হাইনান দ্বীপের পুরনো জেলে পাড়া বোয়াও ধীরে হলেও "এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দাভোসে" পরিনত হচ্ছে. এই খানেই বিগত দশ বছর ধরে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সমাকলন প্রক্রিয়া নিয়ে কথা হচ্ছে. প্রসঙ্গতঃ এটা প্রাথমিক ভাবে করে থাকেন অঞ্চলের নেতৃত্ব. এই বারে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ, চিনের সভাপতি হু জিনটাও, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি এখানে এসেছেন, সঙ্গে আছেন বহু বড় ব্যবসায়ী.

    বর্তমানের বিশ্ব পারস্পরিক নির্ভরশীলতার উপরে ভরসা করে আছে. বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের ফল নিজেদের উপরে যেমন অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিমান দেশেরা, তেমনই দুর্বল দেশেরা টের পেয়েছে. নিকট প্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন, জাপানে বিপর্যয় আবার করে সকলকে মনে করিয়ে দিয়েছে একসাথে সমস্যা গুলিকে সমাধান করার বিষয়ে. বোয়াও সম্মেলনে এই একসাথে সকলের সমস্যার মোকাবিলা করার কথা আবার করে বলা হয়েছে. এখানে সকলকে একসাথে নিয়ে উন্নয়নের কথাই বলা হয়েছে, অর্থাত্ ন্যায় সঙ্গত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্ব কাঠামো তৈরীর কথা বলা হয়েছে, যেখানে বিশ্বের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সংশোধনের কথা রয়েছে. তার মধ্যে নূতন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কেন্দ্র তৈরীর কথাও রয়েছে. কিন্তু এখানে মূল বিষয়টি ছেড়ে দিলে চলবে না, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন:

    "কেউই বিশ্বের উন্নতির থেকে পেছিয়ে বা তার পথের পাশে পড়ে থাকা উচিত নয়. এর অর্থ হল বিশ্বের অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রত্যেকের তার ক্ষমতা বাস্তবায়িত করার মতো খোলা সম্ভাবনা থাকা দরকার. তাই জন্যই বিশেষ গুরুত্ব এখন শিক্ষা, প্রতিভাদের সহায়তা ও কর্মসংস্থান ক্ষেত্রে সক্রিয় সাহায্যের প্রতি দেওয়া হচ্ছে. রাশিয়া একটি সামাজিক রাষ্ট্র বলে, মনে করে নাগরিকদের প্রতি কর্তব্য করাকে প্রাথমিক বলে. আজ আমরা এই সমস্ত প্রশ্নের সমাধান আধুনিকীকরণের মাধ্যমে: বিনিয়োগ ও আধুনিক সংস্থানের সাহায্যে করছি. গুরুত্বপূর্ণ হল জাতির বুদ্ধির উন্নয়ন করাও. আমাদের সমস্যা রয়েছে, আর আমরা তৈরী সেগুলিকে সমাধান করার জন্য. এই প্রসঙ্গে আমরা সম্পূর্ণ ভাবে সহযোগিতার জন্য খোলা এবং আগামী বছরে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার সভাপতিত্বের বছরে চাই এই বিষয়কে প্রধান গুরুত্ব দিতে".

    রাজনীতি ও অর্থনীতির বিষয়ে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা দিয়েই শুধু আমরা এমন করতে পারি যাতে আমাদের অঞ্চল সক্রিয়ভাবে উন্নতি করে, এই কথা উল্লেখ করে চিনের সভাপতি হু জিনটাও এই সম্মেলনে ঘোষণা করেছেন:

    "বড় ও ছোট, ধনী ও দরিদ্র – আমাদের উচিত একে অপরকে সহায়তা করা ও সমর্থন করা, একমাত্র তাহলেই সমস্ত দেশ বর্তমানের অর্থনৈতিক উন্নতির ফলের বাস্তব লাভ বুঝতে পারবে. আর আমাদের দেশগুলির নাগরিকেরা আরও সমৃদ্ধ ভাবে বাঁচতে পারেন. আমাদের উচিত এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করাও, যাতে আমাদের দেশগুলির মধ্যে মতানৈক্য থাকলেও ঠাণ্ডা যুদ্ধের বছর গুলির ধারণা আর আমাদের মধ্যে জাগরিত না হয়. আমাদের নূতন নিরাপত্তা সংক্রান্ত ধারণা নিয়ে প্রচার করা দরকার, যেখানে পারস্পরিক বিশ্বাস, সমতা ও সহযোগিতা থাকবে. আমাদের আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় হল নিরাপত্তা প্রশ্নে একে অপরকে বোঝার ক্ষমতা বৃদ্ধি করা ও সমস্ত তর্কের বিষয়কে একে অপরের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা".

    এই অঞ্চলের দেশ গুলির মধ্যে সহকর্মী সুলভ সম্পর্ককে দৃঢ় করার জন্য, বহু পাক্ষিক ও আঞ্চলিক সংগঠন গুলিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া রাশিয়ার সামনে আর কোনও বিকল্প নেই, এই কথা বিশেষ করে উল্লেখ করে বোয়াও সম্মেলনে দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন:

    "আমাদের আজকের দিনের বিষয়ে এক উজ্জ্বল আঞ্চলিক প্রস্থচ্ছেদ রয়েছে. এটি এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ গুলির জন্য বিশেষ করে বাস্তব, যেখানে আজ খুবই শক্তিশালী সমাকলন প্রক্রিয়া চলছে. আমি বিশ্বাস করি যে, এই উন্নতি সার্বিক হওয়া প্রয়োজন, সমস্ত দেশকেই তা যেন অংশীদার করে. কোন রকমের নতুন বিভাজন রেখা যেন তৈরী না হয়, অর্থনৈতিক ক্ষমতা যেন ভারসাম্য যুক্ত হয়. এই অঞ্চলে একটি পার্থক্য অনুভূত হয়. রাশিয়ার ভবিষ্যত – সাইবেরিয়া ও সুদূর প্রাচ্যের অর্থনীতির আধুনিকীকরণ – যা সর্বাঙ্গীণ ভাবে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার সঙ্গেই যুক্ত. আর আমরা এর সঙ্গে এক অত্যন্ত সাধারন কারণেই যুক্ত – তা হল রাশিয়া নিজেই এই অঞ্চলের দেশ ও তার সর্ব্বোচ্চ উন্নয়নে নিজেই আগ্রহী".

    বর্তমানের সম্মেলনের বৈঠক যথেষ্ট প্রতিনিধিত্ব মূলক হতে পেরেছে – এর প্রতি আগ্রহের বৃদ্ধিতেই তা বোঝা গিয়েছে. রাশিয়া ভবিষ্যতেও সফল ভাবে এই সম্মেলনে অংশ নিতে আগ্রহী, এই কথা উল্লেখ করেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ. আর যে আলোচনা বোয়াও সম্মেলনে শুরু হয়েছে, তা জুন মাসে সেন্ট পিটার্সবার্গের অর্থনৈতিক ফোরামে আমরা চালিয়ে যেতে পারি – বলেছেন রুশ রাষ্ট্রপতি.