সম্মেলনে কোন সাদৃশ্য নেই,তবে তারা শক্তিধর সহযোগি রাষ্ট্র।চলতি সপ্তাহে চীনের হাইনান এ অনুষ্ঠিত হওয়া ব্রিক সম্মেলন সম্পর্কে পশ্চিমা সংবাদপত্রের অনেক বিশেষজ্ঞরা এমনই মতামত প্রকাশ করেছেন।সত্যিকার অর্থে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঐ দ্বীপে মিলিত হওয়া রাষ্ট্র প্রধানরা শুধুমাত্র আবহাওয়া গত দিক থেকেই ভিন্নতর নয় বরং রাজনৈতিক দিক থেকেও তারা ভিন্ন।তা সত্বেও ব্রাজিল,রাশিয়া,ভারত,চীন ও দক্ষিন আফ্রিকার(ব্রিকস) রাষ্ট্র নেতারা একটি যৌথ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।

পশ্চিমা সংবাদপত্রগুলো তাদের পাঠকদের ব্রিকসের ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত করে যা বিশ্ব পর্দায় পরিচয় পাওয়ার দিনক্ষনের হিসাবের তুলনায় তেমন পিছনের ঘটনা নয়।ব্রিক সংক্ষেপণ শব্দটি ২০০১ সালে ব্যবহার শুরু হয়,যখন উন্নয়নশীল দেশসমূহের বিশ্ব অর্থনীতিতে খুব একটা বিশেষ অবদান ছিল না।তবে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের ভবিষ্যত পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল,২০১৫ সাল নাগাদ এই দেশসমূহে পৃথিবীর মোট জনস্যখ্যার অর্ধেক বসবাস করবে(৩ বিলিয়নেরও বেশি),বিশ্বের অর্ধেক অর্থ মজুদ থাকবে এবং বিশ্ব অর্থনীতির সূচক বৃদ্ধিতে ৬০ ভাগ জোগান দিবে।ফ্রান্সের লে পয়েন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্বস পত্রিকা  ব্রিকস’কে বিশ্ব অর্থনীতির নতুন ইঞ্জিন’ নামে আখ্যায়িত করেছে।উল্লেখ্য,শুরুতে সংস্থাটির নাম ব্রিক হলেও দক্ষিন আফ্রিকার যোগদানের পর একে ব্রিকস নামকরন করা হয়।

 পশ্চিমা অনেক সংবাদপত্রই যেমন,টাইম অথবা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায় যে,বৈসাদৃশ্য দেশ নিয়ে ব্রিকস গঠিত হয়েছে।এই পত্রিকার বিশেষজ্ঞদের বর্ননায় অনেকটা নেতিবাচক সিদ্ধান্ত ফুটে উঠেছে-এমন দেশসমূহের পক্ষে কোন একটি বিষয়ে যৌথ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া কষ্টসাধ্য কাজ।তবে চূড়ান্ত সম্মেলনে অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক তৈরীতে কাঠামোগত চুক্তি সই হয়ছে।৫টি দেশের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মত গৃহিত প্রকল্পে বলা হয়,পারস্পরিক হিসাব-নিকাশ ও ঋন প্রদান করার ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে জাতিয় মূদ্রা ব্যবহার করা হবে।বলা বহুল্য,বিশ্ব অর্থনীতি মার্কিন ডলারের উপর এখন আর নির্ভরশীল নয়, যা হাইনান সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসাবে ধরা হয়েছিল।পশ্চিমা নামিদামী পত্রিকাগুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষনে যা ফুটে উঠেছে তা হচ্ছে,অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রভাবশালী কর্তৃত্ব হারানের ঝুঁকি রয়েছে।মস্কোর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইন্সটিটিউটের প্রফেসর আন্দ্রেই ভালোদিন এমনটাই মনে করছেন।তিনি বলছিলেন,সামগ্রিক আগ্রহের বিষয়টি হচ্ছে,বিশ্ব অর্থনীতির কোলাহল কাটিয়ে উঠে স্বাধীন জায়াগা সৃষ্টি করা।যার জবাব হচ্ছে তাদের স্ট্রাটেজিক আকাঙ্খা এবং ব্রিকস দেশসমূহ একে অপরের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতেই এগিয়ে যাওয়া,কারণ রাজনীতি সমঝোতা ছাড়া সম্ভব নয়।অন্যদিকে ওয়াল স্ট্রিল জার্নাল উন্নত দেশসমূহের অর্থনীতি ও রাজনীতির শীর্ষ প্রভাব হাত ছাড়া হওয়ার  ঝুঁকি বর্ননা করে জানিয়েছে যে,ব্রিকস সংগঠিত  হওয়ার পিছনে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই থাকছে না বরং পৃথিবীর অন্যান্য দেশকে নিজেদের কাতারে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।আন্তর্জাতিক উন্নয়নে শীর্ষ পশ্চিমা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের গুরু্ত্ব নিয়ে এখানেই প্রশ্ন আসবে।ওদিকে চায়না ডেইলি পত্রিকার পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন যে, ৫টি রাষ্ট্রের মিলিত সংস্থা ব্রিকস বিশ্বে নিরাপদ পরিস্থিতি তৈরী করতে পারে।ব্রিকসে’র সদস্য রাষ্ট্রসমূহআফ্রিকা,ল্যাটিন আমেরিকা ও দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ায় সৃষ্টি হওয়া উন্নয়ন বাজারে নিজেদের রপ্তানী পণ্য পাঠাচ্ছে যা সংস্থাটির সদস্যভুক্ত দেশের অর্থনৈতিক সূচক   বৃদ্ধিতে আরও সহায়তা করবে।যাত্রা শুরুর দিকে ব্রিক শুধুমাত্র অর্থনীতি ভিত্তক একটি সংস্থার পরিচয় লাভ করেছিল।যদিও চীনে সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া সম্মেলনে ব্রিকসের নেতারা লিবিয়া বিষয় বিবৃতি প্রদান করেছেন।তারা বলেছেন যে,যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো লিবিয়ার বিভিন্ন  শহরে বোমা হামলার সিমাবদ্ধতা লঙ্গন করেছে, যদিও তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশনে স্বাক্ষর করেছিল।ব্রিকস নেতারা পশ্চিমা মিত্রবাহিনীকে জাতিসংঘের স্বাক্ষরিত নথিপত্র কঠোরভাবে মেনে চলার আহবান জানিয়েছন।সেই অর্থে,পর্যবেক্ষকরা বলছেন যে, ব্রিকস নিজেকে রাজনৈতিক সংস্থা হিসাবে ফুটিয়ে তুলছে।যদিও সেই  বিষয়টি হয়তবা সম্ভবপর, তবে এখনও সুদূর ।