বিশ্ব অর্থনীতি পূর্বের স্থিরবস্থায় ফিরে এসেছে, তবে নতুনভাবে মন্দা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এখনও উজ্জ্বল রয়েছে।শুক্রবার  জি-২০ ভুক্ত দেশসমূহের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় বাংকসমূহের প্রধানরা ওয়াশিংটনে শীর্ষ সাক্ষাতে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছন।

যদিও সামগ্রিকভাবে বিশ্ব অর্থনীতি উন্নয়নের সূচক অনেকটাই ভাল অবস্থানে রয়েছে,যদিও উন্নয়নটা তেমন ধারাবাহিকভাবে হচ্ছে না।সুতরাং,অর্থনৈতিক মন্দা যে পুরোটাই কেটে গেছে তা বলা যাচ্ছে না।এমনটাই জানালেন আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের(আইএমএফ)ব্যাবস্থাপনা পরিচালক দমিনিক স্ট্রোস-কান।তিনি বলছিলেন,বিষয়টি পরিষ্কার যে,নির্ভরতার সাথে অর্থনীতি পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসছে,কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে যে,আমরা অর্থনীতি শুধুমাত্র পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছি না।উন্নতদেশগুলোতে বর্তমানে মূদ্রাস্ফীতি বহাল  রয়েছে যা এমনকি ঐ সব দেশগুলোর বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভারসাম্যমহীনতার সৃষ্টি করেছে।এই জন্যই আমরা বলছি যে,বিশ্ব অর্থনীতির সামগ্রিক অস্থিতিশীলতার সংকেত এখনও অনেক উচুঁতে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের শীথিল ক্ষেত্রসমূহ সনাক্ত করা ও ২০০৮-২০০৯ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পূনরাবৃত্তি না হওয়ার পথ থেকে উত্তরনের জন্য জি-২০ ভুক্ত রাষ্ট্রসমূহ বিশেষ সমৃদ্ধশালী অর্থনীতি ও অস্থিতিশীলতা বিষয়ে গবষনা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।যে সব দেশ সমূহ এই তালিকায় রয়েছে তা হচ্ছে-যুক্তরাষ্ট্র,চীন,জার্মানী,ফ্রান্স ও জাপান।মূলত এই দেশগুলোর অর্থনৈতিক সমস্যাই অন্যান্য দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ন হতে পারে।

গবেষনার ফলাফল আগামী শরতে কান্নাকের জি-২০ সম্মেলনে জানানো হবে।একই সাথে এই সময় সতর্কতা অবলম্বনের জন্য প্রস্তাব তৈরী করা হবে।তবে এ ক্ষেত্রে রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী আলোক্সেই কুদরিন যে সমস্যার কথা বলছেন তা হচ্ছে-এই মূহূর্তে জি-২০ ও বিশ্ব অর্থ তহবিল বেশি মাত্রায় ঐ সমস্ত দেশের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে যারা শিল্প-বাজার প্রক্রিয়াকরণের সাথে যুক্ত।আর সেই ক্ষেত্রে স্বভাবতই অনেক দেশ তালিকার বাইরে রয়েছে।প্রস্তাবনাটি পুরোপুরি সম্পূর্ণ নয়।বিষয়টি বেশ আলোচিত হয়েছে।বিস্তারিত জানিয়েছেন দুমার মূদ্রাবাজার কমিটির সদস্য আনাতোলি আকসাকোভ।তিনি বলছিলেন,যা বিশ্বের শীর্ষ ধনী দেশসহ অনেক দেশই মূদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি সংক্রান্ত সমস্যার সাথে জডিত।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূদ্রাস্ফীতি চরম হারে পৌঁছেছে।মূদ্রাস্ফীতি রয়েছে গ্রিস,পর্তুগাল ও স্পেনেও।তাই সমস্যা সমাধানের জন্য শীর্ষ দেশগুলোকেই এগিয়ে আসতে হবে,যেহেতু তাদের ওপরই অন্যান্য দেশের পরিস্থিতি নির্ভর করছে।প্রথমত জাতিয় বাজেটে ঘাটতির পরিমান কমিয়ে আনতে কঠোর নীতিমালা অনুসরন করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ আরও বলেছেন,শুধুমাত্র কঠোর নীতিমালা অনুসরন করলেই হবে না বরং তা পুরোপুরি অনুসরন করতে হবে।এর অংশ হিসাবে,যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় ধরে লভ্যাংশের অর্থ দিয়ে দেশ পরিচালিত হয়েছে সেখানে জাতীয় বাজেট গত অর্থ বছরের শেষ দিকে ঘোষণা করা হয়েছে।তার মানে হচ্ছে,অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী একটি দেশ পুরো একটি বছরই শুধুমাত্র অস্থায়ী সিদ্ধান্ত দিয়ে কাটিয়েছে।অর্থনীতির উন্নয়নে তা অবশ্য একেবারে খারাপ উদাহরন নয় তবে বিশ্ব অর্থনীতি ও মূদ্রা পদ্ধতির জন্য তা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।জি-২০ সংস্থা ইতিমধ্যে এই বিষয়টি নথিভুক্ত করেছে।আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সম্মেলনে এই প্রশ্নের সঠিক নিয়ন্ত্রনে সবার জন্য সমান ও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।