রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি আজ চিনে পৌঁছেছেন, তিনি এখানে দ্রুত উন্নতিশীল দেশগুলির শীর্ষবৈঠকে যোগ দেবেন. এই প্রথমবার বৈঠকে যোগদানকারী দেশগুলি হবে: ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত এবং চিন ছাড়াও সদ্য অন্তর্ভুক্ত দক্ষিণ আফ্রিকা. সংক্ষিপ্ত ভাবে ব্রিক নাম ছিল, তাই এখন নাম হল ব্রিকস (সাউথ আফ্রিকার আদ্যক্ষর এস).

    হাইনান অঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্র সানিয়া শহরে দুই দিন ব্যাপী এই বৈঠকের প্রধান বিষয় হতে চলেছে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সহযোগিতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও আবহাওয়া পরিবর্তনের সমস্যা, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সম্মিলিত ভাবে অবস্থান নির্ণয়. এছাড়া 'পাঁচটি' দেশের নেতারা জাপানকে ভূমিকম্প ও সুনামির ফলে যান্ত্রিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত হওয়ার পরে সাহায্য করা নিয়ে আলোচনা করবেন.

    এই আলোচনার বিষয়ের মধ্যে আরও রয়েছে – উত্তর আফ্রিকা ও নিকট প্রাচ্যের ঘটনা. বিগত কয়েক মাস ধরে এই অঞ্চলই বর্তমানের প্রশাসনের বিরুদ্ধে গণ অভ্যুত্থান ও নিয়তই সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছে. ফলে টিউনিশিয়া ও মিশরে এর মধ্যেই প্রশাসন পরিবর্তন হয়েছে, সিরিয়া ও ইয়েমেনে জনতার প্রতিবাদ সংঘর্ষে পরিনত হয়ে বহু মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে. ব্রিকস সংগঠনের নেতারা পরিকল্পনা করেছেন এই বিষয়ে আলোচনা করে গৃহ যুদ্ধে লিপ্ত লিবিয়া প্রসঙ্গে সম্মিলিত অবস্থান স্থির করবেন. এই বিষয়ে বিশেষ করে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক একাডেমির প্রাচ্য গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রেই ভলোদিন বলেছেন:

    "লিবিয়া বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতির সবচেয়ে বেদনা দায়ক সমস্যা. এই দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা মুখ্য মনোযোগ আরও এই জন্যেই পাবে যে, লিবিয়ার বিরোধের পরে বিশ্বে গোপন ও বাস্তবিক ভাবে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে পারমানবিক অস্ত্রের প্রসার বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে. তাছাড়া খুবই সম্ভব যে, যুদ্ধে লিপ্ত তথাকথিত গাদ্দাফির বিরোধী পক্ষের মধ্যে যারা রয়েছে, তাদের মধ্যে কিছু লোক এর পরে চরমপন্থী ঐস্লামিক রাজনীতির প্রচার চাইবে".

    চারটি দ্রুত উন্নতিশীল দেশের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রের যোগদানের গুরুত্ব উল্লেখ করে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির সহকারী আর্কাদি দ্ভরকোভিচ বলেছেন:

    "এটা প্রতীকী ঘটনা, এর পরে ভৌগলিক প্রসার বাড়ছে, কিন্তু এটা শুধু প্রসারই নয়, এটাকে নতুন মহাদেশের যোগদান বলে মনে করা যেতে পারে, সুতরাং ব্রিকস এবারে এমন সংগঠন, যেখানে চারটি মহাদেশের প্রতিনিধি দেশই রয়েছে লাতিন আমেরিকা, এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশ. পাঁচটি দেশ স্থির করেছে মূল বিষয় গুলি নিয়ে নিজেদের এক সম্মিলিত অবস্থান নির্ণয় করার, যা আগামী কুড়িটি অর্থনৈতিক ভাবে বড় দেশের শীর্ষবৈঠকে করা হবে".

    দ্ভরকোভিচের কথামতো, বর্তমানের বাস্তব দেখিয়েছে যে, যখনই ব্রিকস দেশ গুলি আগে থেকে কোন একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা নিয়ে নিজেদের অবস্থান নির্ণয় করেছে, তখনই "বড় কুড়িটি" দেশের বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত হয়েছে আরও বেশী ভারসাম্য বজায় রেখে.

    এখানে যোগ করবো যে, এই শীর্ষ বৈঠকের আগেই রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি তাঁর দ্বিপাক্ষিক ভাবে চিন, ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার নেতাদের সাথে আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন গুলি সম্বন্ধে মতামত যাচাই করে নেবেন.

শীর্ষবৈঠক ব্রিকস দেশ গুলির নেতাদের সাক্ষাত্কারের একটি ভাল সুযোগ. এই ধরনের সাক্ষাত্কারের মূল্যায়ণ করে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান কেন্দ্রের ভারত গবেষণা বিষয়ে বিভাগীয় প্রধান তাতিয়ানা শাউমিয়ান বলেছেন:

"বর্তমানে ব্রিকস সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত দেশ গুলির মধ্যে বেশী গুরুত্ব পেয়েছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক. তা খুবই সাফল্যের সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে রাশিয়া- ভারত, রাশিয়া- চিন, দক্ষিণ আফ্রিকা- ভারত, ভারত- ব্রাজিলের মধ্যে. এখানে খুবই বাস্তব হয়েছে পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশ্ন গুলি, তার মধ্যে ভারত, ব্রাজিল ও রাশিয়ার বনাঞ্চলের সংরক্ষণ. খুবই সফল ভাবে বেড়ে ওঠা এই সব দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পাঁচ পক্ষের এই কাঠামোতে সহযোগিতার ক্ষেত্রে খুবই ভাল শুরুর জায়গা হতে পারে, যা নিয়ে এই দিন গুলিতে চিনে ব্রিকস দেশ গুলির নেতারা আলোচনা করবেন".