পারমানবিক শক্তি ব্রিকস সংগঠনের দেশগুলির ভবিষ্যতের জ্বালানী শক্তি বিষয়ক উত্সের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ তম অঙ্গ থাকবেই. এই বিষয়ে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকার বৈঠক শেষে গৃহীত সম্মিলিত ঘোষণা পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে. এই দেশগুলির নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে উল্লেখ করে বলেছেন যে, পারমানবিক শক্তির বিষয়ে এই ক্ষেত্রে সমস্ত রকমের মান, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বাধ্যতা নির্মাণ, স্থাপন ও ব্যবহারের সময়ে পালন করা অত্যাবশ্যক. এই ভাবেই ভারত ও রাশিয়ার সম্মিলিত উদ্যোগে পারমানবিক শক্তি সম্পর্কে সহযোগিতার বৃদ্ধি হচ্ছে. বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    বলা হয়ে থাকে যে, মানবসমাজ নিজেদের ভুল থেকেই শিক্ষা পায়. সোভিয়েত দেশের চেরনোবিল সমস্যা, জাপানের ফুকুসিমা পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের সমস্যা, বিধ্বংসী ভূমিকম্প ও সুনামির ফল, সবই মানুষকে দুঃখ শোক সহ্য করেও শিক্ষা দিয়েছে. জাপানের পারমানবিক কেন্দ্র পরায় চল্লিশ বছর আগে তৈরী হয়েছিল. কিন্তু গত বছর গুলিতে শান্তিপূর্ণ পারমানবিক শক্তি প্রযুক্তি অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে. বর্তমানের পারমানবিক কেন্দ্র অনেক কম বিপজ্জনক. এই বিষয়ই ব্রিকস সংগঠনের দেশ গুলি তাদের ঘোষণা পত্র রচনার সময়ে লক্ষ্য করেছেন.

    রাশিয়া বহু পারমানবিক কেন্দ্র তৈরী করছে, নিজের দেশের ভিতরে ও একই সঙ্গে ভারতে, তুরস্কে, চিনে, ভিয়েতনামে ও অন্যান্য দেশে. নতুন বিপর্যয় কি এড়ানো সম্ভব বোধহয়, সম্ভব, যদি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় তাহলেও তার সঙ্গে যোগ করা হয় বিগত বছর গুলির অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে. ভারত, সেই সমস্ত দেশের মধ্যে একটি, যার সঙ্গে রাশিয়া শান্তিপূর্ণ পারমানবিক জ্বালানী শক্তি প্রসঙ্গে একসাথে কাজ করছে. আসন্ন ভবিষ্যতে ভারতের কুদানকুলামে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রথম দুটি রুশ রিয়্যাক্টর থেকে ১০০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুত উত্পাদন শুরু হবে. সেই গুলি ভারতের পরিকল্পনা মতো আগামী বছর গুলিতে স্থাপন যোগ্য ১৬টি রিয়্যাক্টরের প্রথম দুটি হতে চলেছে. রাশিয়ার রসঅ্যাটম সংস্থার প্রধান সের্গেই কিরিয়েঙ্কো রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে চিনের হাইনান দ্বীপের সানিয়া শহরে গিয়েছেন ব্রিকস সম্মেলন উপলক্ষে পারমানবিক শক্তি বিষয় নিয়ে অংশ গ্রহণ করতে. তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন:

    "কুদানকুলামে যে প্রকল্প করা হচ্ছে, তা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিষয়ে একেবারেই বিরল. সক্রিয় ও প্রতিক্রিয়াশীল প্রতিরক্ষার এত ধরনের ব্যবস্থা এর আগে অন্য কোথাও ব্যবহার করা হয় নি. নূতন পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলির মধ্যে সবচেয়ে আধুনিক ও নিখুঁত যন্ত্রপাতি এখানে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা এর নিরাপত্তার বিষয়ে গ্যারান্টি হয়েছে".

    "রসঅ্যাটমের" প্রধানের কথামতো, রাশিয়ার বাইরে এটি একমাত্র বিদ্যুত কেন্দ্র, যেখানে স্বাভাবিক ভাবে তাপ নির্গমনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার ফলে জাপানের ফুকুসিমা কেন্দ্রের মতো কোন রকমের পরিস্থিতিই এখানে উদ্ভব হবে না. এখানে হাওয়া দিয়ে তাপ বের করার কথা হচ্ছে. কুদানকুলামে স্থাপন করা রিয়্যাক্টর গুলি শুধু বর্তমানের দাবী অনুযায়ী তৈরী করা হয় নি, বরং ভবিষ্যতের প্রয়োজনের কথা মনে রেখেও করা হয়েছে. সের্গেই কিরিয়েঙ্কো বলেছেন, কুদানকুলাম বিশ্বের একমাত্র পারমানবিক কেন্দ্র হতে চলেছে, যাকে পারমানবিক জ্বালানী শক্তি বিষয়ে ফুকুসিমা পরবর্তী যুগের বলা যেতে পারে.

0     "যদি এমন কোন সামনে কাজ উপস্থিত করা যায় যে, পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রকল্পের সঙ্গে সমস্ত রকমের ধারণা করা যেতে পারে এমন বিপর্যয়ের সম্ভাবনার প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে রয়েছে, তবে তাকে বলা যাবে কুদানকুলাম প্রকল্প, এখানে, ভূমিকম্প, সুনামি, বিদ্যুত বিভ্রাট, জল ও অন্য সব কিছু বিভ্রাট বা গোলযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা রয়েছে".