানের সহকর্মীরা রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার সমস্ত রকমের সম্ভাবনাকে ব্যবহার করছেন না, তাই তিনি বলেছেন:

    "ফুকুসিমা কেন্দ্রে দূর্ঘটনা জনিত সমস্যার সমাধানের সম্ভাবনা এখনও খুব একটা পরিস্কার নয়, তাই বোধহয় আমাদের উচিত্ খুবই ঘনিষ্ঠ ভাবে সহায়তা করা. রাশিয়া অন্যান্য দেশের তুলনায় এমনকি বেশী করেই সাহায্য করতে পারে, কারণ দুঃখের হলেও চেরনোবিল দূর্ঘটনার পরে তার ফলাফল দূর করার অভিজ্ঞতা রাশিয়ার রয়েছে, তার সঙ্গে রয়েছে ডুবোজাহাজ থেকে পারমানবিক বর্জ্য পদার্থ পরিশোধনের. এই অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি জাপানের জন্য প্রয়োজনীয়. বোধহয়, জাপানের পারমানবিক বিশেষজ্ঞরা যদি রুশ সহকর্মীদের পরামর্শ ও বক্তব্য শুনতেন, তবে তা খুবই কাজের হত. শুধু সেই সমস্ত লোকেরই নয়, যাঁরা পারমানবিক বিদ্যুত উত্পাদন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কাজ করছেন, বরং সেই সমস্ত বিজ্ঞানীদের, যাঁরা বিশ্বে পারমানবিক শক্তি সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে গবেষণায় ব্যস্ত রয়েছেন".

    জাপানের পক্ষ থেকে, অংশতঃ রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের জাপানের এই প্রাকৃতিক ও প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের মূল্যায়ণ আগ্রহজনক হতে পারে. গবেষণা করা হবে সুদূর প্রাচ্যে রুশ ভৌগলিক সমাজকে প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন ১৫ই এপ্রিল যে অনুদান বরাদ্দ করেছেন, তার সহায়তাতেই.

    এখানে উল্লেখ্য যে, বিগত কয়েকদিন ধরে জাপানের পক্ষ সক্রিয়ভাবে বিদেশী বিশেষজ্ঞ ও বিপর্যয়ের ফল দূর করার ক্ষেত্রে বিদেশী প্রযুক্তি ও পদ্ধতির বিষয়ে বেশী করে শুনতে শুরু করেছে. অংশতঃ আমেরিকার সেনাবাহিনীর দেওয়া রোবট ব্যবহার করে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত রিয়্যাক্টরের ভিতরের অবস্থা যাচাই করে দেখার চেষ্টা হচ্ছে. তাছাড়া রবিবারে সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেই জাপানকে পাইলট বিহীণ হেলিকপ্টার কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছে ব্যবহৃত পারমানবিক জ্বালানীর রড বিশেষ জলাশয় থেকে উদ্ধার করার জন্য.