"নিজাভিসিমায়া গাজেতা" (স্বাধীন সংবাদপত্র) আজ লিখেছে যে, লিবিয়ার অস্থায়ী সরকারের প্রতিনিধি মাহমুদ আওয়াদ শাম্মাম মুহম্মর গাদ্দাফির বিরোধী পক্ষের কাছে অস্ত্রের অভাব বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন. তাঁর কথামতো, মুহম্মর গাদ্দাফির প্রশাসন "রাশিয়ায় তৈরী সর্বাধুনিক অস্ত্র" সরবরাহ পেয়ে চলেছে. অংশতঃ, মাহমুদ আওয়াদ শাম্মাম খুবই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, সমুদ্র পার হয়ে পূর্ব ইউরোপের দেশ গুলি থেকে গাদ্দাফির কাছে রাশিয়া টি – ৯২ ধরনের ট্যাঙ্ক পৌঁছচ্ছে, যা মিসুরাত শহরের যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে.

    লিবিয়ার এই ব্যক্তির ঘোষণা "নিজাভিসিমায়া গাজেতা" তে লেখক বিশেষজ্ঞদের কাছে অবোধ্য ঠেকেছে. বিশ্বে টি – ৯২ নামে কোন ট্যাঙ্ক বাস্তবে নেই (তেমনই নেই টি – ৯ বা টি – ২ ট্যাঙ্ক). আছে টি – ৯০, কিন্তু সেগুলির উত্পাদন বন্ধ. নিঝনি তাগিল শহরের "উরালভাগোনজাভোদ" কারখানা, যারা টি – ৯০ ধরনের ট্যাঙ্ক তৈরী করে, তারা ২০১১ সালের জন্য কোন সরকারি বায়না পায় নি. আর ২০১৩ সালের আগে মনে হয় পাবেও না. তাছাড়া গাদ্দাফির কাছে থাকা বিশাল ট্যাঙ্ক বাহিনী থাকার কারণে, এই বর্তমানে কুখ্যাত লিবিয়ার নেতার কোন রকমের বাড়তি যন্ত্র আমদানি করার প্রয়োজনও নেই.

    প্রসঙ্গতঃ শাম্মাম কৃত উক্তির ভাষান্তর মূল ইউরোপের ভাষা গুলিতে, যা ইউরো নিউজ নেট সাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে খুবই তফাত দেখা যাচ্ছে. ইংরাজী ভাষান্তরে লেখা হয়েছে "পূর্ব ইউরোপের দিক থেকে সমুদ্র তীর বরাবর সব জায়গা একেবারে উন্মুক্ত, আর সে (গাদ্দাফি) রুশ ট্যাঙ্ক টি – ৯, টি – ২ কিনে আনছে, যা মিসুরাত শহরে ব্যবহার করছে". ফরাসী ভাষান্তরে, ইতালিয় ভাষার মতই ট্যাঙ্কের কোন মডেল নম্বর লেখা হয় নি. এমনকি আপাতঃ নিখুঁত জার্মান ভাষাতেও কোন সত্যের হদিস পাওয়া গেল না.

    তাছাড়া রাশিয়া বিনা অর্থে অস্ত্র দেয় না. শুধুমাত্র অগ্রিম পেলে তবেই. "রসআবারোনএক্সপোর্ট" কোম্পানীর সঙ্গে আগে চুক্তির প্রয়োজন, শুধু এই সংস্থাই অস্ত্র বিদেশে বেচার অধিকার রাখে. বাইরে অস্ত্র পাঠানোর পদ্ধতিও খুবই জটিল ও তাতে বহু সরকারি লাল ফিতের ফাঁস রয়েছে. প্রায় চল্লিশটি সংস্থার কাছ থেকে লাইসেন্স পেতে হয়. এখানে ভুললে চলবে না যে, রাশিয়া গাদ্দাফি প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সামিল হয়েছে.

    পূর্ব ইউরোপের দেশ গুলির মধ্যে রাশিয়া ছাড়া আর কারও কাছে টি – ৯০ ধরনের ট্যাঙ্ক নেই. একমাত্র যে দেশে এই ট্যাঙ্ক পাঠানো হয়ে থাকে – তা ভারত. আর আলজিরিয়ার সঙ্গে ২০০৬ সালে চুক্তি করা হয়েছিল ১৮০ টি ট্যাঙ্ক বেচার. পরে দুটি আলাদা চুক্তিতে এর সংখ্যা ৩০০ অবধি বাড়ানো হয়েছে. যা ২০১১ সালের আগে পাঠানো হবে. কিন্তু ২০০৯ সাল থেকেই আলজিরিয়ার চুক্তিতে কি ধরনের অস্ত্র ট্যাঙ্কে থাকবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে, আর এখন অবধি পাওয়া তথ্য অনুযায়ী "উরালভাগোনজাভোদ" এই ধরনের ট্যাঙ্ক তৈরী করা এখনও শুরুই করে নি.

    তাছাড়া রাশিয়া যখন অস্ত্র বিক্রী করে, তখন খুবই শক্ত শর্ত প্রযোগ করে যে, এই অস্ত্র তৃতীয় কোন দেশকে দেওয়া যাবে না. সুতরাং আলজিরিয়ার সেনা বাহিনী গাদ্দাফিকে এই ট্যাঙ্ক দেয় নি. পূর্ব ইউরোপের ওয়ারশ চুক্তির সমস্ত দেশই বর্তমানে ন্যাটো জোটের সঙ্গে শামিল, তারাও গাদ্দাফিকে ট্যাঙ্ক দেবে না. থাকছে শুধু সোভিয়েত পরবর্তী কালের দেশগুলি – ইউক্রেন, বেলোরাশিয়া, মলদাভিয়া.

    কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ণে, গত ২০ বছরে তারা যা পেরেছে, তা এর মধ্যেই বেচে দিয়েছে. আর ওদের কাছে যা রয়েছে তা ১৯৯০ সালের আগে তৈরী. এগুলি টি – ৫৪, টি – ৬২ ও টি – ৭২. যা আধুনিকীকরণ না করার ফলে বাস্তবে ও মানের হিসাবে তাদের তৈরীর দিন থেকে প্রায় ২৫ – ৩০ বছরের পুরনো. এই ধরনের ফালতু জিনিস উন্নতিশীল দেশগুলির বাজারে ১০০ থেকে ৫০০ হাজার ডলারে, এমনকি ৫০ থেকে ৭০ হাজার ডলারেও কখনো মেলে.

লিবিয়ার বিরোধীপক্ষ খারাপ যুদ্ধ করছে. তাদের মধ্যে কোন নিয়মানুবর্তীতা নেই, যোগাযোগ নেই, প্রশিক্ষণ বাজে ও তাদের এমনকি রসদ যোগানের ব্যবস্থাও খারাপ. মিসুরাত শহরের কাছে রুশ ট্যাঙ্ক সম্বন্ধে ঘোষণা সম্ভবতঃ তাদের হেরে যাওয়াকে ব্যাখ্যা করতে করা হয়েছে. কিন্তু এখানে সবচেয়ে মুখ্য বিষয় হল – এটা পশ্চিমের দেশ গুলিকে বিরোধী পক্ষের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে দাবী জোরালো করছে. আর যেহেতু লিবিয়ার বিরোধী পক্ষ সেই সমস্ত অস্ত্র ব্যবহার করতে জানে না, সুতরাং প্রয়োজন পড়বে অস্ত্রের সাথে প্রশিক্ষক পাঠানোর, যন্ত্র পরিষেবার লোক পাঠানো, পরামর্শ দাতা পাঠানোর. বড় করে দেখলে, এখানে কথা হচ্ছে ইউরোপের লোকেদের গাদ্দাফির বিরুদ্ধে পদাতিক যুদ্ধে টেনে আনার. তার জন্য প্রয়োজন পড়েছে মস্কোর হাত ও বাস্তবে অনুপস্থিত টি – ৯২ ট্যাঙ্কের.