জাপানের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র "ফুকুসিমা – ১" এর পরিচালক কোম্পানী টেপকো কে সব মিলিয়ে ১৩৩ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য দাবী জানানো হতে পারে. অংশতঃ, প্রতিবেশী দেশ গুলির তরফ থেকেও বিশ্বের মহাসমুদ্রের জলে তেজস্ক্রিয় পদার্থ সমেত জল নিষ্কাশনের জন্য. বুধবারের তথ্য অনুযায়ী ফুকুসিমা রাজ্যের সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে জলের তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপ শুরু করার পর থেকে সবচেয়ে বেশী হয়েছে.

    "ফুকুসিমা – ১" পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের ৩০ কিলোমিটার সামুদ্রিক জলসীমার মধ্যে তেজস্ক্রিয় আয়োডিন – ১৩১ এর পরিমান স্বাভাবিকের চেয়ে ২, ২ গুণ বেশী. গত কুড়ি দিনের মধ্যে এটা সবচেয়ে বেশী. এই প্রসঙ্গে চিন আবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, জাপান সমুদ্রের জলে তেজস্ক্রিয় জল ফেলছে. এই জল দূর্ঘটনা গ্রস্ত কেন্দ্রের রিয়্যাক্টর ঠাণ্ডা করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল. চিন গণ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সভার প্রধানমন্ত্রী ভেন জিয়াবাও জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময়ে দাবী করেছেন, সবচেয়ে গুরুত্ব সহকারে এই ধরনের কাজ প্রতিবেশী দেশ গুলির পরিবেশে কি প্রভাব ফেলতে পারে তা হিসাব করে দেখার.

    সিওলে তেজস্ক্রিয়তা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ হয়েছে. মঙ্গলবারে এখানে রাজধানী পুসান শহরতলির কোরি পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের সার্বিক ভাবে দূর্ঘটনা কালীণ নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণের সময়ে তেজস্ক্রিয়তা দূরীকরণ একটি অন্যতম বিষয় হয়েছিল. এই প্রশিক্ষণে অনেক শত সামরিক বাহিনীর লোকেরা ছাড়াও পুলিশ বাহিনী ও দমকল কর্মীদেরও ডেকে আনা হয়েছিল, যাতে জাপানের মতো কোন রকমের ঘটনা ঘটলে তৈরী থাকা যায়. দক্ষিণ কোরিয়াতে চারটি পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের মোট রিয়্যাক্টর সংখ্যা ২১.

    জাপান, কোরিয়া ও চিন থেকে পাওয়া যে কোন রকমের জিনিসের উপরেই রাশিয়াতে সীমান্ত তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে. প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল অঞ্চলে নিয়মিত জলে স্থলে অন্তরীক্ষে পরীক্ষা করা হচ্ছে ও পরিযায়ী পাখিদের মধ্যে যে গুলি জাপানের দ্বীপ পুঞ্জে শীত কাটিয়েছে, তাদেরও পরীক্ষা করা হচ্ছে ধরে. শিকার বা মাছ ধরা এখনও বন্ধ করা হয় নি, তবে লক্ষ্য করা হচ্ছে সমস্ত রকমের সম্ভাব্য পারমানবিক দূষণের সম্ভাবনা.

    এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাপানের পারমানবিক শক্তি পরিষদ "ফুকুসিমা – ১" থেকে বিপদের সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পারমানবিক ঘটনার সূচক অনুযায়ী সর্ব্বোচ্চ সাত অঙ্কের বলে ঘোষণা করা হয়েছে. যা একমাত্র ২৫ বছর আগের চেরনোবিল দূর্ঘটনার সময়েই দেওয়া হয়েছিল. এর অর্থ হল, রিয়্যাক্টর গুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভীষণ ভাবে, পারমানবিক বিকীরণের ফলে মানুষের স্বাস্থ্যহানি ঘটেছে, পরিবেশ ও মানুষের জন্য বিপজ্জনক পরিমান তেজস্ক্রিয়তা বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে. যদিও বর্তমানে জাপানের পারমানবিক কেন্দ্র থেকে বিকীরণের পরিমান চেরনোবিলের দশ শতাংশেরও কম.আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ পরিষদের প্রতিনিধি ডেনিস ফ্লোরি মঙ্গলবারে ঘোষণা করেছেন যে, ফুকুসিমা ও চেরনোবিলের দূর্ঘটনার প্রকৃতি সম্পূর্ণ আলাদা, তাই এই দুটিকে তুলনা করা চলে না.

    রাশিয়ার রসঅ্যাটম সংস্থার প্রতিনিধি সের্গেই নিকোনভ এই বিষয়ে সন্দিহান হয়ে বলেছেন:

    "প্রথমে জাপানে বিপদ কে খুবই কমিয়ে বলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল, এখন বাড়িয়ে বলার চেষ্টা হচ্ছে. আমাদের ধারণা অনুযায়ী ও আমাদের ফরাসী সহকর্মীরাও তাতে একমত যে, ফুকুসিমাতে তেজস্ক্রিয়তা সংক্রান্ত বিপদকে আন্তর্জাতিক সূচকে ছয়ের বেশী মাত্রা দেওয়া যায় না. দুটি বিষয়ই খারাপ, তেজস্ক্রিয়তা বাড়িয়ে বা কমিয়ে বলার চেষ্টা করা হলে".

    রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, জাপানের পারমানবিক বিশেষজ্ঞরা জনমতের ভয়ে, সম্ভবতঃ বিদেশী চাপের মুখে পড়ে ও সেখানের সংবাদ মাধ্যমের ফুকুসিমা সম্বন্ধে সমস্ত খবর খুলে বলার দাবীকে গণ্য করে ভয়ের চোটে এই বিপদকে সপ্তম মাত্রা দিয়েছেন.